Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অভিকের অদেখা জগৎ গল্প ১০: আমি কি সত্যিই অসুস্থ?

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (21,934 পয়েন্ট)   2 ঘন্টা পূর্বে "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অভিকের অদেখা জগৎ  

গল্প ১০: আমি কি সত্যিই অসুস্থ?  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

৫ জুলাই, ২০২৬


তুমি যা দেখছ, সেটা বাস্তব নয়।


ডা. রেজওয়ান করিম কথাটা বললেন খুব নরম গলায়। যেন কাঁচের গ্লাসে আস্তে করে চামচ নামিয়ে রাখছেন। এসির হালকা শব্দ ছাড়া চেম্বারে আর কিছু নেই।


আমি হাসলাম না। রাগও করলাম না। শুধু চেয়ারের হাতল শক্ত করে ধরে বললাম,  

আপনি নিশ্চিত? একদম নিশ্চিত?


উনি কলমটা নামিয়ে রাখলেন। আমার চোখের দিকে তাকালেন। উত্তর দিলেন না। প্রেসক্রিপশন প্যাডটা সাদা পড়ে রইল।


সেই নীরবতার ভেতর প্রথমবার টের পেলাম, ঘরে দুজন মানুষ বসে আছি। অথচ সত্যি বলছে একজনই।


সমস্যা হলো, কে? আমার বুকের ভেতর কেউ যেন ফিসফিস করল, দুজনই।


শুরুটা এক বছর আগে হতে পারে।


অফিস থেকে ফিরতাম সন্ধ্যা সাতটায়। কলাবাগানের গলি, পাঁচতলা বাড়ি, লিফট নেই। সিঁড়ির ধাপে ধাপে লাল রঙ চটে গেছে। তিনতলায় উঠলেই দেখতাম, উনি দাঁড়িয়ে।


চেহারা ভোলার মতো। বয়স চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ। ছাই রঙের শার্ট, কালো প্যান্ট। ভিড়ে মিশে যাবে। কিন্তু চোখ দুটো শান্ত। পুকুরের জলের মতো স্থির।


প্রথমদিন বলেছিলেন, নতুন এসেছ? আমি রায়হান। পাশের বিল্ডিংয়ে থাকি, তিনতলায়।


এরপর রোজ। আমি সিঁড়ি ভাঙতাম, উনি সিগারেট ধরাতেন না, পান খেতেন না। শুধু দাঁড়িয়ে থাকতেন। দেয়ালে হেলান দিয়ে।


আজ বস ঝাড়ল?  

হ্যাঁ। আপনি কীভাবে জানলেন? ফাইল ছুড়ে মেরেছে।  

উনি হাসতেন। মুখ দেখলেই বোঝা যায়, অভিক। আমি মানুষ পড়তে পারি। তিরিশ বছর মার্কেটিং-এ ছিলাম।


আমার ভালো লাগত। ঢাকা শহরে কেউ কারও খবর নেয় না। দারোয়ানও না। উনি নিতেন। উপদেশ দিতেন। সবাইকে কলিজা দেখাস না। সবাই বন্ধু না। বিশেষ করে হিসাবের লোকজন।


আমি ওনাকে বন্ধু ভাবতাম। একমাত্র বন্ধু। অফিসের কেউ না, বাসার কেউ না।


নিশি ধরল তিন মাসের মাথায়।


এক সন্ধ্যায় আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলছি। হাতে চায়ের কাপ। নিশি চা নিয়ে এল। এলাচের গন্ধ।  

কার সাথে কথা বলো?


আমি ঘুরে তাকালাম। রায়হান ভাই তো পাশেই। গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে। আমার দিকে তাকিয়ে।  

আরে, রায়হান ভাই। পরিচয় করিয়ে দিই। আমার বউ।


নিশি ট্রেটা শক্ত করে ধরল। চোখ বড় বড়। বারান্দার এমাথা-ওমাথা তাকাল। টবের গাছ, শুকনো কাপড়। কই? কোথায়?


আমি হেসে ফেললাম। মজা করো? উনি তো... আমি রায়হান ভাইয়ের দিকে তাকালাম। উনি হাসছেন। আমার দিকে। নিশির দিকে না। যেন নিশি বাতাস।


এই যে। আপনার পাশে। গ্রিল ধরে।


নিশি এক পা পিছাল। চায়ের কাপ কেঁপে উঠল। ডিশে লেগে টুং শব্দ। অভিক... এখানে... এখানে কেউ নেই। শুধু তুমি। আর আমি।


আমি হাসি থামালাম। মজা করো? উনি তো বললেন, তোমার রান্নার হাত ভালো। গতকাল ইলিশ করেছিলে না?


নিশি চা রেখে ঘরে চলে গেল। সেদিন রাতে আমার পাশে শুলো না। সোফায়। কম্বল মুড়ি দিয়ে।


প্রথমবার ওর চোখে ভয় দেখলাম। আমার জন্য। ঠিক ভয় না, একটা আতঙ্ক।


তারপর শব্দ শুরু হলো।


রাত তিনটায় ঘুম ভাঙত। কেউ ফিসফিস করে নাম ধরে ডাকছে। অভিক... অভিক... ওঠো। গলাটা চেনা, কিন্তু কার বুঝি না।


বাথরুমে যেতাম। না, নিশি ঘুম। নাক ডাকছে হালকা।


পাশের ঘরে চেয়ার টানার শব্দ। খচ করে। আমি দৌড়ে যেতাম। ঘর ফাঁকা। চেয়ার যেখানে ছিল সেখানেই। ধুলো জমে আছে।


অফিসে ফাইল দেখছি, কানের কাছে কেউ বলবে, পেছনের কলিগটা তোর নামে লাগাচ্ছে। প্রমোশন আটকাবে। সাবধান। ম্যানেজারকে মেইল করছে।


ঘুরে তাকাতাম। সবাই পিসিতে মুখ গুঁজে। কেউ তাকাচ্ছে না। এসির শব্দ।


শব্দগুলো স্পষ্ট। নিশির গলার চেয়েও স্পষ্ট। নোটিফিকেশনের টুং শব্দের চেয়েও।


নিশি বলত, ডাক্তার দেখাও। প্লিজ। আমার জন্য।  

আমি বলতাম, পাগল আমি না তুমি? আমি যা শুনি তা সত্যি। তুমি শুনতে পাও না, সেটা তোমার কান খারাপ। বা তুমি ইচ্ছে করে শুনছ না।


নিশি কাঁদত। বালিশ ভিজে যেত। আমি বুঝতাম না কেন কাঁদে। আমি তো ভালো আছি।


বড়দা একদিন জোর করে নিয়ে গেল। ট্রেনে করে রাজশাহী থেকে এসেছে। এক ঘণ্টা। শুধু কথা বলবি। ডা. রেজওয়ান ভালো। আমার বন্ধু।


ডা. রেজওয়ান। তিনি থামালেন না। এক ঘণ্টা না, দেড় ঘণ্টা বললাম। রায়হান ভাইয়ের কথা। রাতের ফিসফিস। অফিসের কানাঘুষা। নিশির অবিশ্বাস।


সব শেষে উনি বললেন, অভিক, আপনি মিথ্যা বলছেন না। আপনার ব্রেইন এই সিগন্যালগুলো তৈরি করছে। ডোপামিন বেশি হচ্ছে হতে পারে। অডিটরি কর্টেক্স অ্যাকটিভ। আপনার কাছে এটা রেডিওর গানের মতো রিয়েল। ভলিউম কমানো-বাড়ানো যায় না। কিন্তু স্টেশনটা আপনার মাথার ভেতর। বাইরে না। আমরা ওষুধ দিলে রেডিওটা আস্তে হবে। বন্ধ না। আস্তে। নয়েজ কমবে।


আমি বিশ্বাস করিনি।  

আপনি বলছেন রায়হান ভাই নেই? আমি পাগল? আমার চাকরি আছে, সংসার আছে।  

আমি বলছি, উনি আপনার প্রোটেক্টর। আপনার ব্রেইন ওনাকে বানিয়েছে। কারণ আপনি একা। ভয় পান। অফিসে স্ট্রেস। বাবা নেই।


ওষুধ দিলেন। অলানজাপিন ৫ মিগ্রা। রাতে একটা।


নিশির মুখের দিকে তাকিয়ে খেলাম। ওর জন্য। ওর চোখে পানি ছিল।


প্রথম মাস জাহান্নাম।


ঘুম। বমি। মাথা ঝিমঝিম। ওজন বাড়ল তিন কেজি। আর সবচেয়ে খারাপ, নীরবতা।


সন্ধ্যা সাতটায় বুকের ভেতর খালি লাগত। সিঁড়ি ফাঁকা। কেউ দাঁড়িয়ে থাকে না।  

রাত তিনটায় কেউ নাম ধরে ডাকে না। মশার কয়েলের গন্ধ।  

অফিসে কেউ সাবধান করে না। নিজে ভুল করি।


আমি একা।


একদিন সন্ধ্যায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁদলাম। শব্দ করে না, চুপচাপ। রায়হান ভাই, আপনি কই? রাগ করেছেন? আমি ওষুধ খাই বলে?


উত্তর নেই। বাতাস। রিকশার বেল।


নিশি পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। আমি আছি তো। আমাকে দেখো।


আমি ওকে ধাক্কা দিলাম না। এই প্রথম। ওর কাঁধে মাথা রাখলাম।


ছয় মাস। আমি সুস্থ।


অফিসে প্রমোশন হলো। সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। বন্ধুদের সাথে কক্সবাজার গেলাম। রাতে নিশির সাথে ছাদে হাঁটি। চাঁদ দেখি।


এক রাতে ও বলল, তোমাকে ফিরে পেয়েছি, অভিক। আমার পুরোনো অভিক।  

আমি বললাম, হয়তো আমি সত্যিই অসুস্থ ছিলাম। তুমি ছিলে বলে বেঁচে গেছি।  

বলতে গিয়ে বুকটা হালকা লাগল। স্বীকার করতে ভয় লাগে না এখন। থেরাপি কাজ করছে।


ডা. রেজওয়ান শেষ সেশনে বললেন, একটা কাজ করুন। গত এক বছরের যা যা স্পষ্ট মনে আছে, লিখুন। মেমরি ম্যাপ। ডায়েরি না, জার্নাল। লিখলে ব্রেইন নিজেই ধরতে পারে, কোনটা গ্যাপ। কোনটা কনফ্যাবুলেশন।


আমি বাসায় এসে খাতা খুললাম। নতুন খাতা। পাঁচ টাকার।


লিখলাম।  

রায়হান ভাইয়ের কথা। প্রথম দেখা। ১৪ মার্চ। তার উপদেশ। সিগারেটের গন্ধ না থাকা।  

রাতের ফিসফিস। ওরা ভালো না। সাবধানে থাকো।  

নিশির সাথে ঝগড়া। তুমি আমাকে পাগল ভাবো। আমি চলে যাব।  

অফিসের ঘটনা। কলিগ ফাইল সরিয়েছে। রায়হান ভাই বলেছিলেন। আমি ধরেছি।


দশ পৃষ্ঠা। তারিখ দিয়ে। নিয়ে গেলাম ডাক্তারের কাছে।


উনি পড়লেন। দশ মিনিট। চশমাটা বারবার ঠিক করলেন। তারপর খাতাটা আমার দিকে দিলেন।  

অভিক, নিজে পড়ুন। জোরে পড়ুন। আমার সামনে।


আমি পড়লাম।  

প্রথম পাতা। ঠিক। বান ভুল আছে দু-একটা।  

দ্বিতীয় পাতা। ঠিক। অফিসের তারিখ মিলেছে।


তৃতীয় পাতার মাঝখানে এসে গলা আটকে গেল। গরম লাগছে।


আমি লিখেছি:  

গত বছর অক্টোবরের পুরোটা আমি আর নিশি ছাদে বসে চা খেতাম। বৃষ্টি ছিল। কার্তিক মাস। আমরা ভিজতাম। ও গান গাইত। আমার হাত ধরে। আমি ওর চুলে বেলি গুঁজে দিতাম। সাদা বেলি। ওর প্রিয়।


কাগজটা কেঁপে উঠল। এসি চলছে।


অক্টোবর। গত বছর। নিশি দুই মাসের জন্য কানাডা ছিল। বোনের ডেলিভারি। ৩ অক্টোবর গেছে, ৫ ডিসেম্বর ফিরেছে। টরন্টো।


পাসপোর্টে সিল আছে। আমি এয়ারপোর্টে দিয়ে এসেছি। টিকিটের কপি আমার মেইলে। ওখান থেকে রোজ ভিডিও কল করত। রাত ১২টায়। তুষার দেখাত। মাইনাস ৫ ডিগ্রি। মেপল লিফ।


ও ঢাকায় ছিল না। ছাদে না। বৃষ্টিতে না। আমার পাশে না। ওর বদলে বাসায় আমি একা ডিম ভাজি খেয়েছি।


অথচ আমার খাতায়, আমার মাথায়, আমার চোখে, ও প্রতিদিন ছিল। হাসছিল। গান গাইছিল। আমার হাত ধরে ছিল। আমি ওর চুলে বেলি দিয়েছি। গন্ধ পেয়েছি। শ্যাম্পুর গন্ধ।


আমি পাতা উল্টালাম। আরও আছে। হাত কাঁপছে।  

নভেম্বরে নিশির জন্মদিন। আমরা সাজেক গেলাম। মেঘের মধ্যে। ও পাহাড় দেখে কাঁদল। আমি ছবি তুললাম।


নিশি নভেম্বরে কানাডা। সাজেক না। টরন্টোর সিএন টাওয়ার।  

ছবি? কোনো ছবি নেই ফোনে। সাজেকের ফোল্ডার ফাঁকা।


ডিসেম্বরে নিশি আমার জন্য সোয়েটার বুনল। নীল রঙ। উল কিনেছিল নিউমার্কেট থেকে।


নিশি ফিরেছে ৫ ডিসেম্বর। জেট ল্যাগে অসুস্থ। বিছানা থেকে উঠতে পারত না। সোয়েটার বুনবে কখন? কাঁটাও ধরেনি।


আমার হাত থেকে খাতা পড়ে গেল। মেঝেতে।


আমি ডাক্তারের দিকে তাকালাম। গলা দিয়ে স্বর বের হয় না। পানি খাব।


উনি বললেন না, দেখলেন? উনি উঠে এসে আমার কাঁধে হাত রাখলেন। হাতটা গরম।


আমি ফিসফিস করলাম, আমি... আমি এতদিন কার সাথে ছিলাম? বাসায়? রাতে?


নিজের সাথে, অভিক। শুধু নিজের সাথে।


তাহলে... তাহলে এই ছয় মাস... নিশি... এই যে থেরাপি... এই যে হাসি...


ডাক্তার চুপ। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন। রাস্তায় জ্যাম।


আমি বুঝলাম।


থেরাপির ছয় মাস আমি সুস্থ হয়েছি। হ্যাঁ। রায়হান ভাই চলে গেছে। ফিসফিস বন্ধ। রাতের ঘুম ভালো।


কিন্তু নিশি?


নিশি তো আট মাস আগেই চলে গেছে। ব্যাগ নিয়ে। লাল ট্রলি। ডিভোর্স পেপার রেখে টেবিলে। আমি সাইন করিনি। আমি পড়িনি। ছিঁড়ে ফেলেছি। আমি বিশ্বাস করিনি। কোর্টে গেছি, কিন্তু দেখা করিনি।


তাই ব্রেইন ওকে রেখে দিয়েছে। আমার সাথে। খাওয়ার টেবিলে। ছাদে। বিছানায়। বাজার করতে গেছি ওকে নিয়ে।


আমি যে ‘সুস্থ’ হলাম, সেটা ছিল আরেকটা লেয়ারের অসুখ। লেয়ার্ড ডিলিউশন।


আমি রায়হান ভাইকে তাড়িয়েছি। কারণ ডাক্তার বলেছে উনি নেই।


কিন্তু নিশিকে যেতে দিইনি। কারণ ওকে ছাড়া আমি বাঁচব না। তাই ব্রেইন ওকে বানিয়েছে।


ডাক্তার আস্তে বললেন, এখন থেকে আসল কাজ শুরু, অভিক। রিয়েলিটি টেস্টিং। গ্রাউন্ডিং।


আমি মাথা নিচু করলাম। টেবিলের কাঠের দাগ গুনছি।


প্রথমবার নিজেকে প্রশ্ন করলাম।


আমি এতক্ষণ যা বললাম, যা লিখলাম, যা মনে রেখেছি, তার কতটা সত্যি?


ডাক্তার কি সত্যি? এই চেম্বার? এই খাতা?


হয়তো এই গল্পটাও না। হয়তো আমি এখনো ৩০৫ নম্বর কক্ষে।


------------------------------সমাপ্ত----------------------------

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1086 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21934। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4206
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৯: ৩০৫ নম্বর কক্ষ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, ২০২৬ মা&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৮: যেদিন বুঝলাম, নিশি নেই   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৭: পাশের ফ্ল্যাটের মানুষটা    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৬: যে কথাগুলো শুধু ছেলেটা শুনত   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৪: সংবাদ পাঠকের ইশারা   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    465 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    23 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...