সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা।
গল্প-০৭
শেষ ফুলটা
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোট গল্প। ৮ আগষ্ট, ২০২৬
সারাদিন বিক্রি করতে না পেরে শিশুটা শেষ ফুলটা নিজের মায়ের হাতে তুলে দিল।
রেলস্টেশনের সামনে বিকেল নামছিল। লোকজন পাতলা হয়ে এসেছে। একটু আগেই একটা ট্রেন ছেড়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে আছে কাগজ, প্লাস্টিক আর ধুলো। সেই ধুলোর মধ্যেই দাঁড়িয়ে ছিল রুবেল। হাতে কয়েকটা গাঁদা আর একটা গোলাপ।
সকালে মা বলেছিল, "আজ দশটা ফুল বিক্রি হলেও চলবে।"
চলবে মানে ভাত জুটবে।
রুবেলের বয়স নয়। ওর এখন স্কুলে থাকার কথা ছিল। কিন্তু বইয়ের বদলে ওর হাতে ফুল। মাথার ওপর রোদ, পায়ে ছেঁড়া স্যান্ডেল। লোকজনের সামনে গিয়ে বলে, "ফুল নেবেন আপা, ফুল নেবেন ভাই।"
কেউ তাকায়, কেউ পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
দুপুরে রোদ যখন মাথার ওপর, ও একটা চায়ের দোকানের পাশে বসে পড়েছিল। পেট খালি। সকালে শুধু এক গ্লাস পানি খেয়ে বেরিয়েছে। হাতে তখনও সাতটা ফুল।
বিকেলে তিনটা বিক্রি হলো। তারপর আর হলো না।
কেউ বলে, "কাল নেব।"
কেউ বলে, "টাকা নেই।"
কেউ শুধু হাসে।
সূর্য ডুবতে শুরু করলে ওর হাতে পড়ে রইল একটাই ফুল, একটা গোলাপ। লাল, গরমে একটু কুঁচকে গেছে।
রুবেল অনেকক্ষণ ফুলটার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মনে মনে ভাবছিল, এখন যদি কেউ কিনে নিত, বাড়ি গিয়ে বলতে পারত সব বিক্রি হয়ে গেছে।
কিন্তু আর কেউ এলো না।
রাতে ও বাড়ি ফিরল। বাড়ি বলতে টিনের চালের ঝুপড়ি, সামনে নর্দমা। মা চুলোর পাশে বসে আছে। মুখে সারাদিনের ক্লান্তি।
"কয়টা বিক্রি হইছে?" মা জিজ্ঞেস করল।
রুবেল চুপ করে রইল। তারপর হাত বাড়িয়ে শেষ গোলাপটা মায়ের দিকে এগিয়ে দিল।
"এইটা তোমার জন্য।"
মা অবাক হয়ে তাকাল, "কেন?"
রুবেল মাথা নিচু করে বলল, "বিক্রি হয় নাই।"
মা কিছু বলল না। ফুলটা হাতে নিল। গোলাপের কাঁটা আঙুলে একটু বিঁধল, তবু সে ফুলটা নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ নিল, যেন এর চেয়ে দামি কিছু আর হয় না।
সেদিন রাতে তাদের ভাত কম ছিল। কিন্তু ঘরের এক কোণে সেই গোলাপটা রাখা ছিল, একটা ভাঙা কাচের গ্লাসে একটু পানি দিয়ে।
ঘুমোতে যাওয়ার আগে রুবেল একবার ফুলটার দিকে তাকাল। মনে হলো, আজকের দিনটা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। একটা ফুল ঠিক জায়গায় পৌঁছেছে।
#friends #highlights #everyone #followersジ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।