Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প- ১ শেষ শখ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
7 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,966 পয়েন্ট)   2 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল

গল্প- ১ শেষ শখimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

ছোট গল্প । ১০ আগষ্ট, ২০২৬



একদিন ভোরে নিশি হঠাৎ টের পেল, তার নিজের বলতে আর কোনো শখ বেঁচে নেই। যা আছে, সবই প্রয়োজন। অ্যালার্ম বাজার আগেই আজকাল তার ঘুম ভেঙে যায়। চোখ মেলতেই মাথার ভেতর হিসাব শুরু হয়ে যায়—মেঘের টিফিনে কী দেবে, মিশির দুধটা বসাতে হবে, অভিকের নীল শার্টটা এখনও ইস্ত্রি করা হয়নি। সব মনে থাকে। শুধু নিজের কথাটা মনে থাকে না।


একসময় নিশির খুব আঁকার শখ ছিল। কলেজে পড়ার সময় ক্যানভাস পেলেই সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকত। কখনো নদী, কখনো জানালার পাশে পড়ে থাকা বিকেলের আলো, কখনো কোনো অচেনা মুখ। বন্ধুরা মজা করে বলত, 

“তুই একদিন সত্যিই বড় শিল্পী হবি।” 

নিশিও বিশ্বাস করত। বিয়ের পরও কিছুদিন সেই বিশ্বাসটা ছিল। আলমারির ওপরের তাকে একটা বাক্সে রাখা থাকত ক্যানভাস, তুলি আর রঙের টিউব। মাঝেমধ্যে বাক্সটা নামিয়ে ছবি আঁকা শুরু করত নিশি। তারপর সংসারের ডাক আসত—“নিশি, এক কাপ চা হবে?” 

কিংবা “মা, আমার জামাটা কোথায়?” 

অথবা “আজ রান্নাটা একটু তাড়াতাড়ি করো।” নিশি তুলি রেখে উঠে যেত। ছবিটা পড়ে থাকত একদিন, দুদিন, এক সপ্তাহ। তারপর আর আঁকা হতো না। একসময় রং শুকিয়ে গেল, তুলিগুলো শক্ত হয়ে গেল। বাক্সটাও আলমারির ওপর থেকে নেমে গেল নিচের তাকে। এভাবেই বছর কেটে গেল।


একদিন মেঘ স্কুল থেকে ফিরে হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, “মা, তুমি আঁকতে পারো?” 

নিশি হেসে বলল, “একসময় পারতাম।” 

মিশি সঙ্গে সঙ্গে বলল, “এখন পারো না?” 

নিশি একটু থেমে বলল, “সময় পাই না।” 

কথাটা বলেই তার নিজের কাছেই কেমন লাগল। সে আঁকা ভুলে যায়নি। শুধু নিজের জন্য সময় রাখার অভ্যাসটাই হারিয়ে ফেলেছে।


অভিক খারাপ মানুষ নয়। সংসারের জন্য অনেক পরিশ্রম করে। রাতে ক্লান্ত হয়ে ফিরেও মেয়েদের খোঁজ নেয়। মাঝে মাঝে নিশিকে বলে,

 “তুমি না থাকলে আমি এই সংসারটা সামলাতেই পারতাম না।” 

নিশির ভালো লাগে শুনতে। তবু কোথাও একটা ফাঁকা জায়গা থেকে যায়। কেউ তাকে জিজ্ঞেস করে না, “তুমি কেমন আছ?” কেউ জানতে চায় না, 

“তোমার নিজের কী করতে ইচ্ছে করে?” 

অভিকের দোষ হয়তো নেই। সংসারের মানুষগুলোও নিশির ওপর নির্ভর করতে করতে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে, তারা ভুলেই গেছে—যে মানুষটা সবার প্রয়োজন মেটায়, তারও নিজের কিছু প্রয়োজন থাকতে পারে।


এক বিকেলে আলমারি গোছাতে গিয়ে পুরোনো স্কেচবুকটা হাতে এল। পাতাগুলো হলদে হয়ে গেছে। একটা পাতায় নিজের হাতের লেখা দেখতে পেল নিশি—“আমার রংগুলো কখনো শুকাবে না।” লেখাটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সে হেসে ফেলল। খুব আস্তে বলল, 

“শুকিয়েই তো গেলি।” 

ঠিক তখনই মেঘের ডাক এল, 

“মা, কোচিংয়ের দেরি হয়ে যাচ্ছে!” 

নিশি খাতাটা বন্ধ করে রেখে দিল। আবার সেই চেনা ব্যস্ততা।


সেদিন রাতে সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পর নিশি অনেকক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। শহরের অসংখ্য জানালায় আলো জ্বলছে। প্রতিটি জানালার পেছনে একেকটা জীবন, একেকটা ব্যস্ততা, একেকটা গল্প। নিশির মনে হলো, তারও তো একটা জীবন আছে। শুধু দায়িত্বের তালিকা দিয়ে একটা জীবন হয় না। এই কথাটা ভাবতেই বুকের ভেতর কেমন একটা অস্বস্তি হলো। যেন বহুদিন পর সে নিজের কাছেই নিজের অস্তিত্বের কথা শুনতে পেল।


পরদিন মেঘ স্কুলের প্রজেক্ট বানাতে বসেছিল। রং মেশাতে গিয়ে বারবার ভুল করছে। নিশি পাশে বসে বলল, 

“লালের সঙ্গে একটু হলুদ মেশাও। দেখবে কমলা হবে।” 

মেঘ অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল, 

“মা, তুমি তো দারুণ জানো!” 

মিশি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, 

“তাহলে মা, তুমিও একটা আঁকো!” 

নিশি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বহু বছর পর আবার তুলি হাতে নিল। হাতটা একটু কাঁপছিল। সে একটা ছোট ফুল আঁকল। খুব সাধারণ একটা ফুল। কিন্তু আঁকতে আঁকতে তার মনে হলো, বুকের ভেতর বহুদিন বন্ধ থাকা একটা দরজা যেন একটু খুলে গেল।


দরজার কাছে দাঁড়িয়ে অভিকও দেখছিল। সে মৃদু হেসে বলল, 

“তুমি তো সত্যিই ভালো আঁকো।” 

নিশি বলল, 

“আগে আঁকতাম।” 

অভিক একটু ভেবে বলল, 

“আবার শুরু করো না।” কথাটা খুব সাধারণ। 

কিন্তু নিশির ভেতরে কোথাও গিয়ে আটকে রইল।


সেদিন রাতে সে অনেকক্ষণ ভাবল। সংসারকে ভালোবাসতে গিয়ে নিজেকেও কি একটু ভালোবাসা যায় না? নিজের জন্য দশ মিনিট সময় চাওয়া কি সত্যিই স্বার্থপরতা? 

এতদিন সে ভেবেছে, নিজের ইচ্ছেগুলো পরে পূরণ করবে। কিন্তু সেই “পরে” যে কখনো আসে না, সেটা বুঝতে তার এতগুলো বছর লেগে গেল।


পরদিন সবকিছু আগের মতোই চলল। মেঘের টিফিন, মিশির দুধ, অভিকের শার্ট, রান্নাঘরের কাজ—কিছুই বদলায়নি। শুধু নিশি বারান্দার কোণের পুরোনো টেবিলটা পরিষ্কার করে সেখানে স্কেচবুক আর কয়েকটা নতুন রং রেখে দিল। দুপুরে কাজ শেষ হলে সে দশ মিনিট বসবে। হয়তো ছবি আঁকবে, হয়তো কিছুই হবে না। তবু বসবে। কারণ তার শেষ শখটা মরে যায়নি। শুধু অনেকদিন চুপ করে অপেক্ষা করছিল।


সেদিন সাদা পাতায় নিশি একটা রেখা টানল। রেখাটা বাঁকা হয়ে গেল। সে মুছল না। বহু বছর পর নিজের জীবনে নিজের হাতে টানা সেই প্রথম রেখাটাকে সে ওভাবেই রেখে দিল। বাইরে তখন দুপুরের রোদ। ঘরের ভেতর সংসারের কাজের শব্দ। আর বারান্দার ছোট টেবিলে, একটা সাদা পাতার ওপর, নিশির নিজের জন্য শুরু হলো খুব ছোট্ট একটা জায়গা।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1236 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24966। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4651
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–১ : ভাঙনের আগে সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল   মোহাম্মদ জাহù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–১ : কথা বলতে বলতে মানুষটা একদিন চুপ হয়ে গেল   একটি ধা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-১ আমাদের নীরব ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২১ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার   গল্প-১   অচেনা হাসি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৮, জুন, ২০২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
27 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ গল্প-১ আমার হয়ে বেঁচো না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৮,জুন, ২০২৬ ব&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1132 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    903 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    366 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...