Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প ৭ -শেষবারের মতো

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,905 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল

গল্প ৭ -শেষবারের মতোimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প । ১০ আগষ্ট, ২০২৬


শেষবার যখন নিজের জন্য কিছু কিনেছিল, নিশি তখনও জানত না সেটাই নিজের জন্য তার শেষ আনন্দ হয়ে থাকবে।


জিনিসটা খুব দামি ছিল না। ছোট্ট একটা কালো ডিজিটাল ক্যামেরা। খুব সাধারণ মডেল। সেদিন দোকান থেকে বের হওয়ার সময় নিশির মুখে যে হাসিটা ছিল, অভিক অনেকদিন মনে রেখেছিল।


বাসায় ফিরে ব্যাগ থেকে ক্যামেরাটা বের করে নিশি বলেছিল, "এবার থেকে আমরা যেখানে যাব, সব ছবি তুলে রাখব। মেঘের ছোটবেলা, পরে মিশি হলে তারও।"


অভিক হেসে বলেছিল, "তুমি তো পুরো ক্যামেরাম্যান হয়ে গেলে।"


নিশি বলেছিল, "নিজের জীবনের ছবি নিজের হাতেই রাখতে হয়।"


তখন কথাটা খুব সাধারণ মনে হয়েছিল।


তারপর আস্তে আস্তে সব বদলে গেল। মেঘ বড় হলো। সংসারে নতুন খরচ এল। মিশি জন্মাল। স্কুল, ডাক্তার, কোচিং, বাজার, বাড়ি ভাড়া— একটার পর একটা প্রয়োজন এসে দাঁড়াতে লাগল। ক্যামেরাটা প্রথমে আলমারির ড্রয়ারে গেল, তারপর একটা কাপড়ের ব্যাগে।


মাঝে মাঝে নিশি ব্যাগটার দিকে তাকাত। ভাবত, কোথাও ঘুরতে গেলে সঙ্গে নেবে।


একবার অভিক বলেছিল, "চলো, দুদিনের জন্য কোথাও ঘুরে আসি।"


নিশি তখন মেঘের পরীক্ষার কথা ভেবে বলেছিল, "ওর পরীক্ষাটা শেষ হোক।"


পরীক্ষা শেষ হলো। তারপর মিশির জ্বর। তারপর বাড়ির একটা জরুরি খরচ। তারপর অভিকের অফিসের চাপ।


যাওয়া আর হলো না।


এভাবেই ক্যামেরাটা পড়ে রইল।


বছর কয়েক পর একদিন আলমারি গোছাতে গিয়ে নিশি সেটা আবার হাতে পেল। ধুলো জমেছে। কালো রঙটা ফ্যাকাশে লাগছে। হাতে নিয়ে ধুলো মুছতে মুছতে মনে হলো, ক্যামেরার চেয়ে বেশি বদলে গেছে সে নিজে।


ব্যাটারিতে চার্জ ছিল না। তবু মেমোরি কার্ডটা খুলে দেখতে ইচ্ছে করল।


অভিক ল্যাপটপে কার্ডটা লাগিয়ে দিল।


একটার পর একটা ছবি ভেসে উঠতে লাগল।


মেঘের প্রথম স্কুল ড্রেস পরা ছবি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অভিক আর নিশি। এক বিকেলের বৃষ্টিতে ভেজা জানালা। মিশি তখনও জন্মায়নি।


একটা ছবিতে নিশি হেসে আছে। চুল খোলা, চোখে কোনো ক্লান্তি নেই, কপালে ভাঁজ নেই। হাতে সেই ক্যামেরাটা। ছবিটা কে তুলেছিল, মনে নেই।


অনেকক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল নিশি।


মেঘ পাশ থেকে হেসে বলল, "এই মেয়েটা কে?"


নিশিও হাসল। বলল, "আমি।"


মেঘ অবাক হয়ে বলল, "তুমি এত অন্যরকম ছিলে?"


নিশি উত্তর দিল না। সে জানে, মেয়েটা অন্য কেউ নয়। এই মেয়েটাই সে ছিল। শুধু এত বছরের সংসারের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে সেই মানুষটার মুখ কোথাও চাপা পড়ে গেছে।


সেদিন রাতে ক্যামেরাটা আবার হাতে নিল সে। মনে হলো, সে কোনো পুরোনো জিনিস হাতে নেয়নি, নিজেরই একটা পুরোনো বয়স হাতে নিয়েছে। ওই ছোট কালো বাক্সটার ভেতর আটকে আছে একটা জীবন, যে জীবন তখনও জানত না কত কিছু একদিন 'পরে' হয়ে যাবে।


বই পড়া পরে।

ঘুরতে যাওয়া পরে।

নিজের জন্য কেনাকাটা পরে।

বন্ধুদের সঙ্গে দেখা পরে।

নিজের জন্য একটু সময়— সেটাও পরে।


কিন্তু জীবন 'পরে' শব্দটা বোঝে না। জীবন শুধু এগিয়ে যায়।


কয়েকদিন পর নিশি বাজারে গিয়ে নিজের জন্য একটা ছোট বই কিনল। খুব দামি নয়, মলাটে হালকা নীল রঙ। দোকান থেকে বের হওয়ার সময় বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি হলো। মনে হলো, অনেক বছর পর সে নিজের কাছে ফিরে আসছে।


বাড়ি ফিরে বইটা আলমারিতে তুলে রাখল না। বারান্দার ছোট টেবিলের ওপর রাখল। সন্ধ্যায় চা নিয়ে সেখানে বসল। প্রথম পাতা খুলল। ক্যামেরাটা পাশেই পড়ে ছিল।


বই পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে ক্যামেরাটার দিকে তাকাচ্ছিল সে। মনে হচ্ছিল, জীবনের কিছু আনন্দ সত্যিই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সব শেষ আনন্দের পর জীবন ফুরিয়ে যায় না।


কখনো কখনো একটা পুরোনো জিনিস আমাদের শুধু মনে করিয়ে দেয় আমরা একসময় কে ছিলাম। আর সেই মনে পড়াটা যদি বুকের ভেতর এখনও একটু আলো জ্বালাতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে মানুষটা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।


সেদিন বিকেলে নিশি ক্যামেরাটা তুলে একটা ছবি তুলল। বারান্দায় বসে থাকা নিজের। আলো এসে পড়েছে টেবিলে, পাশে চায়ের কাপ, হাতে বই।


ছবিটা খুব সাধারণ হলো।


তবু অনেক বছর পর নিজের জন্য তোলা সেই ছবিটা দেখে নিশি মৃদু হাসল।


শেষবারের মতো নয়। এবার থেকে আবার।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1233 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24905। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4657
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৩   শেষবারের মতো দুঃখিত   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৭ দেয়ালের ওপাশে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৭   অপরাধবোধের শিকল   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯ জুন, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৭ -সন্ধ্যার আগুন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, ২০২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৭ : ঈদের দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ সবাই যখন নতুন কা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1071 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    53 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    902 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    344 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...