Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প ১০ -নিজের কাছে হেরে গেলাম

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,905 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল

গল্প ১০ -নিজের কাছে হেরে গেলামimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প । ১০ আগষ্ট, ২০২৬


সংসারের কাছে অভিক কখনো হারেনি। হিসাবের খাতা কখনো এলোমেলো হয়নি, মেয়েদের পড়াশোনায় কোনো ঘাটতি রাখেনি, মাসের শেষে বাড়িভাড়ার টাকা জোগাড় হয়েছে, কিস্তি সময়মতো গেছে। মানুষের চোখে তার জীবনটা বেশ গুছানো।


শুধু এক রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে তার হঠাৎ মনে হলো—এই গুছিয়ে রাখা জীবনের কোথাও সে নিজেই নেই।


পাড়ার মানুষ তাকে দায়িত্বশীল বলে। আত্মীয়রা বলে, “অভিক নিজের সংসারটা খুব ভালো সামলেছে।” কথাগুলো শুনলে তার খারাপ লাগে না। বরং একসময় এই প্রশংসাগুলোই তার ভালো লাগত। নিজের বাড়ি হয়েছে, মেঘ আর মিশি ভালোভাবে বড় হয়েছে, নিশির জন্য যতটা পেরেছে করেছে। কারও কাছে ধার রেখে চলেনি। প্রয়োজনের সময় পিছিয়ে যায়নি।


তারপরও সেদিন রাতে নিজের ঘরের আলো নিভিয়ে বারান্দায় দাঁড়ানো অভিকের মনে হচ্ছিল, সে যেন নিজের জীবনের একজন দর্শক।


ছোটবেলায় অভিক নাটক করত। পাড়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংলাপ বলত, পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সঙ্গে হাসাহাসি করত। কলেজে উঠে গিটার হাতে নিয়েছিল। কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গল্পও লিখত। তখন তার মনে হয়েছিল, একদিন নিজের মতো একটা সাংস্কৃতিক দল করবে। খুব বড় কিছু নয়—ছোট্ট একটা জায়গা থাকবে, কয়েকজন মানুষ থাকবে, সন্ধ্যার পর গান হবে, নাটক হবে, গল্প নিয়ে কথা হবে।


স্বপ্নটা তখন অসম্ভব মনে হয়নি।


বিয়ের পরও স্বপ্নটা ছিল। নিশিকে একদিন বলেছিল, “সংসারটা একটু গুছিয়ে নিই, তারপর আবার শুরু করব।”


নিশি হেসে বলেছিল, “করবে।”


তারপর মেঘ এল।


মেয়েটা ছোট ছিল। তার সময় লাগত। তারপর মিশি এল। বাড়ির খরচ বাড়ল। কিস্তি শুরু হলো। অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ এল। একটার পর একটা প্রয়োজন এসে দাঁড়াল।


প্রতিটা প্রয়োজনই সত্যি ছিল। কোনোটা এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়।


তাই অভিক নিজের ইচ্ছেটাকে সরিয়ে রাখার সময় কখনো মনে করেনি যে সে কিছু হারাচ্ছে। নিজেকে শুধু বলেছে, “এখন না।”


মেঘ একটু বড় হোক।


মিশির পড়াশোনাটা গুছিয়ে যাক।


কিস্তিটা শেষ হোক।


তারপর।


নিশি মাঝেমধ্যে বলত, “তুমি নিজের কথাও একটু ভাবো।”


অভিক হেসে বলত, “আমার আবার কী দরকার?”


কথাটা বলতে বলতে একসময় সে নিজেই বিশ্বাস করে ফেলেছিল, তার সত্যিই কিছু দরকার নেই।


গিটারটা আলমারির মাথায় উঠে গেল। পুরোনো নাটকের পোস্টারগুলো হারিয়ে গেল। বন্ধুদের সঙ্গে রাত জেগে গল্প করার সময়টা কোথায় যেন ফুরিয়ে গেল। ডায়েরির পাতায় লেখা স্বপ্নগুলো একদিন আর খোলা হলো না।


জীবন চলতে থাকল।


মেঘ কলেজে উঠল। মিশিও বড় হলো। মেয়েরা ধীরে ধীরে নিজেদের জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সংসারের কাজ কমল না, শুধু তার ধরন বদলাল। একসময় অভিক খেয়াল করল, সন্ধ্যাগুলো বেশির ভাগ সময় নীরব কাটে।


তবু সে নিজেকে সফল মানুষই ভাবত।


কারণ সবকিছু তো ঠিক আছে।


শুধু নিজের ভেতরটা ছাড়া।


একদিন ডাক্তার তাকে বললেন, “স্ট্রেসটা একটু কমান।”


বাড়ি ফেরার পথে কথাটা নিয়ে অভিক ভাবছিল। স্ট্রেস কমাবে কীভাবে? তার তো কোনো বিশেষ সমস্যা নেই। চাকরি শেষ হয়েছে, মেয়েরা বড় হয়েছে, বাড়ি আছে, সংসার আছে।


সব আছে।


তবু কোথাও একটা অদৃশ্য ক্লান্তি তাকে সারাক্ষণ অনুসরণ করছে।


সেদিন সন্ধ্যায় নিশি চা দিতে এসে হঠাৎ বলল, “তুমি আগের মতো হাসো না।”


অভিক কাপটা হাতে নিয়ে তাকিয়ে রইল।


“আমি তো হাসি।”


“হাসো,” নিশি বলল, “কিন্তু আগের মতো না।”


অভিক উত্তর দিল না।


রাতে অনেকক্ষণ ঘুম এল না। শেষ পর্যন্ত উঠে আলমারির মাথা থেকে গিটারটা নামাল। ধুলো মুছতে মুছতে পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে পড়ল। গিটারটা কোলে রেখে একটা সুর ধরার চেষ্টা করল।


আঙুল ঠিক জায়গায় বসছিল না।


প্রথম সুরটাই বেসুরো হলো।


আবার চেষ্টা করল।


আবার ভুল।


অভিক গিটারটার দিকে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হলো। মনে হলো, এত বছর সে শুধু গিটার বাজানো ভুলে যায়নি। নিজের একটা অংশও ভুলে গেছে।


সেদিন রাতে সে প্রথমবার নিজের কাছে প্রশ্ন করল—আমি কী হারিয়েছি?


উত্তরটা কোনো জিনিসের নাম নয়।


সে হারিয়েছে সেই মানুষটাকে, যে একসময় কোনো কারণ ছাড়াই গান গাইত। যে নতুন গল্পের কথা ভাবত। যে বন্ধুর সঙ্গে বসে রাত পার করে দিতে পারত। যে জানত, জীবন শুধু দায়িত্বের নাম নয়।


সংসারের জন্য বাঁচা তার ভুল ছিল না।


মেয়েদের জন্য নিজের স্বপ্ন পিছিয়ে দেওয়াও অপরাধ ছিল না।


ভুলটা অন্য জায়গায়।


সে কখনো ভাবেনি, নিজের জন্যও তার কিছু প্রাপ্য আছে।


ত্যাগ আর নিজেকে মুছে ফেলার মধ্যে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে, সেটা বুঝতে তার অনেক বছর লেগে গেল।


পরদিন সকালে নাশতার টেবিলে অভিক হঠাৎ নিশিকে বলল, “আমি আবার শুরু করতে চাই।”


নিশি অবাক হয়ে তাকাল।


“কী?”


অভিক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “আমি যে মানুষটা ছিলাম, তাকে।”


নিশি আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। শুধু তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে বলল, “তুমি যদি নিজেকেই কোথাও রেখে আসো, তাহলে এতদিন আমরা কাকে নিয়ে সংসার করছিলাম?”


অভিক মৃদু হেসে ফেলল।


সেদিন কথাটার উত্তর তার কাছে ছিল না।


হয়তো এখনও নেই।


তবে সেই রাত থেকে সে প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখে। কখনো গিটার নিয়ে বসে। কখনো পুরোনো ডায়েরি খুলে। কখনো কিছু না করে বারান্দায় বসে থাকে।


খুব বড় কোনো পরিবর্তন নয়।


শুধু নিজের সঙ্গে আবার পরিচিত হওয়ার চেষ্টা।


কারণ জীবনে অনেক পরাজয় আসে—টাকার, কাজের, সুযোগের, সময়ের।


কিন্তু সবচেয়ে নিঃশব্দ পরাজয়টা তখনই ঘটে, যখন মানুষ চারপাশের সবার কাছে ভালো থাকতে থাকতে নিজের কাছেই অপরিচিত হয়ে যায়।


অভিক সংসারের কাছে হারেনি।


হারিয়েছিল নিজের ভেতরের সেই মানুষটাকে।


এখন তার একটাই কাজ—


দেরি হলেও তাকে আবার খুঁজে পাওয়া।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1233 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24905। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4660
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-১০  আলোটা একদিন ফিরবেই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-১০ শেষ সাক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯ জুলাই, &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-১০   একাকীত্বের শান্তি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   যেদ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-১০ -আবার দেখা হবে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-১০ : নতুন সকাল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ সব হারিয়েও [...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1071 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    53 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    902 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    344 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...