Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিশি উপাখ্যান সিরিজ গল্প-৩ শেষবারের মতো দুঃখিত

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,428 পয়েন্ট)   9 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিশি উপাখ্যান সিরিজ  

গল্প-৩  

শেষবারের মতো দুঃখিত  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

২৯, জুন, ২০২৬


ঝগড়ার পর সব সময় একই মানুষটা আগে ফোন করত—দুঃখিত। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, অনেক সময় অভিক জানত, দোষটা তার ছিল না। তবুও সে বলত। কারণ তার মনে হতো, একটা ছোট্ট "সরি" হয়তো একটা সম্পর্ককে ভেঙে যাওয়া থেকে বাঁচাতে পারে।


প্রথম দিকে নিশিও বলত, 

“আমিও হয়তো একটু বেশি রেগে গিয়েছিলাম।” 

এই কথাটুকুই অভিকের জন্য যথেষ্ট ছিল। সে ভাবত, মানুষটা বুঝতে পারছে। কিন্তু ধীরে ধীরে কিছু একটা বদলে গেল। ঝগড়া হতো। নিশি কষ্ট পেত। নিশি চুপ করে যেত। আর অভিক ভাবত, কীভাবে আবার সব ঠিক করা যায়।


এক সময় এমন হয়ে গেল, ভুল যারই হোক, কথার শেষে "দুঃখিত" শব্দটা শুধু অভিকের মুখ থেকেই আসত। এক রাতে খুব ছোট একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা হলো। 

নিশি বলেছিল, 

“তুমি কখনো আমার কথা বোঝার চেষ্টা করো না।” অভিক অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলেছিল, “সরি।” নিশি কোনো উত্তর দেয়নি।


পরদিন সকালে আবার অভিকই বলেছিল, 

“কালকের বিষয়টা নিয়ে আর মন খারাপ করে থেকো না।” 

নিশি শুধু বলেছিল, 

“তুমি সব সময় সরি বলো। কিন্তু বদলাও না।” 

অভিক চুপ করে গিয়েছিল। কারণ সে সত্যিই জানত না, তাকে ঠিক কোন জায়গায় বদলাতে হবে।


দিন যেতে লাগল। এক সময় সে নিজের কথাও মেপে বলতে শুরু করল। 

কিছু বলার আগে ভাবত—

"এটা বললে কি আবার ঝগড়া হবে?

 আবার কি আমাকেই ক্ষমা চাইতে হবে? 

চুপ থাকলেই কি ভালো?" 

ধীরে ধীরে সে কথা কমিয়ে দিল। শান্তি রাখার জন্য। কিন্তু সেই শান্তির ভেতরেই কোথায় যেন নিজের একটা অংশ হারিয়ে যাচ্ছিল।


একদিন বন্ধু রাহাত বলল, 

“তুই আগের মতো নেই কেন?” 

অভিক হেসে বলেছিল, “কিছু না।” কিন্তু সে জানত, কিছু একটা বদলে গেছে। আগে সে ঝগড়ার পর সম্পর্ক ঠিক করতে চাইত। এখন সে শুধু ঝগড়া এড়াতে চাইত।


এক সন্ধ্যায় আবার একই ঘটনা ঘটল। একটা সাধারণ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি। নিশি রাগ করে অন্য ঘরে চলে গেল। অভিক আগের মতো ফোন হাতে নিল না। লিখল না—"সরি।" 


সেই রাতে প্রথমবার সে নিজেকে প্রশ্ন করল—প্রতিবার ক্ষমা চেয়ে কি সে সম্পর্ক বাঁচাচ্ছে? 

নাকি ধীরে ধীরে নিজেকেই হারিয়ে ফেলছে?


পরদিন সকালে নিশি অবাক হয়ে বলল, 

“কালকের জন্য কিছু বলবে না?” 

অভিক শান্তভাবে তাকাল। “কী বলব?” 

“মানে?” 

অভিক একটু থেমে বলল, 

“আগে হলে আমি দুঃখিত বলতাম। কিন্তু এবার আগে বুঝতে চাই, আসলে সমস্যাটা কোথায়।”


নিশি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। 

“তুমি কি তাহলে আর চেষ্টা করবে না?” 

অভিক মাথা নাড়ল। “করব। 


কিন্তু শুধু ক্ষমা চেয়ে না। নিজেকে ছোট করে না। 

সব সময় নিজেকেই দোষী বানিয়ে না।” 

এই প্রথমবার নিশি বুঝল, অভিকের "সরি" বলা বন্ধ হওয়া মানে ভালোবাসা কমে যাওয়া নয়। 

হয়তো সে প্রথমবার নিজের অস্তিত্বটাকে আবার খুঁজে দেখছে।


কয়েক দিন পর তারা বসে কথা বলল। অভিক বলল, “আমি ভুল করলে অবশ্যই ক্ষমা চাইব। কিন্তু একটা সম্পর্কের সব সমস্যার শেষে যদি শুধু একজনই দোষী হয়, তাহলে সেটা ঠিক সম্পর্কের মতো থাকে না।” 


নিশি অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলল, “আমি হয়তো অভ্যাস করে ফেলেছিলাম, তুমি সব ঠিক করে দেবে।” অভিক হালকা হাসল। “আর আমি অভ্যাস করে ফেলেছিলাম, সব দোষ নিজের ওপর নেব।”


সেদিন দুজনেই বুঝল, ভালোবাসা মানে একজন সব সময় নিচু হয়ে থাকবে আর অন্যজন সব সময় জিতে যাবে—এটা নয়। ভালোবাসা মানে দুজন মানুষই নিজের ভুলের সামনে দাঁড়াতে পারা।


কিছুদিন পর আবার ছোট একটা ভুল হলো। 

নিশি বলল, 

“আমার কথাটা হয়তো একটু বেশি কঠিন হয়ে গেছে।” 

অভিক কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, 

“আমারও হয়তো তোমার কথা আরও ভালো করে শোনা দরকার ছিল।” 

সেদিন কেউ "সরি" বলল না। কারণ শুধু ক্ষমা চাওয়ার চেয়ে বড় কিছু দরকার ছিল। বোঝাপড়া।


অভিকের বুকের ভেতর বহুদিন পর শ্বাস নিতে একটু সহজ লাগল। কারণ এইবার দোষের বাটখারা শুধু তার হাতে ছিল না। 


নিশি নিজের কথার দায় নিচ্ছে। অভিকও নিজের ভুলের জায়গাটা দেখছে। সম্পর্কে সব সময় একজন ক্ষমা চাইবে আর অন্যজন শুধু গ্রহণ করবে—এটা ভালোবাসা নয়।



দুজন মানুষই যখন নিজের অংশটুকু স্বীকার করতে পারে, তখনই সম্পর্ক আবার সমান জায়গায় দাঁড়ায়। অনেক দিন পর অভিক মনে মনে বলল—এটাই ছিল তার শেষবারের মতো দুঃখিত বলা। এরপর থেকে সে ভুল হলে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু শুধু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের আত্মসম্মান ভেঙে নয়।


কারণ ভালোবাসা এমন কোনো জায়গা নয়, যেখানে একজন মানুষ প্রতিদিন একটু একটু করে হারিয়ে যাবে। যে সম্পর্ক বাঁচাতে গিয়ে মানুষ নিজেকেই হারিয়ে ফেলে, 


একদিন সেই সম্পর্কের কাছেই একটা প্রশ্ন রেখে যেতে হয়—

"আমরা কি সত্যিই একসঙ্গে ছিলাম, নাকি শুধু একজন আরেকজনকে ধরে রেখেছিলাম?"

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1061 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21428। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4167
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-১০   একাকীত্বের শান্তি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   যেদ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৯   হাসিটা কোথায় হারাল    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৮   শেষ সুযোগ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জুন, ২০২৬ “[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৭   অপরাধবোধের শিকল   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯ জুন, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৬   বন্ধ দরজার মানুষ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯ জুন,২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    105 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    666 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    33 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    230 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

...