Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে উঠোনে সবাই বসত

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
39 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,603 পয়েন্ট)   02 অগাস্ট "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

হারিয়ে যাওয়া গ্রামের গল্প

যে উঠোনে সবাই বসতimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী | ০২ আগষ্ট,  ২০২৬


গ্রামের উঠোন আজও আছে, শুধু সেখানে মানুষের বসা কমে গেছে।


একটা সময় ছিল, সন্ধ্যা নামলেই উঠোন যেন নতুন করে জেগে উঠত। কারও হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ, কেউ এক বাটি মুড়ি নিয়ে বসেছেন, কেউ সারাদিনের মাঠের কাজের গল্প করছেন। পাশের বাড়ির মানুষও কোনো নিমন্ত্রণ ছাড়াই এসে বসে পড়তেন। কে ডাকল, কে ডাকল না—এসব নিয়ে কেউ ভাবতেন না। গ্রামের উঠোন ছিল সবার জন্য খোলা একটি আপন জায়গা।


সন্ধ্যা গড়াত, আর উঠোন ভরে উঠত মানুষের কোলাহলে। ছোটরা দৌড়ে বেড়াত, বড়রা গল্পে মেতে উঠতেন। কেউ পুরোনো দিনের স্মৃতি বলতেন, কেউ ফসলের খবর, কেউ বাজারের গল্প। কখনো এমন হাসির রোল উঠত যে পাশের বাড়ির মানুষও কৌতূহল নিয়ে তাকাতেন। তখন গল্প করার জন্য আলাদা কোনো কারণের প্রয়োজন হতো না। মানুষই ছিল মানুষের সবচেয়ে বড় সঙ্গ।


শীতের রাতে সেই উঠোনেই আগুন পোহানোর আসর বসত। গরমের রাতে খাট পেতে আকাশভরা তারা দেখা হতো। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিরক্তির বদলে গল্পই আরও জমে উঠত। সারাদিনের ক্লান্তি যেন সেই উঠোনেই এসে হালকা হয়ে যেত।


আজও উঠোন আছে, কিন্তু তার ব্যবহার বদলে গেছে। সন্ধ্যা হলেই অনেক বাড়ির দরজা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরাও প্রায়ই আলাদা আলাদা পর্দার সামনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একই ছাদের নিচে থেকেও একসঙ্গে বসে গল্প করার সময় যেন ক্রমেই কমে যাচ্ছে।


এর জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে পুরো সত্য বলা হবে না। মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে, ব্যস্ততা বেড়েছে, কাজের চাপ বেড়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ভিড়ে আমরা ধীরে ধীরে হারিয়েছি একসঙ্গে বসে কথা বলার অভ্যাস। আগে প্রতিবেশীর সুখ-দুঃখ সবার জানা ছিল। এখন অনেক সময় পাশের বাড়ির মানুষের খোঁজও মাসের পর মাস জানা হয় না।


অথচ গ্রামের উঠোন ছিল শুধু ইট-মাটির একটি খোলা জায়গা নয়। এখানেই বড়রা ছোটদের জীবন চিনতে শেখাতেন। এখানেই গ্রামের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতো, বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক হতো, ঝগড়ার মীমাংসা হতো, উৎসবের পরিকল্পনাও তৈরি হতো। একটি উঠোন অনেক সময় পুরো গ্রামের সামাজিক বন্ধনকে ধরে রাখত।


আজকের শিশুরা আধুনিক বাড়ি দেখছে, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, কিন্তু উঠোনভরা সেই সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা তাদের নেই। তারা হয়তো জানেই না, একসঙ্গে বসে গল্প করার মধ্যেও কত আনন্দ, কত শিক্ষা আর কত সম্পর্ক লুকিয়ে থাকে। মানুষের কাছাকাছি আসার প্রথম পাঠ অনেকেই শিখত এই উঠোনেই।


তবু আশার আলো পুরোপুরি নিভে যায়নি। এখনো অনেক গ্রামে সন্ধ্যা হলে কয়েকজন মানুষ উঠোনে বসেন। কেউ চা খান, কেউ গল্প করেন, কেউ নীরবে অন্যের কথা শোনেন। এমন দৃশ্য দেখলে মনে হয়, গ্রামের প্রাণ এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।


এই সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে খুব বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন নেই।


প্রথমত, নিয়ম করে একসঙ্গে বসার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে অন্তত একদিন পরিবারের সবাই উঠোনে বা বারান্দায় কিছু সময় কাটাতে পারেন। সেই সময়টুকু মোবাইল থেকে দূরে রেখে শুধু গল্প করলেই সম্পর্কের অনেক দূরত্ব কমে আসে।


দ্বিতীয়ত, উঠোনকে আবার মানুষের বসার উপযোগী করে তুলতে হবে। একটি মাদুর, কয়েকটি চেয়ার, পর্যাপ্ত আলো আর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ—এই সামান্য আয়োজনই মানুষকে একসঙ্গে বসতে উৎসাহিত করতে পারে।


তৃতীয়ত, প্রতিবেশীর সঙ্গে সহজ যোগাযোগের অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে হবে। কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়াই খোঁজ নেওয়া, কিছুক্ষণ গল্প করা কিংবা এক কাপ চা ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয়। মানুষের সেই শূন্যতা কোনো প্রযুক্তিই পূরণ করতে পারে না।


হয়তো আগের মতো প্রতিটি উঠোন আর প্রতিদিন মানুষে ভরে উঠবে না। তবু যদি কোনো এক সন্ধ্যায় দেখি কয়েকজন মানুষ গল্পে মগ্ন, উঠোনজুড়ে শিশুরা খেলছে, আর পাশের বাড়ির কেউ নিঃসংকোচে এসে বসে পড়েছেন, তাহলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হবে—গ্রামের সেই পুরোনো উঠোন এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। হয়তো সে শুধু আমাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1366 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27603। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4548
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
আমরা সবাই কি ভিতরে ভিতরে রোমান্টিক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন নিবন্ধ। এপ্রিল ০৩, ২০২৬ আ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
466 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে স্বাদ এড়ানোর উপায় নেই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
31 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে দরজাগুলো সন্তানের নিজেরই খুলতে হয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
31 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ইতিহাস থেকে যে ধর্মের অর্ধেক হারিয়ে গেছে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১ সে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
41 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে শূন্যতা ভেতরে আলো জ্বালে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ২৪ আগস্ট ২০২৬ “ন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1504 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    74 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    350 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...