Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-২ সুরের ছোঁয়া

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (23,187 পয়েন্ট)   4 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প

গল্প-২ সুরের ছোঁয়াimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

২১ জুলাই, ২০২৬


সকালের নরম রোদে আয়ান যখন নতুন স্কুলের নীল ইউনিফর্ম পরে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল, ওর চোখে কোনো ভয়ের ছাপ ছিল না। মিনির সঙ্গে ঘটে যাওয়া সেই নীরব ঘটনার পর থেকে আমাদের বুকের ভেতর এক চিলতে নতুন আশার আলো জ্বলে উঠেছিল। মনে হয়েছিল, হয়তো এই রূপময় বাইরের পৃথিবীতেও ও নিজের একটা জায়গা ঠিক খুঁজে নেবে; চারপাশের মানুষের সঙ্গে আস্তে আস্তে মানিয়ে নিতে শিখবে।


কিন্তু স্কুলের প্রথম দিনটাই যে আমাদের এত বড় এক পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে, তা আমরা ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি।


ক্লাসরুমটা ছিল বেশ বড় আর আলো-বাতাসে ভরা। তবে ঘণ্টা পড়তেই দৃশ্যপট এক নিমেষে বদলে গেল। একসঙ্গে অনেক শিশুর শোরগোল, কাঠের বেঞ্চ হেঁচড়ানোর কর্কশ শব্দ, মাথার ওপর পুরোনো ফ্যানের একটানা ঘড়ঘড় আওয়াজ আর জানালার বাইরে গাড়ির কর্কশ হর্ন—সব মিলিয়ে ঘরের ভেতর এক অসহ্য কোলাহলের সৃষ্টি হলো।


অন্য শিশুদের কাছে এই শব্দগুলো খুব সাধারণ হতে পারে, কিন্তু আয়ানের কাছে তা ছিল না। অটিস্টিক শিশুদের অনুভূতি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র। ওর অতীব সংবেদনশীল মনের কাছে এই চেনা কোলাহলই তখন সহসা ধারালো কাঁটার মতো বিঁধতে লাগল।


কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওর ভেতরে ভয়ের তীব্র ঢেউ আছড়ে পড়ল। আয়ান দুই হাতে শক্ত করে কান চেপে ধরল। যন্ত্রণায় ওর ফর্সা মুখ লাল হয়ে উঠল; মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে ও এক ধরনের চাপা কাতরধ্বনি করতে লাগল। নিজেকে সামলাতে না পেরে ওর আকস্মিক ধাক্কায় বেঞ্চ থেকে বই, খাতা আর পেন্সিল বাক্স হুড়মুড় করে নিচে পড়ে ছড়িয়ে গেল।


ক্লাসের সবাই হতভম্ব হয়ে দৃশ্যটি দেখতে লাগল। আর পর মুহূর্তেই শুরু হলো ফিসফিসানি ও মৃদু হাসাহাসি। পাশ থেকে এক শিশু তো বেশ জোরেই বলে উঠল, "এ কেমন ছেলে রে! পাগল নাকি!"


শিক্ষকের মুখেও স্পষ্ট বিরক্তি ফুটে উঠল। প্রথম দিনেই একটা নতুন ছেলে এসে ক্লাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে, এটা তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি গম্ভীর গলায় বললেন, "এভাবে পড়াশোনা চালানো অসম্ভব। ওকে এখনই প্রিন্সিপালের কক্ষে নিয়ে যাও। এমন ছেলে এই স্কুলে চলবে না।"


পুরো ক্লাস যখন আয়ানের দিকে বিষাদময় আঙুল তুলেছে, সবাই যখন ধরে নিয়েছে প্রথম দিনেই ওকে অপমান সহ্য করে বেরিয়ে যেতে হবে, ঠিক তখনই এক অলৌকিক পরিবর্তন ঘটল।


একেবারে শেষ বেঞ্চে বসা একটি ছেলে, নাম অয়ন, শুরু থেকেই সবকিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। আর দশটি শিশুর মতো ও উপহাস করেনি, ভয়ও পায়নি। ও অনুধাবন করতে পেরেছিল যে আয়ান কাউকে বিরক্ত করার জন্য এমন করছে না; ও মূলত চারপাশের বিকট শব্দের যন্ত্রণা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য আকুল হয়ে ছটফট করছে।


অয়ন এক মুহূর্ত ভাবল। তারপর পকেট থেকে একটা সাদা ইয়ারপড বের করল।


কোনো তাড়াহুড়ো না করে, কোনো শব্দ না করে ও ধীর পায়ে আয়ানের দিকে এগিয়ে এল। খুব সতর্কতার সঙ্গে আয়ানের কান চেপে ধরা হাতের ফাঁক দিয়ে ইয়ারপডটি ওর কানে গুঁজে দিল। তারপর মুঠোফোনে একটা আলতো চাপ দিয়ে চালিয়ে দিল খুব মৃদু বেহালা আর পিয়ানোর সমন্বয়ে গড়া এক স্নিগ্ধ সুর।


এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড...


ক্লাসের সমস্ত কোলাহলের মাঝে আয়ানের কানে তখন শুধুই এক সুরময় ধারার বহমানতা। যেন চোখের পলকে চারপাশের সব কর্কশ শব্দ উধাও হয়ে এক পরম শান্তি নেমে এল।


আস্তে আস্তে আয়ানের শক্ত হয়ে থাকা হাত শিথিল হয়ে এল। কান থেকে হাত সরিয়ে ও বিস্ময় ভরা চোখে অয়নের দিকে তাকাল। ওর ঘন ঘন নিশ্বাস নেওয়ার গতি কমে এল; চোখের ভেতরের জমাট আতঙ্ক গলে গিয়ে সেখানে ফিরে এল প্রশান্তি। এক গভীর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ও শান্ত হয়ে বেঞ্চে বসে পড়ল।


পুরো শ্রেণিকক্ষ তখন এক নীরব স্তব্ধতায় মগ্ন। যে শিক্ষক একটু আগেও ওকে বের করে দিতে চেয়েছিলেন, তিনিও থমকে দাঁড়িয়ে রইলেন। সহপাঠীদের হাসাহাসি এক মুহূর্তে বন্ধ হয়ে গেল।


অয়ন মৃদু হেসে আয়ানের পাশের খালি জায়গাটায় এসে বসল। ওর কাঁধে আলতো করে হাত রেখে শান্ত সুরে বলল, "ভয় নেই, বন্ধু। আমি আছি তো। সব ঠিক হয়ে যাবে।"


সেদিন কোনো মহতী উপদেশ, কোনো জটিল থেরাপি বা কঠোর নিয়ম আয়ানের পৃথিবী বদলে দেয়নি। বদলে দিয়েছিল এক শিশুর প্রতি আরেক শিশুর স্বতঃস্ফূর্ত ও নিাদ সহমর্মিতা।


আমরা প্রায়ই মনে করি, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে সাহায্য করতে হলে অনেক বড় ডিগ্রির প্রয়োজন, অনেক জটিল ভাবনার প্রয়োজন। আসলে তা নয়। ওদের অব্যক্ত ভাষা বোঝার জন্য হৃদয়ের অনুভূতির চেয়ে বড় কোনো জ্ঞান হতে পারে না। ওদের জায়গায় দাঁড়িয়ে বিশ্বটাকে দেখার মতো একটি উন্মুক্ত মন থাকলে, সামান্য একটি ইয়ারপড আর একটুখানি আদুরে স্পর্শেই ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ গল্প লেখা হয়ে যায়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1148 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23187। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4277
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-১ আমাদের নীরব ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২১ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-২   যত্নের নামে নয়   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৮, জুন, ২০&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-১০   একাকীত্বের শান্তি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   যেদ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৯   হাসিটা কোথায় হারাল    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৮   শেষ সুযোগ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জুন, ২০২৬ “[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1718 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    85 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মাহাতাব হোসেন অপল

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...