অসমাপ্ত শব্দের শহর
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ০৬-০৫-২০২৬
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে
শেষ সময়টা কেমন হবে
তা ভেবে নিয়েছি।
ঘরের ভেতর ডেটলের গন্ধ,
এক কোণে স্যালাইনের ফোঁটা—টুপ… টুপ…
পাশের বেডে কারও শুকনো কাশি
হঠাৎ থেমে যায়।
এইসবের মাঝেই গোধূলি নামে—
জানালার ফাঁক দিয়ে
সূর্য তার রঙ ঢেলে দেয়,
ধীরে না—একটু রুক্ষভাবে,
যেন সময় শেষ হওয়ার আগে
সব হিসাব মিটিয়ে দিতে চায়।
এক চোখে আকাশ—
আলোটা স্থির না, কাঁপছে,
গোধূলির রঙ চোখের ভেতর ঢুকে
হালকা জ্বালা করে।
অন্য চোখে তুমি—
না, শুধু তুমি না,
তোমার সাথে জড়িয়ে থাকা এই শহর,
হর্ন, ধোঁয়া, ভিড়—
হঠাৎই দূরের, নরম, প্রায় স্বপ্নের মতো।
তোমার ডালপালাগুলো ঝুঁকে পড়ে না,
তবু মনে হয়—ছুঁয়ে দেবে এখনই।
কোনো ফুল ঝরে না,
তবু কপালে একটা ঠাণ্ডা স্পর্শ
লেগে থাকে।
হাওয়া চুল উড়িয়ে দেয়—
ফেরাতে না,
শুধু মনে করিয়ে দেয়
আমি এখনো পুরোপুরি যাইনি।
কিন্তু শরীর আগে বুঝে ফেলে—
কোথাও একটা দরজা খুলে গেছে,
শব্দহীন, ভেতরের দিকে।
আমি সেখানে পা রাখি।
পেছনে রয়ে যায় আলো,
তুমি,
এই শহরের অসমাপ্ত শব্দগুলো—
আর তখন—
ফেরা কি সম্ভব?
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।