শ্রাবণদিনের হাহাকার
প্রথম পর্ব: এক আষাঢ়ের সকালে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
২২ জুলাই, ২০২৬
আষাঢ়ের মেঘভাঙা বৃষ্টিতে চারদিক ভেসে যাচ্ছে। টিনের চালে রিনিঝিনি শব্দ। বাতাসে কদম আর গন্ধরাজের মাদক ঘ্রাণ। জানালার গ্রিলে মাথা রেখে দাঁড়িয়ে আছে পারুল। চোখ বেয়ে নামছে জল। বাইরে বৃষ্টির প্লাবন, আর ভেতরে বুকের গভীরে শোকের ঝড়।
স্মৃতিতে ভেসে ওঠে ছোট ভাই শিমুলের মুখটা। ষষ্ঠ শ্রেণির চঞ্চল ছেলেটি পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখত। সেদিন স্কুলে যাওয়ার আগে হেসে বলেছিল, "বুবু, আজ ফিরে তোমাকে মেলায় নিয়ে যাব।" পারুল মুচকি হেসেছিল, "দেখা যাবে, আগে পড়া শেষ কর।"
দুপুর গড়িয়ে গেলেও শিমুল ফিরল না। হঠাৎ বাড়ির সামনে শোরগোল। দুজন লোক তাকে ধরে আনল—পায়ে তাজা রক্ত, ভেজা জামাকাপড়। তবু শিমুলের ঠোঁটে হাসি, "কিছু হয়নি বুবু, একটা কুকুরে একটু কামড়েছে।"
পারুল আঁতকে উঠে কেঁদে ফেলল, "কেন যে তুই দরকচা মেরে বাইরে যাস!" শিমুল হেসে বলল, "আরে, কালই ঠিক হয়ে যাবে।"
পরদিন বাবা শহর থেকে ফিরে শিমুলকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন। ডাক্তার গম্ভীর মুখে বললেন, "অনেক দেরি হয়ে গেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিকা দেওয়া উচিত ছিল।" বাবা অনুনয় করলেন, "ডাক্তারবাবু, আমার ছেলেকে বাঁচান।" ডাক্তার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "টিকা শুরু করছি, তবে নিশ্চয়তা দিতে পারছি না।"
চলবে.......দ্বিতীয় পর্ব: অদৃশ্য ছায়া
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।