নীরব মানুষটার শেষ সীমা
পর্ব–৩ : অভিকের নীরবতা
একটি ধারাবাহিক গল্প
লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
১০ জুলাই, ২০২৬
“সবাই বলত, ‘তুই এত চুপচাপ কেন?’ কেউ জানত না, কথা বলার অভ্যাসটাই হারিয়ে ফেলেছে অভিক।”
অভিক আগে অনেক কথা বলত।
অফিসে কী হলো, পথে কী দেখল, মাথায় কী ঘুরছে—বাসায় ফিরেই নিশিকে বলত।
একসময় নিশিও মন দিয়ে শুনত।
তারপর ধীরে ধীরে সব বদলে গেল।
অভিক কোনো কথা বললেই নিশির একটা না একটা আপত্তি থাকত।
“আজ বাইরে খেয়ে আসি?”
“বাসায় রান্না আছে, বাইরে খেতে হবে কেন?”
“শুক্রবার মা-বাবার কাছে একটু যাই?”
“তোমার নিজের সংসারের চেয়ে ওদের জন্যই বুঝি বেশি টান?”
শুরুর দিকে অভিক বোঝানোর চেষ্টা করত।
তারপর কথা কাটাকাটি হতো।
কখনো সারা সন্ধ্যা কেউ কারও সাথে কথা বলত না।
কখনো দুদিন।
একদিন অভিক বুঝে গেল—
কিছু কথা না বলাই ভালো।
তারপর থেকে সে নিজের মতামত দেওয়াই কমিয়ে দিল।
কী খাবে...
কোথায় যাবে...
কার সাথে দেখা করবে...
সব প্রশ্নের উত্তর একটাই।
“তোমার যেটা ভালো লাগে।”
নিশি ভাবত, অভিক এখন অনেক শান্ত হয়েছে।
অভিক জানত, সে শান্ত হয়নি।
সে শুধু আর ক্লান্ত হতে চাইত না।
একদিন অফিসে লাঞ্চের সময় সবাই আড্ডা দিচ্ছিল।
কেউ একটা গল্প বলতেই সবাই হেসে উঠল।
অভিক শুধু বসে বসে শুনছিল।
পাশের একজন হেসে বলল,
“ভাই, আপনি এত চুপচাপ কেন?”
অভিকও হেসে দিল।
বলল না কিছুই।
হঠাৎ সে বুঝল, উত্তরটা তার নিজের কাছেও নেই।
যে মানুষটা প্রতিদিন নিজের কথাগুলো গিলে ফেলে...
সে একসময় কথা বলতেই ভুলে যায়।
সেদিন রাতে নিশি বলল,
“কী হয়েছে তোমার? এখন আর আগের মতো একটা কথাও বলো না।”
অভিক তাকিয়ে রইল।
মনে অনেক কথা ছিল।
কিন্তু ঠোঁট পর্যন্ত এসে সব থেমে গেল।
শেষে শুধু বলল,
“কিছু না।”
এই “কিছু না” কথাটা নিশির কানে সেদিন প্রথমবার একটু অচেনা লাগল।
আগে এই মানুষটা রাগ করত।
অভিমান করত।
তর্ক করত।
এখন আর কিছুই করে না।
শুধু চুপ থাকে।
কিন্তু নিশি তখনও বুঝতে পারেনি...
চুপ থাকা সবসময় শান্তির লক্ষণ না।
কখনো কখনো মানুষ চুপ হয়ে যায়, কারণ সে বিশ্বাস করাই ছেড়ে দেয়—তার কথা কেউ শুনবে।
আর সেই নীরবতার পর...
অনেক সম্পর্ক আর আগের জায়গায় ফেরে না।
চলবে...
পাঠকের কাছে প্রশ্ন:
চুপ থাকা কি সবসময় শান্তির লক্ষণ? নাকি অনেক সময় সেটাই ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের প্রথম সংকেত? আপনার মতামত জানাতে পারেন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।