যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছয় পর্বের ছোটগল্প
২৪ আগষ্ট, ২০২৬
পর্ব ছয়
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি
মালবিকা আর এলেন না।
প্রথম দুদিন অনিরুদ্ধ ভেবেছিলেন, শরীর খারাপ। তৃতীয় দিনও যখন বেঞ্চটা খালি রইল, পাশের চায়ের দোকানের ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করলেন।
ছেলেটা বলল,
“বুড়িমা নাকি এখন একা হাঁটতে পারেন না। মেয়ের বাড়ি নিয়ে গেছে।”
এরপর আর কোনো খবর পাওয়া গেল না।
কয়েকদিন পর বেঞ্চটার নিচে একটা ছোট কাপড়ের ব্যাগ পাওয়া গেল। ভেতরে কয়েকটি পুরোনো চিঠি, একটা সাদা-কালো ছবি আর ছোট্ট একটি কাগজ।
তাতে লেখা,
“যে মানুষটা অন্যের চিঠি পৌঁছে দেয়, সে নিজের কথাগুলো যেন হারিয়ে না ফেলে।”
অনিরুদ্ধ কাগজটা অনেকক্ষণ হাতে নিয়ে বসে রইলেন। তারপর সেটি নিজের ড্রয়ারে রেখে দিলেন।
সময়ের সঙ্গে ডাকঘর বদলে গেল। পুরোনো কাঠের টেবিল গেল। নতুন কম্পিউটার এল। চিঠির সংখ্যা কমতে লাগল। মানুষের খবর এখন মোবাইলে আসে। একটি শব্দ লিখলেই অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়।
তবু অনিরুদ্ধের ড্রয়ারে কয়েকটি খাম থেকে গেল।
কোনোটায় মীরার নাম।
কোনোটায় মালবিকার স্বামীর নাম।
কোনোটায় কোনো নামই নেই।
এক শীতের সকালে অবসর নেওয়ার আগে তিনি শেষবার নিজের টেবিলটা গুছাচ্ছিলেন। ড্রয়ারের একেবারে নিচে সেই প্রথম চিঠিটা পেলেন,
“যার কাছে আমার কথা পৌঁছায়নি।”
সাত বছর ধরে তিনি সেটি রেখে দিয়েছিলেন।
চিঠিটা আবার খুললেন। কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে পকেটে রাখলেন।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে চা বানালেন।
অভ্যাসবশত দুটো কাপ বের হয়ে গেল।
একটিতে চা ঢেলে নিজের সামনে রাখলেন। অন্যটিতেও চা ঢাললেন। কাপটা জানালার পাশে রেখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন।
বাইরে শীতের বাতাস। দূরে কোথাও সাইকেলের ঘণ্টা। ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা।
অনিরুদ্ধ ধীরে বললেন,
“মীরা, আজ একটু বসবে?”
কেউ উত্তর দিল না।
তবু তিনি দ্বিতীয় কাপটির দিকে তাকিয়ে রইলেন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।