Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বারান্দার নিস্তব্ধতা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (23,712 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বারান্দার নিস্তব্ধতাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প - ২৬ জুলাই, ২০২৬


রাত সাড়ে এগারোটা।


অভিক বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সারাদিনের ভ্যাপসা গরমের পর সন্ধ্যায় এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। এখন একটা ঠান্ডা বাতাস দিচ্ছে। টবের সন্ধ্যামালতী গাছটা সেই বাতাসে অল্প অল্প দুলছে।


কিন্তু অভিকের মন সেদিকে নেই।


নিচের ফাঁকা রাস্তায় দুটো শুকনো কুকুর খাবারের খোঁজে মাথা নিচু করে হাঁটছে। চারপাশের ফ্ল্যাটগুলোতে আলো জ্বলছে, কিন্তু কোথাও কোনো শব্দ নেই। একটা থমথমে ভয় যেন পুরো বাড়িটাকে চেপে ধরে আছে।


প্রায় এক মাস হলো ঢাকার ছন্দটা পুরোপুরি ভেঙে গেছে। জুনের শেষ থেকে বাজারে চাল, ডাল, তেলের জন্য হাহাকার পড়েছে। জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। শহরের অলিতে গলিতে অভাব। আর অন্যদিকে শহরের অন্য প্রান্তে এসি ঘরে বসে কিছু মানুষ কেবল মিটিং করছে, খাতায় কলমে নিয়ম বদলাচ্ছে। তাদের কোনো কথাই রাস্তার মানুষের পেট ভরাচ্ছে না।


"অভিক, এখনও বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছো? ভেতরে এসো।"


পেছন থেকে নিশি এসে দাঁড়াল। নিশির মুখের দিকে তাকাতেই অভিকের বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠল। মেয়েটার মুখ ফ্যাকাশে, চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। গত কয়েকদিন ধরে তাদের ঘরেও টান চলছে। আজ সারাদিনে দুটো শুকনো রুটি আর পানি ছাড়া কিছুই জোটেনি।


অভিক পেছনের অন্ধকার গলিটার দিকে আঙুল তুলে বলল, "নিশি, শুনতে পাচ্ছো?"


নিশি কান পাতল। প্রথমে বাতাসের শব্দ ছাড়া কিছুই শুনতে পেল না। তারপর একটু মনোযোগ দিতেই শুনল, পেছনের কাঁচা ঘরগুলো থেকে কয়েকটা বাচ্চার একটানা কান্না ভেসে আসছে। ক্ষুধার কান্না।


"বাচ্চাগুলো সেই বিকেল থেকে কাঁদছে," অভিকের গলা কেঁপে উঠল। "আমি বিকেল থেকেই শুনছি। বলো তো, কেউ শুনতে পাচ্ছে না কেন? সবাই কি শুনেও না শোনার ভান করছে?"


নিশি গ্রিলটা শক্ত করে ধরল। ক্লান্ত গলায় বলল, "কে শুনবে, অভিক? সবাই নিজের পরিবার নিয়ে বাঁচবে কীভাবে সেই চিন্তায় পাগল হয়ে আছে। ভয়ে সবাই নিজের ভেতর গুটিয়ে গেছে।"


"আমিও তো তাই করছি, নিশি!" অভিক দুই হাতে মুখ ঢেকে ফেলল। "আমার নিজের পেটেও ক্ষুধা। ওদের জন্য কিছু করতে পারছি না। এই অসহায় লাগাটা আর নিতে পারছি না। নিজেকে বাঁচাতে আমিও কানের ভেতর একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিচ্ছি। আর ঘরে বসে খাতার পাতায় কবিতা লিখছি। কী হবে এই কবিতা দিয়ে? কবিতা দিয়ে কি একটা বাচ্চার পেট ভরে?"


নিশি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর অভিকের হাতটা ধরল।


"কবিতা দিয়ে হয়তো পেট ভরে না, অভিক। কিন্তু কবিতা মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে পাশের মানুষটা না খেয়ে আছে। তুমি যা লিখছো, সেটা ভুল না। কিন্তু শুধু লিখলে হবে না।"


অভিক অবাক হয়ে তাকাল।


নিশি বলল, "আমাদের ঘরে আজকের জন্য যে চালটুকু আছে, তার অর্ধেকটা ওদের দিয়ে আসি? এক বেলার জন্য হলেও বাচ্চাগুলোর কান্না থামবে। আর কাল সকালে আমরা বিল্ডিং এর সবাইকে নিয়ে একবার কথা বলি। সবাই মিলে যদি এক মুঠো করে চাল দিই, তাহলে কয়েকটা দিন অন্তত ওই গলির মানুষগুলো খেতে পাবে।"


অভিকের চোখে প্রথমবারের মতো একটু আলো ফিরে এল। তার মনে হলো, এতক্ষণ ধরে সে বড় কোনো সমাধানের জন্য অপেক্ষা করছিল, অথচ সমাধানটা তার ঘরের ভেতরেই ছিল।


বড় মিটিং, বড় বড় নীতিবাক্য দিয়ে এই সংকট মিটবে না। এই সংকট মিটবে ছোট ছোট ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে।


সেই মুহূর্তে মেঘের আড়াল থেকে চাঁদটা বেরিয়ে এল। বৃষ্টি ভেজা কামিনী ফুল থেকে একটা মিষ্টি গন্ধ আসছে। বৃষ্টির পরের এই শান্ত সৌন্দর্য দেখে অভিকের বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল।


আগে এই সৌন্দর্যে তার হিংসা হতো। মনে হতো প্রকৃতি কত উদাসীন। আজ মনে হলো, প্রকৃতি উদাসীন নয়, প্রকৃতি বরং শিখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে সব ঝড়ের পরেও নিজেকে ধুয়ে মুছে আবার সুন্দর হয়ে উঠতে হয়।


অভিক ধীরে ধীরে ঘরে এল। টেবিলের ওপর ডায়েরিটা খোলা পড়ে আছে। পাতার ওপর তারিখ লেখা - ২৭ জুলাই, ২০২৫।


সে কলমটা হাতে তুলে নিল। বাইরের বৃষ্টি ভেজা বারান্দার দিকে তাকিয়ে সে লিখতে শুরু করল। আজ আর কোনো রূপক কবিতা নয়। আজ সে লিখবে কাল সকালে সে কী করবে, তার একটা স্পষ্ট পরিকল্পনা।


ডায়েরির পাতায় সে লিখল, "বেঁচে আছি। এবং কাল সকাল থেকে শুধু বেঁচে থাকব না, অন্যকে নিয়েও বাঁচার চেষ্টা করব।"


বাইরে তখন বৃষ্টি থেমে গেছে। বারান্দায় শুধু নিস্তব্ধতা আর কামিনী ফুলের গন্ধ পড়ে আছে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1174 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23712। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4451
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
অন্ধকারের দংশন মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ২৪ জুলাই, ২০২৬ রাত তখন শেষ প্রহর ছ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি পঞ্চম পর্ব: নতুন ভোর মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০২৬ ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি চতুর্থ পর্ব: আলোর স্পর্শ মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি তৃতীয় পর্ব: না-বলা কথা মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি দ্বিতীয় পর্ব: স্মৃতির উঠোন মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    3532 পয়েন্ট

    4 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    176 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2243 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    111 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    243 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...