Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিরাপদ শৈশব

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
55 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,644 পয়েন্ট)   29 জুলাই "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিরাপদ শৈশবimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৯ জুলাই, ২০২৬


ভয়ে ভয়ে বড় হওয়া কোনো শিশুর প্রাপ্য হতে পারে না।


অভিক কখনো ভাবেনি, নিজের ছেলের মুখে এমন একটা কথা শুনবে, যা তাকে এক ধাক্কায় নিজের ফেলে আসা শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।


সেদিন অফিস থেকে ফিরে ব্যাগটা রেখেই সে বলল,

"চল বাবা, বাইরে থেকে একটু হেঁটে আসি।"


সাত বছরের অর্ণব জানালার বাইরে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর খুব আস্তে বলল,

"বাবা, দূরে যাব না। এখানেই থাকি।"


"কেন?"


ছেলেটা মাথা নিচু করে ফেলল।

"বাইরে গেলে আমার ভয় লাগে।"


অভিক আর কিছু বলতে পারল না। কথাটা যেন বুকের ভেতর কোথাও গিয়ে আটকে গেল।


তার মনে পড়ে গেল নিজের ছোটবেলার কথা। স্কুল থেকে ফিরেই ব্যাগটা ছুড়ে ফেলে দৌড়। মাঠ ভর্তি আলো, ধুলো-মাখা বিকেল। গোল্লাছুট, ডাংগুলি, ফুটবল। সন্ধ্যা নামলে উঠোন থেকে মায়ের গলা ভেসে আসত— "অভিক, বাড়ি আয়।"

সেই ডাক না শোনা পর্যন্ত ঘরে ফেরার কথা মনেই পড়ত না।


আর এখন? এখন বাচ্চারা মাঠে নামলে বাবা-মায়ের বুকের ভেতর একটা অদৃশ্য কাঁটা বিঁধে থাকে। পার্কে গিয়েও চোখ সরানো যায় না। মনে হয়, একটু চোখ সরালেই কিছু একটা হয়ে যাবে।


ছুটির দিনে অভিক অর্ণবকে নিয়ে পাশের পার্কে গেল।


ভেতরে ঢুকেই মনটা দমে গেল। দোলনার একটা পাশ ভাঙা, চারদিকে ছড়িয়ে আছে ময়লা আর শুকনো পাতা। খেলতে আসা শিশুর চেয়ে বেঞ্চে বসে মোবাইলে ডুবে থাকা মানুষের সংখ্যাই বেশি।


অর্ণব দোলনার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

"বাবা, এটা ভেঙে পড়বে না তো?"


অভিক বলল, "সাবধানে ওঠো।"


বলেই সে থমকে গেল। আমরা কখন থেকে শিশুদের শুধু সাবধান হতেই শেখাচ্ছি? দোলনায় চড়তেও সাবধান, দৌড়াতেও সাবধান, কথা বলতেও সাবধান।


সেদিনই সে ফিরে এসে এলাকার কয়েকজন বাবা-মাকে ডাকল। সবাই মিলে পৌরসভায় একটা দরখাস্ত দিল। দিন কয়েকের মধ্যেই কাজ হলো। পার্কটা পরিষ্কার করা হলো, ভাঙা দোলনা সারানো হলো। সবাই মিলে ঠিক করল, বিকেলে পালা করে দুজন করে অভিভাবক পার্কে থাকবেন, যাতে বাচ্চারা নিশ্চিন্তে খেলতে পারে। তাদের দেখে রাখার জন্য নয়, তাদের ভরসা দেওয়ার জন্য।


কয়েকদিন পর স্কুলে অভিভাবক সভা।


ক্লাস টিচার বললেন, "একটা জিনিস আমরা রোজ দেখি। অনেক বাচ্চা উত্তরটা জানে, তবু হাত তোলে না। ওদের ভেতরে একটা ভয় কাজ করে— যদি ভুল বলি, সবাই হাসবে, ম্যাডাম বকবে।"


ফেরার পথে কথাটা অভিকের মাথায় ঘুরতে লাগল। নিরাপত্তা কি শুধু রাস্তা আর পার্কের? একটা শিশুর মনটারও তো নিরাপদ হওয়া দরকার। যে নিজের প্রশ্নটাই করতে পারে না, সে শিখবে কী করে?


পরদিন থেকে ক্লাসে একটা ছোট নিয়ম বদলে গেল। ভুল উত্তরের জন্য কাউকে বকা দেওয়া হবে না, কেউ হাসলে তাকে থামানো হবে। বরং যে প্রশ্ন করবে, তাকে উৎসাহ দেওয়া হবে। আস্তে আস্তে ক্লাসের হাওয়াটাই বদলে গেল। বাচ্চারা বুঝতে শিখল, ভুল করা লজ্জার কিছু নয়, ভুলটা শেখারই একটা অংশ।


সেদিন রাতে অর্ণব অঙ্ক করতে বসে একটা ভুল করল। সঙ্গে সঙ্গে খাতা বন্ধ করে চুপ করে বসে রইল।


অভিক জিজ্ঞেস করল, "কী হলো?"


অর্ণব খুব আস্তে বলল, "ভুল করেছি... তুমি রাগ করবে?"


এই একটা প্রশ্নে অভিকের বুকটা কেঁপে উঠল।


সে ছেলের মাথায় আলতো করে হাত রাখল। বলল, "ভুল করেছিস তো কী হয়েছে? আবার কর। আমি তো আছি পাশে।"


অর্ণব আবার খাতা খুলল। তার মুখে ধীরে ধীরে একটা ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল।


সেদিন থেকে অভিক নিজের জন্য একটা নিয়ম বানিয়ে নিল। অফিস থেকে ফিরে আধঘণ্টা সময় শুধু অর্ণবের। ওই সময়টায় কোনো মোবাইল নেই, টেলিভিশন নেই। শুধু গল্প। আজ স্কুলে কী হলো, কার সঙ্গে খেলল, কোনটা ভালো লাগল, কোনটা খারাপ লাগল— সব শোনা। ভুল করলে বকা নয়, ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দেওয়া।


বদলটা রাতারাতি আসেনি, কিন্তু এলো। যে ছেলেটা আগে সব কথা নিজের ভেতর চেপে রাখত, সে এখন প্রশ্ন করে। নিজের মতামত বলে। খেলতে গিয়ে পড়ে গেলে কান্নার আগেই নিজে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে।


তখন অভিক বুঝতে পারল, শিশুরা শুধু খেলনা চায় না। তারা এমন কিছু মানুষ চায়, যাদের পাশে দাঁড়ালে ভয়টা একটু কমে যায়।


একটা শিশু শুধু একটা পরিবারে বড় হয় না। তাকে বড় করে তোলে তার চারপাশের মানুষ, তার স্কুল, তার পাড়া, তার খেলার মাঠ, তার পুরো সমাজটা। সেই পৃথিবীটা যদি ভয় আর অনিশ্চয়তায় ভরা থাকে, তবে তার শৈশবটাও ছোট হয়ে আসে।


আমরা সবাই চাই আমাদের সন্তান ভালো মানুষ হোক। কিন্তু ভালো মানুষ হওয়ার আগে তার সবচেয়ে বেশি দরকার একটা নিরাপদ শৈশব। এমন একটা পরিবেশ, যেখানে ভুল করলে তাকে অপমান করা হবে না, প্রশ্ন করলে তাকে থামিয়ে দেওয়া হবে না, আর মনের কথা বলতে গিয়ে তাকে ভয় পেতে হবে না।


কারণ নিরাপদ শৈশব কোনো বিলাসিতা নয়।

এটা প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1368 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27644। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4494
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
           যে রাতে শৈশব কেঁপে উঠেছিলো                     — রফিক আতা — দূরন্ত এক স্মৃতি। আবছা আ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
147 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কেন মনে পড়ে শৈশব       রফিক আতা কেন মনে পড়ে শৈশব, কেন মনে পড়ে কৈশর, কেন হৃদয়ে ব্যথা জ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
351 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফিরে আসার ঠিকানা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৪ আগস্ট ২০২৬ সেদিন বিকেল থেকে বৃষ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
46 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বড় ছেলে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ১৭ আগস্ট, ২০২৬ অভিকের বয়স তখন উনিশ। সেদিন স[...] বিস্তারিত পড়ুন...
53 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

নিশি: এভাবে আর কতজনকে প্রত্যাখ্যান করবি আশফি ? তোর এই আত্মঅহংকারের জন্য একদিন দেখবি কেউ তোর পাশে নেই।কেউ আর তোকে যেচে পড়ে প্রেম নিবেদন করতে আসবেনা? তুই সত্যি করে বলতো তুই কি কাউকে ভালোবাসিশ ?[...] বিস্তারিত পড়ুন...
117 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    40 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Md Nayeem sheikh

    2 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...