যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছয় পর্বের ছোটগল্প
২৪ আগষ্ট, ২০২৬
পর্ব পাঁচ
নিজের কাছে লেখা চিঠি
সেদিন রাতে অনিরুদ্ধ ঘুমালেন না।
মীরার নীল খাতাটা টেবিলে। পাশে সাদা কাগজ। অনেকক্ষণ পর তিনি কলম হাতে নিলেন।
লিখলেন,
প্রিয় মীরা,
তারপর থেমে গেলেন।
কী লিখবেন?
“কেমন আছ?”
এটা অর্থহীন।
“আমাকে ক্ষমা করো।”
এটা খুব সহজ।
তিনি আবার লিখলেন,
“সেদিন তুমি বলেছিলে, একটা কথা আছে।
আমি শুনিনি।
আমি ভেবেছিলাম, রাতটা তো আছেই।
তারপর সকাল হলো।
তুমি ছিলে না।
এই সাত বছরে আমি অনেকবার ভেবেছি, তুমি কী বলতে চেয়েছিলে।
এখন আর জানতে চাই না।
হয়তো তুমি বলতে চেয়েছিলে খুব সাধারণ কোনো কথা। হয়তো বলতে চেয়েছিলে, কাল সকালে বাজার থেকে আলু আনতে। হয়তো বলতে চেয়েছিলে, মেয়েটাকে ফোন করতে। হয়তো বলতে চেয়েছিলে, আমার পাশে একটু বসো।
কথাটা যত ছোটই হোক, আজ মনে হয়—আমার শোনা উচিত ছিল।
আমি শুনিনি।
এই ভুলের কোনো ক্ষমা হয় না। তবু তুমি আমাকে ক্ষমা করেছ কি না, জানি না।”
অনিরুদ্ধ কিছুক্ষণ জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলেন। তারপর লিখলেন,
“তোমার যাওয়ার পর আমি বুঝেছি, মানুষকে ভালোবাসা আর মানুষটির সঙ্গে থাকা এক জিনিস নয়।
ভালোবাসা অনেক পরে বোঝা যায়। যখন কেউ আর দরজা খুলে বলে না, ‘এলে?’ যখন চা বানাতে গিয়ে দ্বিতীয় কাপটা হাতে উঠে আসে। যখন কোনো খবর শুনে মনে হয়, তোমাকে বলি—তারপর মনে পড়ে, তোমাকে বলা যাবে না।
তখন বোঝা যায়, একজন মানুষ আসলে কতখানি জায়গা নিয়ে ছিল।”
শেষে লিখলেন,
“তুমি যদি কোথাও থাকো, আমার কাছে তোমার কোনো উত্তর চাই না।
শুধু এইটুকু জেনে রেখো,
এবার তুমি কথা বললে আমি শুনব।”
অনিরুদ্ধ চিঠিটা ভাঁজ করলেন।
খামের ওপর লিখলেন,
“মীরার কাছে।”
তারপর ঠিকানা লেখার জায়গাটা খালি রেখে দিলেন।
পরদিন ভোরে ডাকঘর খোলার আগে তিনি নিজের চিঠিটা নিয়ে দাঁড়ালেন। কয়েক মুহূর্ত পর সেটি ডাকবাক্সে ফেলে দিলেন।
চিঠিটি কোথাও যাবে না।
তিনি জানেন।
তবু ফেলার পর বুকের ভেতর একটা দীর্ঘদিনের টান যেন একটু আলগা হলো।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।