নীরব মানুষটার শেষ সীমা
পর্ব–৬ : যে পুরুষটা কাঁদতে পারেনি
একটি ধারাবাহিক গল্প
লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
১০ জুলাই, ২০২৬
“ডিভোর্সের দিনও অভিক কাঁদেনি। কারণ সে অনেক আগেই ভেঙে পড়েছিল।”
যেদিন কাগজে শেষ সইটা হলো, আশপাশের সবাই অভিকের দিকে তাকিয়েছিল।
কেউ হয়তো ভেবেছিল, এখন সে কাঁদবে।
কেউ হয়তো ভেবেছিল, অন্তত একবার ভেঙে পড়বে।
কিন্তু কিছুই হলো না।
অভিক শুধু কলমটা টেবিলে রেখে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
মুখে কোনো রাগ নেই।
অভিমানও নেই।
শুধু এক ধরনের ক্লান্তি।
যেন অনেক দূর হেঁটে আসা একজন মানুষ।
বাইরে বেরিয়ে রাকিব বলল,
“কেমন লাগছে?”
অভিক কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে শুধু বলল,
“জানি না।”
সত্যিই জানত না।
কারণ কষ্টটা সেদিনের ছিল না।
অনেক দিনের।
একদিনে কেউ এতটা ফাঁকা হয়ে যায় না।
দিনের পর দিন নিজের কথা চেপে রাখতে রাখতে...
নিজের ইচ্ছেগুলো গিলে ফেলতে ফেলতে...
নিজের কষ্টটাও একসময় আর আলাদা করে টের পাওয়া যায় না।
বাড়ি ফিরে আলমারির দরজা খুলল অভিক।
কোণায় পড়ে থাকা গিটারটা চোখে পড়ল।
হাতে তুলে আবার রেখে দিল।
আজও বাজানোর ইচ্ছে হলো না।
কিছু জিনিস ভাঙে শব্দ করে।
কিছু জিনিস ভাঙে একদম নীরবে।
মানুষের মনও তেমন।
ছোটবেলা থেকে অভিক একটা কথাই শুনে এসেছে—
“ছেলেরা কাঁদে না।”
তাই হয়তো সে কাঁদতে শেখেনি।
অথবা...
এত দিন ধরে নিজের ভেতরের কান্নাটাকে চাপা দিতে দিতে চোখের পানিটাও শুকিয়ে গেছে।
সেদিন রাতে রাকিব আবার ফোন করল।
“দোস্ত, যদি কথা বলতে ইচ্ছা করে, ফোন দিস।”
অভিক শুধু বলল,
“আচ্ছা।”
ফোন কেটে অনেকক্ষণ অন্ধকার ঘরে বসে রইল।
প্রথমবার তার মনে হলো...
চুপচাপ সব সহ্য করাটাই হয়তো শক্ত হওয়া না।
কখনো কখনো নিজের কষ্টের কথাটাও কাউকে বলতে পারা সাহসের কাজ।
কিন্তু সেই সাহসটা তার খুব দেরিতে এসেছে।
চলবে...
পাঠকের কাছে প্রশ্ন:
পুরুষদেরও কি নিজের কষ্ট, ভয় আর দুর্বলতার কথা খোলাখুলি বলা উচিত? নাকি আমাদের সমাজ এখনও তাদের শুধু শক্ত থাকার ভূমিকাতেই দেখতে চায়? আপনার মতামত জানাতে পারেন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।