Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প-০৩ টিনের ছাদ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (24,360 পয়েন্ট)   6 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা।

গল্প-০৩

টিনের ছাদimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

ছোট গল্প। ৬ আগষ্ট, ২০২৬



বৃষ্টি নামলেই তাদের সবচেয়ে বড় ভয়টা ফিরে আসে, ছাদটা এবার ভেঙে পড়বে না তো?


সন্ধ্যার আগেই আকাশ কালো হয়ে এলো। রেহানা রান্নাঘরে হাঁড়ি নামাচ্ছিল। বাইরে তাকিয়ে হাত থেমে গেল। মেঘের রং দেখলেই তার বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠে। আগে ছাদের দিকে তাকায়, তারপর অন্য সব দিকে। বর্ষা এলেই এই অভ্যাসটা ফিরে আসে।


রহিম একটু আগেই ঘরে ঢুকেছে। আজ কাজ ছিল, কিন্তু মজুরি বেশি জোটেনি। সে উঠোন থেকে পুরোনো পলিথিনটা টেনে এনে টিনের ফুটোয় গুঁজে দিল। জানে, এতে খুব বেশি আটকাবে না। তবু না করলে মনটা শান্ত হয় না।


রাত আটটা বাজতেই বৃষ্টি নামল।


প্রথমে টিনের ওপর টুপটাপ। তারপর হঠাৎ ঝমঝম শব্দ। ঘরের কোণ থেকে পানি পড়তে শুরু করল, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। রেহানা একটা বালতি এনে বিছানার পাশে রাখল। কিন্তু বৃষ্টি বাড়তেই বালতি সরানোর সময় পাওয়া গেল না। বিছানার মাঝখানটাই ভিজে গেল।


সাফিনের তিন দিন ধরে জ্বর। কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে ছিল। বৃষ্টির শব্দে উঠে বসে কাশতে লাগল। রেহানা ছুটে গিয়ে কপালে হাত রাখল। গা এখনও পুড়ে যাচ্ছে।


"মা," নীলা ডাকল। সাত বছরের মেয়ে, ঘরের এক কোণে পা গুটিয়ে বসে আছে। "বিছানা ভিজে গেছে।"


"এদিকে আয়," রেহানা বলল, "এখানে পড়বে না।"


বাইরে রহিম তখন দুই হাতে বাঁশের খুঁটিটা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। পুরো ভিজে গেছে। পা কাদায় ডুবে যাচ্ছে। ছাড়তে পারছে না, ছাড়লেই টিনটা উড়ে যাবে। তার মাথায় তখন একটাই চিন্তা, রাতটা কোনোমতে পার হলেই হলো।


ঘরের ভেতর বিছানা টেনে সরানো হলো। যেটুকু শুকনো জায়গা পাওয়া গেল, সেখানে তিনজন গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বসল। ওষুধ নেই, দোকান বন্ধ। বাইরে রাস্তায় হাঁটু সমান পানি।


রেহানা সাফিনের পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। কাশি থামছে না। মনে মনে বলল, কাল সকাল হলেই ডাক্তারের কাছে যাবে, যেভাবেই হোক।


অনেক রাতে বৃষ্টি একটু ধরল। রহিম ভেতরে এলো। জামা থেকে পানি ঝরছে। মেঝেতেই বসে পড়ল। কোনো কথা বলল না। শুধু অনেকক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল।


তারপর আস্তে বলল, "কাল একটা বড় পলিথিন কিনতে হবে।"


রেহানা জানে এই কথার মানে কী। কাল কাজ পেলে কিনবে। না পেলে এই কথাটাই আরেকটা রাত পার করে দেবে।


সে শুধু বলল, "হ।"


ভোরের দিকে বৃষ্টি থামল। মেঝেতে তখনও পানি জমে আছে। বিছানার এক পাশ ভেজা। সাফিন কখন ঘুমিয়ে পড়েছে।


আলো ফুটলে রেহানা উঠল। বাইরে তাকিয়ে দেখল, উঠোনে কাদা থকথক করছে, পাশের ঘরের টিনের একটা অংশ ভেঙে পড়ে আছে।


ভেজা বিছানাটা টেনে দরজার কাছে আনল। রোদ উঠলে মেলে দেবে।


রহিম মুখে পানি দিয়ে বেরিয়ে গেল। নীলা ঝাড়ু হাতে মেঝের পানি ঠেলছে। এই বয়সেই কাজটা শিখে গেছে। এমন ঘরে বড় হলে এমনিই হয়।


রেহানা সাফিনকে কোলে তুলে নিল। রাস্তায় এখনও কাদা, তবু পা বাড়াল।


এই ঘরটা দুর্বল। প্রত্যেক বর্ষায় প্রশ্ন জাগে, এবার টিকবে তো? তবু এখানেই তাদের রাত কাটে। এখানেই সকাল হয়। এখান থেকেই আবার সব শুরু হয়।


একটা নিরাপদ ছাদ, একটু শুকনো মেঝে। এর বেশি তো কিছু চাওয়ার নেই তাদের।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1206 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24360। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4571
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ফুটো টিনের নিচে আলো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প ১৭ জুলাই, ২০২৬ অভিকের ঘরে এখন আর &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
#তুমি_অনিবার্য পর্ব: ১১ লেখনি: ইসরাত জাহান  বৃষ্টি থেমেছে অনেক রাতে, কিন্তু রায়বা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
167 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০২ পুরোনো জুতোর সেলাই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০১ এক মুঠো ভাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। ৫ আগষ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বৃদ্ধাশ্রমে জমে থাকা অসমাপ্ত গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ০২ আগষ্ট,  ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    526 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    26 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    2 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...