Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

একটি সিদ্ধান্তের দাম পর্ব–৫ : যে সিদ্ধান্ত জীবন বদলে দিল (সমাপ্তি)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,713 পয়েন্ট)   3 ঘন্টা পূর্বে "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

একটি সিদ্ধান্তের দাম  

পর্ব–৫ : যে সিদ্ধান্ত জীবন বদলে দিল (সমাপ্তি)  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ধারাবাহিক গল্প


আদালতের নোটিশটা টেবিলের ওপরই পড়ে রইল।


সারারাত কেউ ওটা ধরেনি।


ভোরে নিশি উঠে দেখল, অভিক বারান্দায়। হাতে চায়ের কাপ। ঠান্ডা হয়ে গেছে, এক চুমুকও দেয়নি।


নিশি পাশে দাঁড়াল। “কী ভাবছ?”


অভিক অনেকক্ষণ পর বলল, “একটা ভুল করতে আমার পাঁচ মিনিট লেগেছিল। এখন মনে হচ্ছে, সেই পাঁচ মিনিটের হিসাব দিতে হয়তো পাঁচ বছর লাগবে। লাগতেও পারে।”


নিশি উত্তর দিল না।


কিছু কথার জবাব নীরবতাই। সেটা সে শিখে গেছে।


সেদিনই তারা গেল একজন উকিলের কাছে। পুরানা পল্টনের তিনতলায় ছোট চেম্বার। ফ্যান ঘুরছে, কাগজ উড়ছে।


সব কাগজ খুলে দেখানোর পর তিনি চশমা নামিয়ে বললেন, “পালালে বিপদ বাড়বে। যাদের কাছে টাকা বাকি, তাদের সঙ্গে বসেন। লিখিত সময় নেন। যতটুকু পারেন, নিয়ম মেনে কিস্তি দেন। কোর্টে হাজিরা মিস কইরেন না।”


ফেরার পথে রিকশায় অভিক বলল, “জানো, এত দিন শুধু ভাবছিলাম কীভাবে টাকা ফেরত দেব। আজ বুঝলাম, তার আগে নিজের মুখটা ফেরত আনা দরকার।”


নিশি তাকিয়ে রইল।


অনেক দিন পর অভিকের গলায় অনুতাপ শুনল। সাজানো না, আসল।


পরের কয়েক মাস কঠিন গেল। খুব।


অভিক অফিসে ফিরল। পনেরো দিনের ছুটি শেষে জয়েন করেই ওভারটাইম শুরু করল। শুক্রবারেও মগবাজারের একটা দোকানের হিসাব মেলাত ৮০০ টাকায়।


নিশিও বসে থাকেনি। ঘরে বসে অনলাইনে নকশিকাঁথা আর হাতে-আঁকা কুর্তির অর্ডার নিল। প্রথম মাসে এলো ৩,২০০ টাকা।


টাকা বেশি না।


কিন্তু মাস শেষে একটা করে কিস্তি জমা পড়ত। রাশেদ সাহেবের খাতায় একটা দাগ পড়ত। এনজিওর রিসিপ্টে একটা সিল।


যেদিন প্রথম একজন পাওনাদার টাকা নিয়ে বললেন, “ঠিক আছে, বাকিটাও এভাবেই দিয়েন,” সেদিন বাড়ি ফিরে অভিক অনেক দিন পর লম্বা নিঃশ্বাস ফেলল। বুকের ওপর থেকে পাথর নামল কি না কে জানে।


এক সন্ধ্যায় আলমারি গোছাতে গিয়ে নিশি খালি গয়নার বাক্সটা বের করল। লাল ভেলভেটের ভেতরটা ফাঁকা। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার রেখে দিল।


অভিক দেখে ফেলেছিল।


ধীরে এসে বলল, “আমি কথা দিচ্ছি, একদিন সব ফিরিয়ে দেব।”


নিশি মাথা নাড়ল। “গয়না ফেরানো যায়।”


অভিক চুপ।  

“কিন্তু একটা কথা মনে রেখো, আমি গয়না হারিয়ে যতটা কষ্ট পাইনি, তার চেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম যেদিন তুমি আমাকে সত্যিটা বলোনি।”


অভিকের চোখ ভিজে উঠল। “আর কখনও তোমার কাছ থেকে কিছু লুকাব না।”


নিশি প্রথমবার হালকা করে হাসল। “এই কথাটাই আমার সবচেয়ে দামি গয়না।”


এক বছর পর।


ঋণের বড় অংশ শোধ হয়েছে। ১ লাখ ২০ হাজারের মধ্যে ৯০ হাজার গেছে। এখনও বাকি।


তাদের জীবন বিলাসী নয়। এখনও মাসের শেষে হিসাব মেলাতে হয়। তবু রাতের ঘুমটা শান্ত। ফোন সাইলেন্ট করে রাখতে হয় না আর।


একদিন ছাদে দাঁড়িয়ে সূর্য ডুবতে দেখছিল দুজন। আকাশটা লালচে। নিচে গাড়ির হর্ন, কিন্তু অসহ্য লাগছে না।


অভিক বলল, “যদি সময়টা আবার ফিরে পেতাম...”


নিশি কথা শেষ করতে দিল না। “মানুষ সময় ফেরত পায় না।”  

“তাহলে?”  

“মানুষ শিক্ষা পায়। সেটাই থাকে।”


অভিক মৃদু হেসে মাথা নাড়ল।


হয়তো এটাই সত্যি।


আজও অভিক যখন কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেয়, একা নেয় না।


আগে নিশির সঙ্গে বসে। চা নিয়ে। কথা বলে। মাঝে মাঝে দ্বিমত হয়, তবু বলে।


কারণ সে শিখেছে, সংসারে সবচেয়ে ভয়ের ভুলটা শুধু ভুল সিদ্ধান্ত নয়। যে সিদ্ধান্তে নিজের মানুষটাকে অন্ধকারে রাখা হয়, সেটা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।


একটা পরিবার একদিনে ভাঙে না।


ভাঙন শুরু হয় সেই দিন, যেদিন বিশ্বাসের জায়গাটায় গোপনীয়তা এসে বসে। আর সংসার টিকে থাকে তখনই, যখন দুজন মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধে না, সমস্যার বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়ায়।


------------------------সমাপ্ত।-------------------------------

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1075 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21713। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4195
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–৪ : ভাঙনের শেষ প্রান্তে   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–৩ : ভাঙনের শব্দ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারাবাহিক গø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–২ : মিথ্যার শুরু    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারাবাহিক õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–১ : ভুলের শুরু   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারাবাহিক গলú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাস-বৃষ্টির ওপাশে আলো   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ০৩, জুলাই ২০২৬ পর্ব–৫ : বৃষ্টিø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...