ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি
তৃতীয় পর্ব: না-বলা কথা
মোহম্মদ জাহিদ হোসেন
২৩ জুলাই, ২০২৬
সন্ধ্যা নেমে এলে ঘরে এক অদ্ভুত শূন্যতা নেমে আসে। মেঘ ও মিশি নিজেদের ঘরে গিয়ে ছবি আঁকায় ব্যস্ত হলো। বারান্দায় গিয়ে একা দাঁড়ায় নিশি। শহরের ঝকঝকে আলোর দিকে তাকিয়ে তার চোখের কোণ ভিজে ওঠে।
অভিক আস্তে আস্তে এসে তার পাশে দাঁড়াল। নিশির কাঁধে হাত রাখতে গিয়েও থমকে গেল সে। বিকেলের সেই কবিতার লাইন কটি তার মাথায় বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে—'ভোর থেকে ছিটকে পড়া বিষণ্ন বিকেল...'
"নিশি," অভিক হালকা কণ্ঠে ডাকল।
নিশি মুখ না ফিরিয়েই বলল, "কিছু বলবে?"
"আমরা কখন এতটা বদলে গেলাম বলতো? এই সংসার, এই দায়িত্বের ভিড়ে আমরা কি আমাদের নিজেদের হারিয়ে ফেলেছি?"
নিশি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। "বদলে যাওয়ার সময় কোথায় অভিক? চলতে চলতে যখন শরীর আর মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন নূপুরের শব্দও থমে যায়। তুমি তো শুধু ক্লান্তিটাই দেখলে, তার পেছনের তৃষ্ণাটা তো কখনো বোঝার চেষ্টা করলে না।"
নিশির চোখের জল বিকেলের অন্ধকারের মতো চুপচাপ ঝরে পড়ল। অভিক উপলব্ধি করল, সংসারের বোঝা বইতে গিয়ে সে নিশির অস্তিত্বকেই অবহেলা করে এসেছে। ভালোবাসা ফুরিয়ে যায়নি, কিন্তু চর্চার অভাবে তাতে ধুলো জমেছে।
চলবে........চতুর্থ পর্ব: আলোর স্পর্শ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।