শ্রাবণদিনের হাহাকার
দ্বিতীয় পর্ব: অদৃশ্য ছায়া
মোহম্মদ জাহিদ হোসেন
২২ জুলাই, ২০২৬
প্রথম ইনজেকশন দেওয়া হলো, কিন্তু বিধাতা যেন অন্য কিছু লিখেছিলেন। বাড়ি ফেরার পর বৃষ্টি আর থামল না। রাত বাড়তেই শিমুলের গায়ে তীব্র জ্বর। বিছানায় শুয়ে কেঁকিয়ে উঠল, "বুবু, মাথাটা ভীষণ ধরেছে, গলায় ব্যথা..." পারুল ভেজা পট্টি কপালে দিল, হাত-পা টিপে দিল। বাবা ঘরের কোণে নিশ্চুপ, মা অঝোরে কেঁদে চললেন।
পঞ্চম দিনে নেমে এল আসল আতঙ্ক। শিমুল ছটফট করে বলল, "পানি দাও বুবু, তৃষ্ণায় বুক ফেটে গেল।" কিন্তু পানির গ্লাস সামনে ধরতেই সে ভয়ে ছিটকে গেল। চোখ বিস্ফারিত, শরীর কাঁপছে, "না! ওটা আমি খেতে পারব না!"
পারুল আকুল হয়ে বলল, "একটু খা শিমুল!" শিমুল কাঁপা গলায় বলল, "পানি দেখলেই যে ভীষণ ভয় করছে..."
ডাক্তার এসে মাথা নাড়লেন, "এ তো জলাতঙ্ক। এখন আর কিছুই করার নেই।"
চারপাশে প্রতিবেশীদের ভিড়। কেউ আফসোস করছে, কেউ কুসংস্কার ছড়াচ্ছে। বাবা হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন, "চুপ করুন সবাই! আমার ছেলেকে নিয়ে বাজে কথা বলবেন না।" তারপর মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
রাতে শিমুলের অবস্থা আরও জটিল হলো। মুখ দিয়ে লালা ঝরছে, শ্বাস আটকে আসছে। বাইরে বৃষ্টির শব্দ পেলেই সে আতঙ্কে কুঁকড়ে যাচ্ছে। শেষ রাতের দিকে নিথর হয়ে গেল ছোট্ট প্রাণটা।
চলবে.......তৃতীয় পর্ব: জলময় চিরশয্যা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।