Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প-০৪ মেয়েটার ব্যাগ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,421 পয়েন্ট)   14 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা।

গল্প-০৪

মেয়েটার ব্যাগimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

ছোট গল্প। ৭ আগষ্ট, ২০২৬



মেয়েটার স্কুল ব্যাগে বইয়ের চেয়ে সংসারের দায় বেশি থাকত।


তিথি ঘুম থেকে ওঠে ভোর পাঁচটায়। মা ওঠার আগেই উঠতে হয়। উনুনে আগুন দিতে হয়, ভাত বসাতে হয়, ছোট ভাইটাকে ঘুম থেকে তুলতে হয়। বাবা রাতের শিফটে গেছে, এখনও ফেরেনি।


ঘরে একটাই ঘড়ি। দেয়ালে ঝুলছে, কাঁটা একটু আস্তে চলে। তিথি মাঝে মাঝে সেদিকে তাকায়, স্কুলে যাওয়ার সময় হলো কি না।


মা অসুস্থ। তিন মাস ধরে পায়ে ব্যথা। হাঁটতে পারে, কিন্তু বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। ডাক্তার বিশ্রাম নিতে বলেছে। কিন্তু মা বিশ্রাম নিলে রান্না করবে কে, কাপড় কাচবে কে?


সেই ফাঁকটা তিথিই ভরে দেয়।


বয়স চৌদ্দ। ক্লাস নাইনে পড়ে। স্কুলের স্যার একদিন বলেছিলেন, মেয়েটা মন দিলে ভালো করবে। কিন্তু মনটা দেবে কোথা থেকে? রাতে বই খুলে বসলে চোখের সামনে অক্ষর থাকে, মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে সকালে কী রান্না হবে, ভাইয়ের ফি দেওয়া হলো কি না।


সেদিন সকালে একটু দেরি হয়ে গেল। মা শুয়ে থেকেই বলল, "তাড়াতাড়ি যা।"


তিথি ব্যাগটা কাঁধে তুলতে গিয়ে একটা বই বের করে দেখল। অঙ্কের হোমওয়ার্ক করা হয়নি। কাল রাতে বসেছিল, মাঝপথে ভাই ডাকল, তারপর আর হয়ে ওঠেনি।


সে বইটা আবার চুপচাপ ব্যাগে ঢুকিয়ে দিল।


স্কুলে ঢুকতেই স্যার জিজ্ঞেস করলেন, "হোমওয়ার্ক এনেছ?"


তিথি মাথা নামিয়ে বলল, "স্যার, হয়নি।"


"কেন হয়নি?"


কী বলবে ও? বলবে কাল রাতে ভাইয়ের জ্বর এসেছিল, মাথায় পানি দিতে দিতে রাত এগারোটা বেজে গিয়েছিল? একদিন বললে স্যার শুনবেন, প্রতিদিন বললে কতদিন শুনবেন?


তাই চুপ করে রইল।


বিকেলে বাড়ি ফিরে ব্যাগটা রেখেই রান্নাঘরে গেল। মা শুয়ে আছে। ভাই উঠোনে ঘুরছে। বাবা এখনও ফেরেনি।


বেগুন কুটতে বসল। পাশে রাখা অঙ্ক বইটার দিকে মাঝে মাঝে তাকায়। একটা অঙ্ক কিছুতেই মিলছে না। স্যার ক্লাসে বুঝিয়েছিলেন, সেদিন মাথাটা অন্য দিকে ছিল।


তিথির একটাই স্বপ্ন, ডাক্তার হবে।


ছোটবেলায় মা অসুস্থ হলে টাকার অভাবে ডাক্তারের কাছে যেতে পারত না। তখন থেকেই মনে মনে ঠিক করে রেখেছে, একদিন নিজেই ডাক্তার হবে, মায়ের চিকিৎসা নিজেই করবে।


কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবের মাঝখানে অনেকটা ফাঁক। সেই ফাঁকে আছে ঘরের কাজ, মায়ের ওষুধের হিসাব, ভাইয়ের পড়ার খরচ, বাবার ক্লান্ত মুখ।


রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে তিথি বই নিয়ে বসে। এই সময়টায় প্রায়ই কারেন্ট থাকে না। মোমবাতি জ্বালায়। মোমের আলোয় অক্ষরগুলো কাঁপে, চোখ জ্বালা করে। তবু পড়ে।


একদিন পাশের বাড়ির এক চাচি বলেছিল, "এত পড়ে কী হবে, বিয়ে তো দিতেই হবে।"


তিথি কিছু বলেনি। শুধু বইটা আরও একটু কাছে টেনে নিয়েছিল।


আরেকদিন মা চুপচাপ বলেছিল, "তোর জন্য কিছুই করতে পারলাম না রে মা।"


তিথি হেসে বলেছিল, "তুমি আছো, এটাই তো অনেক।"


কথাটা বলার সময় গলার ভেতর কাঁটা বিঁধছিল, তবু বলেছিল।


ওর স্কুল ব্যাগে বই আছে, খাতা আছে, পেন্সিল আছে। আর ভাঁজ করা একটা কাগজ আছে, যেটা ও কাউকে দেখায় না।


সেই কাগজে ও নিজের হাতে একটাই লাইন লিখে রেখেছে,


"আমি পারব।"

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1209 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24421। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4572
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মেয়েটার নতুন জামা    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৭ জুন, ২০২৬   ঈদের সকাল। ঘু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মেয়েটার স্বপ্ন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ মেহরিন চাকরিটা পেল।[...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০৩ টিনের ছাদ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। ৬ আগষ্ট[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০২ পুরোনো জুতোর সেলাই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০১ এক মুঠো ভাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। ৫ আগষ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    587 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    29 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    2 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...