Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

হাসপাতালের বিছানায়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
41 বার প্রদর্শিত
করেছেন (22,802 পয়েন্ট)   15 জানুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

হাসপাতালের বিছানায়

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | জানুয়ারি ১৬, ২০২৬


হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আমি বুঝেছিলাম -মৃত্যু সবসময় আসে না।

কখনো কখনো সে এসে পাশে বসে থাকে।

কিছু বলে না। শুধু তাকিয়ে দেখে—তুমি আর কতটা কমে যেতে পারো।


চোখ খুলেছিলাম। নাকি খুলে গিয়েছিল—আজও নিশ্চিত না।

আলোটা হঠাৎ ঢুকে পড়েছিল চোখের ভেতর। নরম ছিল না। ক্ষমাহীন।

সাদা ছাদটা আমার দিকে তাকিয়ে ছিল এমনভাবে, যেন আমাকে পরীক্ষা করছে।

এমন সাদা, যেখানে কোনো ছায়া নেই। আমার ভয়গুলোও না।


আমি নড়তে চাইনি। নড়তে পারিনি—এই কথাটা পুরো সত্য না। আসলে নড়ার প্রয়োজনটাই তখন ফুরিয়ে গিয়েছিল।


শরীরটা শুয়ে ছিল। আমি শরীরের ভেতরে ছিলাম না। আমি কোথাও মাঝখানে আটকে ছিলাম—শ্বাস আর নিঃশ্বাসের ফাঁকে।


নিঃশ্বাস নেওয়াটা তখন আর স্বাভাবিক কিছু না।

ওটা ছিল যান্ত্রিক। অনিচ্ছাকৃত। যেন কেউ আমার জায়গায় বসে বোতাম টিপে রেখেছে—এই শরীরটা এখনো চলবে।


বুকের ভেতরে ব্যথা ছিল না। ব্যথা থাকলে অন্তত বোঝা যেত—আমি আছি।

ওখানে ছিল শুধু একটা ভার,অদ্ভুত, অচেনা ভার।


সময় তখন থেমে গিয়েছিল। ঘড়ি ছিল, সময় ছিল না।


দিন আর রাত আলাদা করা যাচ্ছিল না।

শুধু একটানা অপেক্ষা।


কিসের জন্য অপেক্ষা—এই প্রশ্নটার উত্তর খোঁজার শক্তিও ছিল না। মনে হচ্ছিল, অপেক্ষাটাই এখন আমার পরিচয়।


হাসপাতালের বিছানায় মানুষ শুয়ে থাকে না।

ওখানে মানুষ ধীরে ধীরে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।


একটু নড়াচড়া করলে শরীর ব্যথা দিত। কিন্তু সেই ব্যথা কষ্ট দিত না। কষ্ট দেওয়ার মতো অনুভূতিই তখন আর অবশিষ্ট ছিল না। মনে হচ্ছিল—এই শরীরটা ভাঙছে না, ক্ষয়ে যাচ্ছে, নীরবে কেউ দেখছে না।


মাথার ভেতরে কোনো বড় চিন্তা ছিল না। কোনো নাটকীয় ভয়ও না।


শুধু একটা ভারী, ধূসর ক্লান্তি। বেঁচে থাকার দায়িত্বটা তখন বোঝার মতো ভারী হয়ে গিয়েছিল।

মনে হচ্ছিল—এই দায়িত্বটা আমি চাইনি। কেউ আমাকে জিজ্ঞেসও করেনি।


রাত হলে কিছু বদলাত না। শুধু অন্ধকারটা ঘন হতো। দিনের বেলা মানুষের শব্দে যে ফাঁকটা ঢাকা পড়ে থাকত, রাতে সেটা খুলে যেত।


শব্দ কমে গেলে ভেতরের শূন্যতাটা শোনা যেত।

তখন বোঝা যেত—আমি একা না, আমি ফাঁকা।


চোখ বন্ধ করলেই মুখ আসত। মায়ের মুখ,বাবার চোখ, কিছু পরিচিত মানুষ, শিশুর মতো হাত ধরার স্মৃতি।


বাবার মুখে সেই চুপচাপ অহংকার, যা শূন্যতায় আশ্রয় দিত।কিন্তু কোনো অনুভূতি আসত না।

ভালোবাসা না,আফসোস না, কিছুই না।


সব দেরি হয়ে যাওয়ার পর মানুষের মনে যে অনুভূতিটা আসে—ওটাও তখন আর ছিল না।

মনে হচ্ছিল, অনুভব করার সময়টাও পেছনে পড়ে গেছে।


কেউ এসে হাত ধরলে অদ্ভুত লাগত।

ভালো না। খারাপও না।


শুধু মনে হতো—এই স্পর্শটা এখন আর কিছু ঠিক করতে পারবে না। আমি আর ওই জায়গায় নেই, যেখানে হাত ধরা মানে ভরসা।


নার্সরা কথা বলত। ডাক্তাররা বলত, “স্টেবল।”

এই শব্দটার মানে আমি বুঝতাম—আমি নড়ছি না, তাই সমস্যা নেই।


কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি জানতাম—আমি স্থির না। আমি থেমে যাচ্ছি।


হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আমি বুঝেছিলাম—মানুষ সবসময় ভেঙে পড়ে না।

কখনো কখনো মানুষ ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যায়।

এত ধীরে, যে কেউ খেয়ালও করে না।


আজও হাসপাতালের গন্ধ পেলে বুকের ভেতরে কিছু একটা চুপ করে বসে পড়ে।


সাদা চাদর দেখলে মনে হয়—ওখানে আমার একটা অংশ পড়ে আছে,চোখ খোলা, শ্বাস চলছে।

কিন্তু কোনো দাবি নেই।


আমি জানি—আমি ওখান থেকে পুরোপুরি ফিরিনি।

আমি শুধু ছিলাম।


আর তখন, হঠাৎ চোখের কোণ ধুলোমাখা আলোতে চোখে পড়ে— বেডের বাইরের গ্লাসের পাশে দাঁড়িয়ে আছে বাবা।


প্যারালাইস্টে আক্রান্ত। লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে।

শুধু দুচোখের জল ঝরছে, কোনো শব্দ নেই।

কোনো ডাক নেই, শুধু জল।


একটি ভাঙা জল। যা আমার বুকের সাথে ধাক্কা মারে, যেন সেই জলের প্রতিটি ফোঁটা আমার মধ্যে গড়িয়ে ঢুকছে।


আমি চাইছিলাম চিৎকার করতে, চোখকে ঘুরিয়ে তাকাতে,কিন্তু পারিনি।


আমি শুয়ে আছি। আমার বুকের ভেতরে ওর উপস্থিতি ঝড় তুলছে, আর আমি নড়তে পারছি না।


হাত ধরার স্মৃতি ভেসে আসে।

বাবার শক্তি, বাবার নীরব প্রতীক্ষা।

এবার তা ভাঙা জলের মতো আমার বুক ভেঙে দিচ্ছে।


শ্বাস টানতে কষ্ট, নড়তে চেষ্টা করলে ব্যথা। সব মিলিয়ে আমি কেবল শুয়ে আছি, একটি ভাঙা বেদনার ঝড়ের মধ্যে।


আমি শুধু ছিলাম। আর এখনও—কিছু অংশ শুধু আছে।

কোথাও পড়ে আছে।

শ্বাস চলছে।

চোখ খোলা।


কিন্তু কেউ নিশ্চিত না—আমি আদৌ উঠে এসেছি কি না। আর আমার বাবার চোখগুলো— তারা এক ধরণের ঝড়, যা কখনো থামে না।


শুধু দাঁড়িয়ে থাকে,শুধু দেখা থাকে,শুধু বেদনা থাকে,শুধু জল থাকে।


#বাইপাসঅপারেশনেরপর #হাসপাতালেরবিছানায়

#হৃদয়বিদারকগল্প #নীরবযন্ত্রণা #বাস্তবজীবনেরগল্প #রোগীডায়েরি #বাংলাছোটগল্পimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1129 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22802। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3041
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
হাসপাতালের করিডোর   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৭ জুন, ২০২৬   ডাক্তারের কথ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একই বিছানায় দুটি দ্বীপ মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন গদ্যকবিতা ⋄৩০ নভেম্বর, ২০২৫ দুটি শর&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
474 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

*হাসপাতালের বেড*  বেড নম্বর 27। জানালার পাশে। সকালের রোদ এসে ময়নার মুখের উপর পড়ে। ময়নার বয়স 8। টাইফয়েড। 7 দিন ধরে এই বেডে। পাশের বেডে থাকে দাদু - 70 বছরের বুড়ো, পা কাটা। তার কোনো ছেলে-মেয়ে আসে না। ময়[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হাসপাতালের করিডোর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী | ফেব্রুয়ারি ০১,২০২৬ মন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
509 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হাসপাতালের ঝড় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্যকবিতা | জানুয়ারি ১৬, ২০২৬ হাসপাতালের বিছা&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
477 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    66 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাকিব মুসাব্বির

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...