Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিশি উপাখ্যান সিরিজ গল্প-৬ বন্ধ দরজার মানুষ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,428 পয়েন্ট)   8 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিশি উপাখ্যান সিরিজ  

গল্প-৬  

বন্ধ দরজার মানুষ  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

২৯ জুন,২০২৬


পাড়ায় অভিকের খুব নামডাক। কারও রক্ত লাগলে সবার আগে হাসপাতালে ছুটে যায়। ঈদের আগে চুপচাপ কয়েকটা পরিবারে বাজার পৌঁছে দেয়। রাস্তায় বয়স্ক কাউকে দেখলে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়। লোকজন প্রায়ই বলত, 

“এমন ভদ্র ছেলে আজকাল ক'জন আছে?”


নিশি এসব শুনে হাসত। খুব ছোট্ট একটা হাসি। যেটা চোখ পর্যন্ত পৌঁছাত না। দরজা বন্ধ হলেই মানুষটা অন্য রকম হয়ে যেত। চিৎকার করত না। গালিও দিত না। তবু নিশির মনে হতো, ঘরের বাতাসটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেছে।


“এতটুকু কাজও ঠিকমতো করতে পারো না?”  

“তোমার সঙ্গে দুটো কথা বললেও মাথা ধরে যায়।”  

“এসব বাইরে গিয়ে বলো না। মানুষ হাসবে।”


কথাগুলো বলেই অভিক টিভির রিমোট হাতে নিত। যেন কিছুই হয়নি। প্রথম প্রথম নিশি তর্ক করত। তারপর বোঝানোর চেষ্টা করত। একদিন খেয়াল করল, সেটাও আর করে না। সব কথা সবার জন্য হয় না।


এক বিকেলে রিমি এলো। অনেক দিন পর দেখা। গল্প করতে করতে হঠাৎ বলল,

 “তুই আগের মতো হাসিস না কেন?” 

নিশি কিছু বলার আগেই পাশের ঘর থেকে অভিক হেসে উঠল। 

“আরে, ও এমনিতেই একটু চুপচাপ।” 

রিমিও হেসে ফেলল। বিষয়টা সেখানেই শেষ। নিশি বুঝল, সত্যি কথারও কখনো কখনো কোনো সাক্ষী থাকে না।


কয়েক সপ্তাহ পর একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানে সবাই অভিকের প্রশংসা করছিল।

 “ভাগ্য করে এমন স্বামী পেয়েছ।” 

নিশি শুধু মাথা নাড়ল। তার মনে হচ্ছিল, এই ঘরে যদি সে সত্যিটা বলেও ফেলে, কেউ বিশ্বাস করবে না। সবাই মানুষটার ব্যবহার দেখেছে। দরজা বন্ধ হওয়ার পরের মানুষটাকে কেউ দেখেনি।


সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে অভিক বলল, “আজ এত চুপচাপ ছিলে কেন?” “এমনি।”

 “মানুষ কী ভাববে? মনে হবে আমি তোমার খেয়াল রাখি না।” 

নিশি উত্তর দিল না। বিছানার পাশে রাখা ডায়েরিটা টেনে নিল। অনেক দিন পর একটা লাইন লিখল। “আজ বুঝলাম, মানুষ আমার মুখটা দেখে। আমার ভেতরটা না।”


কয়েক দিন পরে অভিকের অফিসের এক সহকর্মী বাড়িতে এল। চা-নাস্তা চলছিল। হঠাৎ রান্নাঘর থেকে একটা গ্লাস পড়ে ভেঙে গেল। অভিক উঠে গিয়ে খুব নিচু গলায় বলল, 

“একটা গ্লাসও সাবধানে ধরতে পারো না?” 

কথাটা আস্তে বলা হয়েছিল। তবু দরজা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। সহকর্মী ফিরে এসে আর আগের মতো গল্প করল না। চা শেষ করেই উঠে গেল।


সেদিন প্রথমবার নিশির মনে হলো, সব কথা দেয়ালের ভেতর আটকে থাকে না। কিছু কথা দরজার ফাঁকও খুঁজে নেয়। তার কিছুদিন পর রিমি আবার এল। বিদায় নেওয়ার আগে আস্তে করে বলল, 

“একটা কথা বলি?” “বল।” 

“তোর বাসায় এলে আমার কেমন যেন দম বন্ধ লাগে।” নিশি কিছু বলল না। শুধু রিমির হাতটা একটু শক্ত করে ধরল।


কয়েক মাস পরে সে আলাদা হয়ে গেল। লোকজন অবাক হলো। 

“এত ভালো মানুষকে ছেড়ে দিলে?” 

“নিশ্চয়ই অন্য কিছু হয়েছে।” 

নিশি কাউকে বোঝানোর চেষ্টা করল না। সব সত্যি সবার কাছে প্রমাণ করতে হয় না।


অনেক দিন পরে বাজারে অভিকের সঙ্গে দেখা। দুজনেই থামল। খুব সাধারণ কিছু কথা হলো। বিদায় নেওয়ার আগে অভিক বলল, 

“সবাই আমাকে ভুল বুঝছে।” 

নিশি একটু চুপ করে থেকে বলল, “না।” “তাহলে?” “মানুষ এখন শুধু সেই মানুষটাকে দেখছে, যাকে আমি এত দিন একা দেখেছি।” 

অভিক আর কিছু বলল না।


সেদিন বাড়ি ফিরে নিশি সব জানালা খুলে দিল। ঘরে বাতাস ঢুকল। অনেক দিন পর তার মনে হলো, নীরবতারও একটা শব্দ আছে। সেটা ভয়ের নয়। মুক্তির।


আর কিছু মুখোশ… বন্ধ দরজার ওপাশে খুব বেশি দিন টেকে না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1061 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21428। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4172
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-১০   একাকীত্বের শান্তি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   যেদ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৯   হাসিটা কোথায় হারাল    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৮   শেষ সুযোগ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জুন, ২০২৬ “[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৭   অপরাধবোধের শিকল   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯ জুন, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৫   হারিয়ে যাওয়া আমি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    105 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    666 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    33 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    230 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

...