আলো-আঁধারি
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা। ডিসেম্বট ২৭,২০২৫
বছর সাতেক পর তোমাকে দেখলাম।
কোনো এক ফুলের দোকানে ফুল
কিনতে তুমি এসেছ।
প্রথম দেখাতে তুমি চিনতে পারোনি,
তাই আমিই তোমার সামনে গেলাম।
আমাকে দেখার বিস্ময়ের ঘোর কেটে
যেতেই তুমি বললে,
"কেমন আছো তুমি?"
আরও নানা প্রশ্নের তীর ছুঁড়ে দিলে আমার দিকে।
সেই প্রথম দেখার সময়টি মনে করতেই লজ্জায় কেমন যেন লাল হয়ে গেলে তুমি।
অত্যন্ত সযত্নে নিজেকে সামলে বললে,
একটু সামনেই আমার বাড়ি, "এসো"।
আমি কেবল তোমাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে চলে গেলাম তোমার বসবার ঘরে।
নিজেকে বড়ই বেমানান লাগছিল তোমার বিশাল ড্রইংরুমে।
পা ডুবে যাওয়া কার্পেট যেন আরও অনেক কিছুই বুঝিয়ে দিল।
ডিসটেম্পার করা দেওয়ালে তিনটা ফ্যামিলি ছবির ফ্রেম অনায়াসে বলে দিল তোমার সুখের কথা।
কখনো পাতায়া সমুদ্রে,
কখনো তাজমহলের সামনে,
কখনো হিমালয়ের পাদদেশে।
আমি দেখছিলাম,
যেমন করে কোনো সাধারণ দর্শক কোনো চিত্রশালার পেইন্টিংকে দেখে থাকে।
আবারও কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন ছুঁড়ে
দিয়ে সামনে এসে বসলে,
যার উত্তর হয়তো তুমি মন থেকে শুনতেও চাওনি।
তবে কার্পেটের মতো তোমার ঘুমহীন চোখও যেন বলে যাচ্ছিল না বলা অনেক কথা।
তবুও তুমি ব্যস্ত গৃহিণীর সুখের অভিনয়টা দারুণ করলে যার কোনো সংলাপ ছিল না।
দিনের আকাশে যেমন চাঁদের অস্তিত্ব
খোঁজার চেষ্টা যে বৃথা,
তেমনি হয়তো তোমার সম্পর্কে বর্তমানের অবস্থা জানাটাও বৃথা।
তোমার কথা হয়তো তুমি কোনোদিন
বলবে না আমায়।
তবুও তুমি আজও আমার জীবনে
আলো-আঁধারি হয়েই রয়ে গেলে।
#বাংলাকবিতা #গদ্যকবিতা #আলোআঁধারি #প্রেমেরকবিতা #বিচ্ছেদ #মোহাম্মদজাহিদহোসেন #বাংলাসাহিত্য #অনুভূতি #নস্টালজিয়া #ভালোবাসা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।