নীরব মানুষটার শেষ সীমা
পর্ব–১০ : দোষটা কোথায় ছিল?
একটি ধারাবাহিক গল্প
লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
১০ জুলাই, ২০২৬
“অভিক খারাপ মানুষ ছিল না। নিশিও ছিল না। তবু সংসারটা টিকল না।”
ডিভোর্সের কয়েক মাস পর একদিন রাকিবের সাথে দেখা হলো অভিকের।
চা খেতে খেতে রাকিব হঠাৎ বলল,
“একটা কথা জিজ্ঞেস করি? তোদের সংসারটা ভাঙল কেন?”
অভিক অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর মৃদু হেসে বলল,
“যদি একজনের দোষ হতো, তাহলে উত্তরটা সহজ ছিল।”
রাকিব কিছু বলল না।
অভিক নিজেই বলতে শুরু করল।
“নিশি খারাপ মানুষ ছিল না। সে শুধু সবকিছু নিজের মতো ঠিক করতে চাইত।”
একটু থেমে আবার বলল,
“আর আমি... আমি কথা বলা ছেড়ে দিয়েছিলাম।”
চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উঠছিল।
দুজনেই চুপ।
অভিক আবার বলল,
“একটা সময় আমরা সমস্যার সমাধান খুঁজতাম। পরে শুধু কে ঠিক, সেটা প্রমাণ করতে ব্যস্ত হয়ে গেলাম।”
সেখান থেকেই সব বদলে গেল।
একজন সিদ্ধান্ত নিত।
আরেকজন মেনে নিত।
কিন্তু কোনো সম্পর্ক শুধু মানিয়ে নেওয়ার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না।
সেখানে কথা লাগে।
শোনা লাগে।
সম্মান লাগে।
নিশি হয়তো ভাবত, সংসার চালাতে একজনের হাতেই সব সিদ্ধান্ত থাকা উচিত।
অভিক ভাবত, সময়ের সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে।
দুজনেই ভুল ছিল।
কারণ না বলা কষ্ট যেমন জমতে থাকে...
তেমনি না শোনা কথাগুলোও একদিন দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।
সংসারটা একদিনে ভাঙেনি।
ভেঙেছে ছোট ছোট মুহূর্তে।
যেদিন অভিক নিজের কথা বলা বন্ধ করেছিল...
যেদিন নিশি তার কথা শোনা বন্ধ করেছিল...
যেদিন “আমরা” শব্দটার জায়গায় “আমি” বড় হয়ে গিয়েছিল...
সেদিন থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছিল।
রাকিব উঠে যাওয়ার আগে শুধু একটা কথাই বলল,
“তোদের গল্পটা শুনে একটা জিনিস বুঝলাম।
সম্পর্ক ভাঙে বড় ভুলে না।
অনেক সময় ছোট ছোট অবহেলা, না বলা কথা আর হারিয়ে যাওয়া সম্মান মিলেই একদিন সব শেষ করে দেয়।”
অভিক কোনো উত্তর দিল না।
শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল।
হয়তো তারও মনে হচ্ছিল...
ভালোবাসা থাকলেই সংসার টিকে যায় না।
ভালোবাসার পাশে প্রতিদিন একটু সম্মান, একটু বোঝাপড়া আর একটু করে একে অপরের কথা শোনার ইচ্ছাও লাগে।
সমাপ্ত
পাঠকের কাছে প্রশ্ন:
আপনার মতে, একটা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি কী প্রয়োজন—ভালোবাসা, সম্মান, নাকি বোঝাপড়া? নাকি এই তিনটার কোনোটাই একা যথেষ্ট না? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।