Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৬ অচেনা আমি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (22,177 পয়েন্ট)   1 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার

গল্প-৬

অচেনা আমিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প

৯, জুলাই, ২০২৬


চোখ খুলেই অভিকের মনে হলো, কোথাও যেন একটা ভুল হচ্ছে।


ঘরটা চেনা।


বিছানাটা চেনা।


জানালার পাশে রাখা ছোট্ট গাছটাও চেনা চেনা লাগছে।


তবু সবকিছু যেন অন্য কারও।


ঠিক তখনই দরজা খুলে একটা মেয়ে ভেতরে এল।


চোখে ঘুম নেই, তবু মুখে হাসি রাখার চেষ্টা।


— ঘুম ভেঙেছে?


অভিক কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।


তারপর ধীরে বলল,


— আপনি... কে?


মেয়েটা থেমে গেল।


মুখের হাসিটা আস্তে আস্তে মিলিয়ে গেল।


কিছুক্ষণ পরে বলল,


— আমি নিশি।


একটু থেমে আবার বলল,


— তোমার স্ত্রী।


কথাটা শুনেও অভিকের ভেতরে কিছু নড়ল না।


ঘরের দেয়ালে তাদের একসঙ্গে তোলা ছবি।


আলমারিতে পাশাপাশি ঝোলানো কাপড়।


টেবিলে দুটো মগ।


সবকিছুই যেন একটা জীবনকে প্রমাণ করছে।


শুধু সেই জীবনের মানুষটা নিজেই কিছু মনে করতে পারছে না।


ডাক্তার এসে অনেকক্ষণ কথা বললেন।


নাম?


আজ কী বার?


এখন কোথায় আছ?


অভিক নিজের নাম বলতে পারল।


তারপর মাথার ভেতরটা আবার ফাঁকা।


ডাক্তার শুধু বললেন,


— তাড়া দেবেন না। এমন হলে স্মৃতি ধীরে ধীরে ফিরতে পারে।


এরপর দিনগুলো কেমন ধীর হয়ে গেল।


নিশি কোনো দিন জোর করে কিছু মনে করাতে চাইল না।


শুধু পাশে থাকত।


একদিন চা এগিয়ে দিয়ে বলল,


— নাও।


চিনি দিইনি। তুমি এমনই খাও।


অভিক কাপটার দিকে তাকিয়ে রইল।


তার মনে হচ্ছিল, সে কোনো দিন চা খেতই না।


আবার মনে হচ্ছিল, হয়তো খেত।


সে নিজেই আর বুঝতে পারছিল না।


একদিন আলমারি গুছাতে গিয়ে একটা পুরোনো গিটার বের হলো।


ধুলো জমে আছে।


হাতে তুলতেই বুকের ভেতর হালকা একটা টান লাগল।


আঙুল তার ছুঁয়ে গেল।


কিন্তু কোনো সুর ফিরে এল না।


আরেক দিন বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছিল তারা।


রাস্তার পাশে একজন বৃদ্ধ হেসে বললেন,


— কেমন আছো বাবা?


অভিকও হেসে মাথা নাড়ল।


লোকটা চলে যাওয়ার পর নিশি বলল,


— উনি তোমাদের স্কুলের স্যার।


তোমাকে খুব আদর করতেন।


অভিক অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলল,


— অদ্ভুত না?


সবাই আমাকে চেনে।


শুধু আমি কাউকে চিনি না।


নিশি উত্তর দিল না।


হয়তো কোনো উত্তর ছিলও না।


সেদিন রাতে ড্রয়ারের ভেতর একটা নোটবুক পেল অভিক।


প্রথম পাতায় লেখা—


"যদি কোনো দিন সব ভুলে যাও, একটা কথা মনে রেখো—মানুষকে নতুন করে চিনতে ভয় পেয়ো না।"


নিচে তার নিজের স্বাক্ষর।


অনেকক্ষণ ধরে লেখাটার দিকে তাকিয়ে রইল সে।


নিজের হাতের লেখা।


তবু যেন অন্য কারও।


তারপর থেকে স্মৃতিগুলো একটু একটু করে ফিরতে শুরু করল।


বাবার আঙুল ধরে স্কুলে যাওয়া।


মাঠে ক্রিকেট খেলা।


অফিসে প্রথম দিন।


তারপর...


বৃষ্টি।


একটা ছাতা।


আর ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে হাসছে একটা মেয়ে।


এক বিকেলে বারান্দায় বসে অভিক হঠাৎ জিজ্ঞেস করল,


— আমাদের প্রথম দেখা... বৃষ্টির দিন ছিল?


নিশি তাকিয়ে রইল।


তারপর খুব আস্তে মাথা নাড়ল।


— হ্যাঁ।


খুব বৃষ্টি হচ্ছিল সেদিন।


কথাটা বলার সময় নিশির চোখে ছোট্ট একটা আলো ফুটে উঠেছিল।


অভিকের মনে হলো, সে যেন ধীরে ধীরে নিজের কাছেই ফিরছে।


কিন্তু কয়েক দিন পর হাসপাতালের ছাড়পত্রের কাগজে চোখ পড়তেই সবকিছু আবার থেমে গেল।


শেষ লাইনে লেখা—


"রোগীর বেশির ভাগ স্মৃতি অক্ষত। তীব্র মানসিক আঘাতের কারণে দুর্ঘটনার আগের কিছু স্মৃতি সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ রয়েছে।"


কাগজটা নামিয়ে অভিক নিশির দিকে তাকাল।


— তুমি কি আমাকে কিছু বলোনি?


নিশি অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।


তারপর বলল,


— বলিনি।


— কী?


নিশি নিচের দিকে তাকিয়ে বলল,


— দুর্ঘটনার দিন... আমরা আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।


তুমি খুব রাগ করে বেরিয়ে গিয়েছিলে।


তারপর...


বাকিটা আর বলতে পারল না।


ঘরটা চুপচাপ হয়ে গেল।


অভিক হঠাৎ বুঝতে পারল, তার মাথা শুধু কিছু স্মৃতি মুছে দেয়নি।


একটা দিনের অসহ্য কষ্টও লুকিয়ে রেখেছিল।


নিশি ধীরে তার হাতটা ধরল।


— ডাক্তার বলেছিলেন, সব মনে পড়তেই হবে এমন না।


কিছু ক্ষত ভুলে যাওয়াও কখনো কখনো মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।


অভিক জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।


বৃষ্টি পড়ছে।


অনেকক্ষণ পরে সে আস্তে বলল,


— আমি মানুষগুলোকে ভুলিনি।


আমি শুধু সেই মানুষটাকে ভুলে গিয়েছিলাম... যে একদিন ভেঙে পড়েছিল।


নিশি কিছু বলল না।


শুধু তার হাতটা ছাড়ল না।


বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল।


ভেতরে খুব ধীরে একটা মানুষ নিজের কাছেই ফিরে আসছিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1098 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22177। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4215
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার   গল্প-১   অচেনা হাসি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৮, জুন, ২০২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-১০ শেষ সাক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯ জুলাই, &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৯ বন্ধ দরজা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলাই, ২০ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৮ পলকহীন চোখ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলাই, ২ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৭ দেয়ালের ওপাশে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    708 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    35 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...