Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-১ -জলছায়ার ঠিকানা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,177 পয়েন্ট)   26 জুলাই "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন

গল্প-১ -জলছায়ার ঠিকানা

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

২৬ জুলাই, ২০২৬


নদীই তাদের ঠিকানা, অথচ কোনো মানচিত্রে সেই বাড়ির নাম লেখা থাকে না।


ভোরের মেটে আলো তখনও ভালো করে ফোটেনি। পদ্মার শাখা নদীটার পাড়ে এসে যখন দাঁড়ালাম, চারদিক এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। হালকা কুয়াশার চাদর সরতেই চোখে পড়ল নদীর বুকে সার বেঁধে নোঙর করে রাখা এক ঝাঁক কাঠের নৌকা। কোনোটার মাথায় বাঁশের ছই, কোনোটা আবার প্লাস্টিক আর ছেঁড়া ত্রিপলে ঢাকা। এটাই বেদে বহর — জলের ওপর ভেসে থাকা এক অন্য জগৎ।


কাদা মাড়িয়ে ঘাটের কাছে যেতেই চোখে পড়ল এক অন্য রকম ব্যস্ততা। শহরের মানুষ যখন নরম বিছানায় শেষ ঘুমের ওমে জড়িয়ে আছে, তখন নদীর বুক ঘেঁষে এই মানুষগুলো জীবনের লড়াই শুরু করে দিয়েছে। কাঠের নৌকার খোলে পিটপিট করে জ্বলছে ছোট্ট মাটির উনুন। শুকনো ডালপালা আর তুষের ধোঁয়ায় ভারী হয়ে আছে বাতাস। তার মধ্যেই ভেসে আসছে ফুটন্ত ভাতের মিষ্টি গন্ধ। এক কিশোরী এক হাতে নৌকার গলুই ধরে অন্য হাতে অবলীলায় হাঁড়ি থেকে ফ্যান গালছে। তার চলাফেরায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই, আছে শুধু দীর্ঘদিনের অভ্যাস।


এখানে নৌকাতেই রান্না, নৌকাতেই ঘুম, নৌকাতেই সংসার। সবটুকু জীবন এক চিলতে কাঠের কাঠামোর মধ্যে আটকে আছে।


পাশের বড় ছইওয়ালা নৌকা থেকে বেরিয়ে এলেন কাশফুলের মতো সাদা চুল-দাড়ির এক বৃদ্ধ। নাম কাসেম বহরদার। মুখে বয়সের অজস্র ভাঁজ, কিন্তু চোখ দুটো নদীর জলের মতোই গভীর আর শান্ত।


আমার হাতে এক কাপ গরম চা ধরিয়ে দিয়ে হেসে বললেন, "কী দেখো বাপু? আমাদের ঘরবাড়ি দেখো? ওই যে নীল আকাশ আর নিচে বয়ে যাওয়া জল — এই তো আমাদের চাদর আর তোশক। ডাঙার মানুষ মাটি আঁকড়ে বাঁচতে চায়, আর আমরা বাঁচি জলের দয়ায়।"


কথা বলতে বলতেই কুয়াশা কেটে গিয়ে রোদ এসে পড়ল নদীর জলে। সোনালি আলোয় মুহূর্তে বদলে গেল চারপাশের রূপ। ছইয়ের ওপর শুকোতে দেওয়া রঙিন শাড়ি আর লুঙ্গিগুলো হাওয়ায় দুলছে। পাশেই একদল ছোট ছেলেমেয়ে টলটলে জলে হাত-পা ছুড়ে সাঁতার কাটছে। মনে হলো, জলই তাদের আশ্রয়। এখানেই তাদের জন্ম, এখানেই তাদের বেড়ে ওঠা।


এই বহরের মানুষগুলোর সঙ্গে নদীর সম্পর্কটা শুধু জীবিকার নয়, এক গভীর আত্মার টান। জল কখন রং বদলায়, নদীতে কখন টান ধরে, মেঘের রং দেখে কখন ঝড় আসবে — এসব বুঝতে তাদের কোনো যন্ত্র লাগে না। নদীর স্পন্দন তারা বুকের ভেতরেই টের পায়। নদীর জল শুকিয়ে গেলে তাদের জীবনের গতিও থমকে যায়, নদী শান্ত থাকলে তাদের মুখেও ফোটে নিশ্চিন্ত হাসি।


তবে এই ভেসে থাকা জীবনেও মেঘের মতো জমাট বেঁধে থাকে কষ্ট। কাসেম বহরদারের কথায় সেই কষ্টের কথাই উঠে এল। আধুনিক সময়ের ছোঁয়ায় বেদেদের সেই পুরোনো শিকড়-বাকড়, তাবিজ বিক্রি বা সাপ খেলার কদর এখন আর আগের মতো নেই। গ্রাম-শহরের মানুষ এখন তাদের এড়িয়ে চলে। তাই দিন এনে দিন খাওয়া এই মানুষগুলোর সংসার চালানোই এখন বড় কঠিন হয়ে পড়েছে।


স্থায়ী ঠিকানা না থাকলেও এদের বুকে স্বপ্নের কোনো কমতি নেই। ভাঙা নৌকার ছইয়ের নিচে বসে যে শিশুটি ডাঙা থেকে ভেসে আসা স্কুলের ঘণ্টা শোনে, তার চোখেও এক সুন্দর ভবিষ্যতের ছবি ভাসে। সে হয়তো আর সাপ নিয়ে খেলবে না, রঙিন কাগজের বই হাতে কোনো এক সকালে স্কুলে যাবে। কাসেম বহরদারের ছেলে রহমত যেমন বলছিল, "আমরা না হয় জলেই জীবন কাটাইয়া দিলাম, কিন্তু আমাদের পোলাপানগো তো একটা ডাঙার ঘর দরকার। এক জায়গায় থাইকা অন্তত একটা ইস্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ তো ওরা পাইতে পারে।"


এই অনিশ্চিত জল-জীবনের মাঝেও তাদের উৎসব আছে, আছে নিজেদের মতো আনন্দ-বেদনার গল্প। সকাল গড়িয়ে দুপুর হওয়ার আগেই বহরের তরুণেরা জাল গুটিয়ে তৈরি হয়ে নেয়, মেয়েরা সাজিয়ে নেয় শিকড় আর পুঁতির মালার ডালা। জীবিকার টানে তারা ছড়িয়ে পড়ে কাছের গ্রামগুলোতে। আবার গোধূলি নামলে সবাই ফিরে আসে এই একই ঘাটে, একসঙ্গে বসে নৌকার ছইয়ের ওপর, উনুনে ফুটতে থাকে রাতের ভাত।


বেলা বাড়ে। নদীর জল রোদে ঝিকমিক করে। তীরে দাঁড়িয়ে বিদায় নেওয়ার সময় হঠাৎ মনে হলো, আমরা যারা ইটের খাঁচায় স্থায়ী ঠিকানার খোঁজে সারা জীবন দৌড়ে বেড়াই, তারা হয়তো শান্তির আসল মানেটাই বুঝি না। বেদেদের কোনো মানচিত্র নেই, জমির দলিল নেই, কিন্তু বিশাল নদীর মতো উদার একটা বুক আছে তাদের। সেখানে কোনো কৃত্রিমতা নেই, আছে শুধু স্রোতের মতো বাঁধভাঙা বেঁচে থাকার আনন্দ।image

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1197 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24177। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4424
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-১০ -আবার দেখা হবে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৯ -বিদায়ের মুহূর্ত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৭ -সন্ধ্যার আগুন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, ২০২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৬-হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৫-এক মায়ের নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    343 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...