কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
লেখার ধরণ: বিশ্লেষণধর্মী
পোস্টের তারিখ: ৪ নভেম্বর ২০২৫
ছোটবেলায় আমার দাদি বলতেন, “কালো বিড়াল রাস্তা পেরোলে দুর্ভাগ্য আসে।” আমি ভয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পরে বুঝেছি, বিড়ালটা শুধু খাবার খুঁজছিল।
কুসংস্কার এমনই—একটা ছায়া, যা আমরা নিজেরাই তৈরি করি, তারপর ভয় পাই।
আমাদের দেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ মানসিক সমস্যায় ভুগছে।
আমার পাড়ার রহিম চাচা—যিনি দিনরাত একা বসে থাকেন, কথা বলেন না—তাঁকে লোকে বলে “পাগল”। কিন্তু তিনি শুধু ডিপ্রেশনে আছেন।
চিকিৎসা নিলে সুস্থ হতে পারতেন। পরিবার লজ্জায় মুখ বন্ধ রেখেছে।
একবার আমার বোনের বন্ধু সুমি। রাতে ঘুম আসত না। মাথায় একই চিন্তা ঘুরত। মা বললেন, “তাবিজ পরো।”
সুমি পরল।
কিন্তু ঘুম এল না।
পরে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে গেল। দু’মাস ওষুধ আর কথা বলে সুস্থ হয়ে উঠল।
মা এখনো বলেন, “ওষুধে কী হলো? তাবিজেই ভালো হয়েছে।”
আমরা ভাবি, মানসিক রোগী মানে পথে ঘুরে বেড়ানো, চিৎকার করা।
কিন্তু না।
আমার অফিসের কলিগ ফারুক। সবসময় হাসে।
কিন্তু রাতে কাঁদে। কেউ জানে না। সে ভয় পায়—“লোকে পাগল ভাববে।” সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত মাত্র ১%।
কিন্তু আমরা সবাইকে এক চোখে দেখি।
একবার আমার চাচাতো ভাই। গায়েবি আওয়াজ শুনত। পরিবার ঝাড়ফুঁক করাল। অবস্থা খারাপ হলো।
পরে হাসপাতালে নিলে ডাক্তার বললেন, “আগে আনলে সুস্থ হতো।” দেশে মানসিক চিকিৎসক কম।
সেবা কম।
কিন্তু সবচেয়ে বড় বাধা—আমাদের মনের দেয়াল।
আমরা শরীরের ব্যথা লুকোই না।
মনের ব্যথা লুকোই।
আমি দেখেছি, একটা ছেলে। বাবা মারা যাওয়ার পর কথা বলা বন্ধ। লোকে বলল, “জিন লেগেছে।”
পীরের কাছে নিল। ছেলেটা আরও চুপ হয়ে গেল।
পরে কাউন্সেলিংয়ে গেল। আস্তে আস্তে কথা বলতে শুরু করল। এখন স্কুলে যায়।
কুসংস্কার একটা চর্মরোগের মতো।
চুলকায়।
ছড়ায়।
কিন্তু চিকিৎসা আছে।
শিক্ষা।
সচেতনতা।
পরিবার থেকে শুরু।
আমি আমার ছেলেকে বলি—
“ভয় পেলে জিজ্ঞেস কর।
বিড়াল দেখলে আদর কর।”
সে হাসে।
কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
না হলে আমরা নিজেদেরই আটকে রাখব।
আলোকিত পৃথিবী অপেক্ষা করছে।
শুধু একটা পা বাড়াতে হবে।
তথ্যসূত্র:
(১) শেয়ার বিজ নিউজ (সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩)
(২) কালের কণ্ঠ (০২ জানুয়ারি ২০২৩)
#কুসংস্কারমুক্ত #মানসিকস্বাস্থ্য #পাগলনয় #সচেতনতা #মোহাম্মদজাহিদহোসেন #enolej_idea
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।