Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি পর্ব–১০ : শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (23,023 পয়েন্ট)   4 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি  

পর্ব–১০ : শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন


"শেষে বুঝলাম, সম্পর্কের যুদ্ধে কেউ জেতে না। কেউ শুধু একটু কম হারে।"


পাঁচ বছর।


সময় স্রোতের মতো। অনেক কিছু ভাসিয়ে নেয়, ধুয়ে দেয়। কিন্তু কিছু দাগ পাথরে খোদাই হয়ে যায়। মোছে না।


অভিকের চুলে এখন রুপোলি রেখা। প্রমোশন হয়েছে, কেবিন হয়েছে, ভিজিটিং কার্ডে ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ লেখা।


তবু সকাল ছ’টায় অ্যালার্ম বাজলে সে-ই ওঠে। নিজের জন্য চা, মেয়েদের জন্য টোস্ট। ছুটির দিনে তিনজন মিলে ধানমন্ডি লেকে হাঁটতে যাওয়া, কাচ্চি খাওয়া, বইমেলায় ঘোরা—এটাই এখন সংসার।


সংসারটা আগের মতো না। তবু সংসার।


মেঘলা এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ইংরেজি সাহিত্য। চোখে চশমা, কাঁধে ব্যাগ, কথায় যুক্তি। মিশি কলেজে উঠল এই বছর। ছবি আঁকে, কবিতা লেখে, বাবার মতো চুপচাপ।


দুজনেই বড় হয়েছে। নিজের জুতো নিজে বাধে, নিজের পথ নিজে ঠিক করে।


কিন্তু কিছু মুহূর্তে ওরা থমকে যায়।


বন্ধুর বাসায় গিয়ে যখন দেখে, মা ভাত বেড়ে দিচ্ছে, বাবা পাশে বসে পেপার পড়ছে—মেঘলা দুই সেকেন্ড চুপ করে থাকে। মিশি আড়চোখে তাকায়। কেউ বোঝে না। কিন্তু ওরা জানে, বুকের ভেতর কোথায় লাগে।


নিশিও থেমে থাকেনি।


একটা এনজিওতে কাজ করে। ব্যস্ত রাখে নিজেকে। মেয়েদের জন্মদিনে প্রথম ফোনটা তার। পরীক্ষার আগের রাতে মেসেজ—“রিল্যাক্স। তুই পারবি।” মিশির জ্বর হলে অফিস ফেলে ছুটে আসে থার্মোমিটার হাতে।


মা হওয়ার দায়িত্ব থেকে সে একদিনও পালায়নি।


তবু রাতগুলো খালি।


ড্রয়ারে রাখা পুরোনো অ্যালবামটা মাঝে মাঝে বের করে। কক্সবাজার, সাজেক, মেঘলার ক্লাস ফাইভের রেজাল্টের দিন—চারজনের হাসি।


ছবিতে হাত বুলিয়ে আবার তুলে রাখে। কারণ সে জানে, ফ্রেমে ফেরা যায়। সময়ে ফেরা যায় না।


অভিক আর নিশি এখন কী?


স্বামী-স্ত্রী না। শত্রুও না।


দুইজন সহ-অভিভাবক। মিশির কলেজ ফর্ম ফিলাপ, মেঘলার টিউশন ফি, ডাক্তার—ফোনে কথা হয়। দরকারে দেখা হয়।


দোষারোপ নেই। খোঁচা নেই।


কারণ দুজনেই বুঝে গেছে, কাটা ঘায়ে নুন দিলে ঘা শুকায় না, শুধু জ্বালা বাড়ে।


একদিন বিকেল। মিশির কলেজে ভর্তি উপলক্ষে ছোট আয়োজন। বাসায় পোলাও, রোস্ট, পায়েস।


চারজন এক টেবিলে। অনেকদিন পর।


খেতে খেতে মিশি হঠাৎ হেসে বলল, “জানো, ক্লাস ফাইভে থাকতে আমি রোজ দোয়া করতাম—আল্লাহ, কাল সকালে যেন উঠে দেখি সব ঠিক হয়ে গেছে। মা আবার রান্নাঘরে, বাবা পেপার পড়ছে।”


কেউ হাসল না।


মেঘলা প্লেটের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমিও। কিন্তু একদিন বুঝলাম, কিছু দোয়া কবুল হয় না। কারণ আমরা নিজেরাই সেটা নষ্ট করে ফেলি।”


নিশির গলায় ভাত আটকে গেল। পানি খেল।


অভিক জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। রোদ মরে আসছে।


কিছু স্বপ্ন থাকে, যেগুলো শুধু শৈশবেই দেখা যায়। বড় হলে সেগুলো আর মানায় না।


খাওয়া শেষে মেঘলা বারান্দায় গেল। অভিক পাশে গিয়ে দাঁড়াল।


“বাবা,” মেঘলা বলল। গলাটা শান্ত, কিন্তু ভারী। “একটা কথা বলি?”  

“বল মা।”  

“আমি যদি কখনো সংসার করি... আমি একটা জিনিস করব না।”  

“কী?”  

“চুপ করে থাকব না। রাগ হলে বলব। কষ্ট হলে বলব। একা লাগলে বলব। কারণ আমি দেখেছি, না বলা কথাগুলো কীভাবে মানুষকে শেষ করে দেয়।”


অভিক মেয়ের মাথায় হাত রাখল। তার চোখে পানি এল না। বুকে একটা শান্ত নদী বয়ে গেল।


এত বছরের রক্তক্ষরণ তাহলে বৃথা যায়নি। অন্তত একজন শিখেছে—সম্পর্ক মানে শুধু ভালোবাসা না। সম্পর্ক মানে সময়মতো সত্যি কথা বলার সাহস।


সম্মান। বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসটা রোজ একটু একটু করে যত্ন করা। কারণ ভাঙতে এক সেকেন্ড লাগে, গড়তে জীবন লেগে যায়।


সূর্য ডুবছে।


আকাশ কমলা, বেগুনি, তারপর ধীরে ধীরে কালো।


চারজন মানুষ বারান্দায় দাঁড়িয়ে। এক আকাশের নিচে। কিন্তু চারটা আলাদা ছায়া।


তারা এক হয়নি। আর হবেও না।


তবু তারা শিখেছে—ভেঙে গেলেও ভদ্রতা রাখা যায়। ক্ষমা করা যায়। নিজের সন্তানের জন্য নিজের ইগো সরিয়ে রাখা যায়।


কিন্তু কিছু ক্ষতি চিরস্থায়ী।


অভিক হারিয়েছে নিশ্চিন্তে ঘুম।  

নিশি হারিয়েছে ‘বাসা’ নামের শব্দটা।  

মেঘলা আর মিশি হারিয়েছে সেই শৈশব, যেখানে মা-বাবা মানে ছিল একটা শব্দ, দুটো নয়।


কোনো আদালত, কোনো থেরাপি, কোনো সময় এই ক্ষতি ফেরত দিতে পারবে না।


এই সত্যটা মেনে নিয়েই তাদের বাঁচতে হবে।


কারণ শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি।


শুধু সবাই কিছু না কিছু হেরেছে। কেউ বেশি, কেউ কম।


— সমাপ্ত —

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1140 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23023। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4262
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৮ : ক্ষমা চাইলেই কি সব ঠিক হয়ে যায়?   মোহাম্মদ জাহিদ হো&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৭ : যে স্বপ্নের জন্য সব হারিয়েছিল    মোহাম্মদ জাহিদ হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৬ : একা বাবার সংসার   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন "নিজের কষ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৫ : বিচ্ছেদের কাগজে সই   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন "একটা [...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1554 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    77 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. মাইদুল ইসলাম মুকুল

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...