Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (23,023 পয়েন্ট)   4 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি  

পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন


"মা, তুমি কি আমাদেরও ছেড়ে চলে গিয়েছিলে?"


একটা বাক্য।


মাত্র নয়টা শব্দ।


কিন্তু ঘরের সমস্ত বাতাস থেমে গেল যেন। ফ্যানের শব্দটা পর্যন্ত দূরে সরে গেল।


মেঘলা দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে। স্কুলব্যাগটা তখনো কাঁধে। চোখ নামায়নি।


মিশি তখনো মায়ের আঙুল ধরে আছে, কিন্তু তার ছোট্ট মুখে কুয়াশা। সে বোঝে না, তবু টের পায়—এই প্রশ্নটা সাধারণ না।


অভিক আর নিশি একবার চোখাচোখি করল। পরমুহূর্তেই চোখ সরিয়ে নিল দুজনেই।


এই প্রশ্নের জন্য পৃথিবীর কোনো বাবা-মা তৈরি থাকে না।


নিশি এক পা এগিয়ে এল। গলা শুকিয়ে কাঠ।  

“এমন কথা বলছিস কেন, মা?”


মেঘলার গলায় কাঁপুনি নেই। আছে জমাট বরফ।  

“কারণ অনেকদিন ধরে আমরা আর ‘আমরা’ নেই, মা। স্কুলে ফ্রেন্ডরা যখন বলে ‘কালকে মা-বাবার সাথে কক্সবাজার গিয়েছিলাম’, আমি চুপ করে থাকি। কী বলব? আমার বলার মতো কিছু নেই।”


কথাগুলো অভিযোগ নয়। রায়।


ঘরটা আরও ভারী হয়ে উঠল।


মিশি এবার বাবার দিকে তাকাল। তারপর মায়ের দিকে। তারপর আবার বাবার দিকে। ছোট মাথায় হিসাব মেলাতে পারছে না।  

“তোমরা ঝগড়া করেছ? তাহলে সরি বলো। সরি বললে তো আবার বন্ধু হওয়া যায়। আমরা ক্লাসে তো হই।”


শিশুদের লজিক। সবচেয়ে নির্মম, কারণ সবচেয়ে সত্যি।


নিশির হাঁটু ভেঙে এল। সে মেঝেতে বসে পড়ল, দুই মেয়েকে দুই হাতে জড়িয়ে ধরল। গলাটা কাঁপছে, “আমি তোদের ছেড়ে যাইনি, মা। কোনোদিন না।”


বলতে গিয়ে নিজেই থেমে গেল। কারণ পরের লাইনটা সে জানে—“কিন্তু আমি এমন কিছু করেছি, যার জন্য তোরা কষ্ট পাচ্ছিস।”


কথাটা মুখে আনতে পারল না। শুধু মেয়েদের চুলের গন্ধ নিল বুক ভরে।


মেঘলা মায়ের কাঁধে মাথা রাখল না। সোজা দাঁড়িয়ে রইল। তারপর খুব ধীরে জিজ্ঞেস করল, “মানুষ ভুল করলে কি আবার আগের মতো হওয়া যায়?”


প্রশ্নটা নিশির দিকে। কিন্তু উত্তরটা দিল অভিক।


সে এতক্ষণ দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এবার এগিয়ে এসে মেঘলার কাঁধে হাত রাখল।  

“সব ভুল আগের মতো করে শোধরানো যায় না মা। কিছু ভুলের দাগ থেকে যায়। সেই দাগ নিয়েই বাঁচতে হয়।”


মেঘলা বাবার দিকে তাকাল। “তাহলে আমরা কী করব এখন?”


এই ‘আমরা’ শব্দটা ছুরির মতো বসল অভিকের বুকে।


সে মেয়েকে ধরে সোফায় বসাল। মিশিও এসে অন্য পাশে বসল। নিশি সামনের মোড়ায়।


চারজন। এক ফ্রেমে। তবু ছবিটা ভাঙা।


অভিক শান্ত গলায় বলল, “আমরা সত্যিটা মেনে নেব। আর চেষ্টা করব, যাতে তোদের কষ্টটা আর না বাড়ে।”


মিশি ছোট্ট গলায় বলল, “মা তো আমাদের কাছে আসে। কিন্তু রাতে থাকে না। রাতে থাকলে হয় না?”


নিশি চোখ মুছল। সারাদিনের মেকআপ ধুয়ে গেছে। এখন সে শুধু একজন মা, যার কাছে কোনো উত্তর নেই।  

“আমি চেষ্টা করব মা। যতটা পারি, তোদের সাথে থাকব। প্রমিস।”


‘প্রমিস’ শব্দটা ঘরে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এল।


সেদিন আর কেউ কথা বাড়াল না।


বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো। নিশি উঠল।  

“আমি আসি আজ।”


দরজা পর্যন্ত গিয়ে ফিরে তাকাল। এই ঘর, এই সোফা, এই দেয়ালের আঁকিবুকি—সব তার। আবার কিছুই তার না। এখন সে এখানে অতিথি। ঘড়ি ধরে আসে, ঘড়ি ধরে যায়।


“অভিক...” ডাকল নিশি।


অভিক দরজা ধরে দাঁড়িয়ে। “বলো।”  

“থ্যাংক ইউ। মেয়েদের সামনে সিন ক্রিয়েট করোনি।”


অভিক মাথা নাড়ল। “ওদের আর ভাঙার কিছু নেই।”


দরজা বন্ধ হলো।


মিশি বাবাকে জড়িয়ে ধরল। “বাবা, মা কবে আবার আসবে?”  

“শুক্রবারে, মা।”  

“আর যদি না আসে?”  

“আসবে।”


মেঘলা জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে। বাইরে রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট। নিচে মা হেঁটে যাচ্ছে। একা।


সে বাবাকে জিজ্ঞেস করল না, “আমরা কেন এমন?” কারণ সে জানে, এই ‘কেন’র উত্তর বড়দের কাছেও নেই।


রাত বারোটা।


দুই মেয়ে ঘুম। অভিক বারান্দায়।


আকাশে চাঁদ নেই। শুধু কালো।


সে হিসাব মেলাচ্ছে।


এই যুদ্ধে কে হারল?


সে হারিয়েছে বিশ্বাস। নিশি হারিয়েছে সংসার।


কিন্তু সবচেয়ে বড় হারটা হয়েছে মেঘলা আর মিশির। তারা হারিয়েছে ‘মা-বাবা’ শব্দটার স্বাভাবিক মানে। এখন থেকে ওদের কাছে ‘পরিবার’ মানে দুটো বাসা, দুটো ফোনকল, আর একরাশ প্রশ্ন।


এই ক্ষতি কোনো আদালতের রায় দিয়ে পূরণ হয় না। কোনো ক্ষমা দিয়ে না।


ফোনটা হাতে নিল অভিক। কন্টাক্ট লিস্টে নিশির নাম।


ডায়াল করল।


ওপাশে রিং হচ্ছে।


একবার। দুইবার। তিনবার।


চারবারের সময় ধরল নিশি। গলাটা বসা। “হ্যালো?”


অভিক লম্বা শ্বাস নিল। “আমার মনে হয়, আমাদের চারজনের একসাথে বসা দরকার।”


ওপাশে নীরবতা।


“ঝগড়া করার জন্য না, নিশি। দোষ দেওয়ার জন্য না। মেয়েদুটোর সামনের দশটা বছর নিয়ে কথা বলার জন্য। ওদের স্কুল, ওদের মন, ওদের ভয়—এগুলো নিয়ে।”


আবার নীরবতা। তারপর খুব আস্তে, খুব ভাঙা গলায় নিশি বলল, “আমি আসব। কবে বলো।”


ফোনটা রাখতেই অভিক বুঝল, সে যা করতে যাচ্ছে, সেটা দ্বিতীয় বিয়ে না, দ্বিতীয় সংসারও না।


সেটা শুধু দুটো ভাঙা মানুষের একসাথে বসে তাদের বাচ্চাদের জন্য একটা ছাতা বানানোর চেষ্টা।


ছাতাটা বৃষ্টি ঠেকাতে পারবে কি না, সে জানে না।


কিন্তু চেষ্টা না করলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না।


আর এই সিদ্ধান্তটাই পরের সপ্তাহে সবাইকে চমকে দিতে যাচ্ছে।


চলবে...

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1140 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23023। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4261
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–১ : ভাঙনের আগে সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল   মোহাম্মদ জাহù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৭ : যে স্বপ্নের জন্য সব হারিয়েছিল    মোহাম্মদ জাহিদ হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–১০ : শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন "[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৮ : ক্ষমা চাইলেই কি সব ঠিক হয়ে যায়?   মোহাম্মদ জাহিদ হো&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৬ : একা বাবার সংসার   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন "নিজের কষ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1554 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    77 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. মাইদুল ইসলাম মুকুল

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...