নীরব মানুষটার শেষ সীমা
পর্ব–৮ : শেষ চিঠি
একটি ধারাবাহিক গল্প
লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
১০ জুলাই, ২০২৬
“বাড়ি ছাড়ার আগে অভিক শুধু একটা চিঠি রেখে গিয়েছিল।”
সেদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই নিশির প্রথমে কিছুই অস্বাভাবিক লাগেনি।
বিছানার একপাশ খালি।
ভাবল, অভিক হয়তো একটু আগে অফিসে বেরিয়ে গেছে।
ডাইনিং টেবিলে এসে দেখল, কাপের নিচে ভাঁজ করা একটা কাগজ।
উপরে শুধু লেখা—
“নিশির জন্য।”
হাতটা কেমন যেন কেঁপে উঠল।
কাগজটা খুলতেই প্রথম লাইনটা চোখে পড়ল।
“নিশি, এই চিঠিটা কোনো অভিযোগের না। শুধু কিছু কথা, যা মুখে বলতে পারিনি।”
নিশি ধীরে ধীরে পড়তে লাগল।
“তুমি হয়তো কোনো দিন ইচ্ছে করে আমাকে কষ্ট দিতে চাওনি। আমিও কোনো দিন তোমাকে খারাপ মানুষ ভাবিনি।”
“শুধু একটা সময় মনে হতে শুরু করেছিল, এই সংসারে আমার থাকার চেয়ে না-থাকাটা হয়তো বেশি সহজ হবে।”
নিশির চোখ ঝাপসা হয়ে এল।
পরের লাইনটা পড়তে গিয়ে হাত থেমে গেল।
“তুমি সবসময় বলেছ, আমার ভালোর জন্যই বলছ। হয়তো সত্যিই তাই বিশ্বাস করতে। কিন্তু একটা সময় আমি নিজের ভালো লাগা, নিজের মত, নিজের ইচ্ছা—সবকিছু ভুলে গিয়েছিলাম।”
“সবচেয়ে কষ্টের কথা জানো? আমি কখন চুপ হয়ে গেছি, সেটা তুমি খেয়াল করোনি। আর আমি কখন ভেতর থেকে হারিয়ে গেছি, সেটাও না।”
চিঠির শেষ অংশে লেখা ছিল—
“আমি রাগ করে যাচ্ছি না। কাউকে শাস্তি দিতেও না। শুধু আর নিজের ভেতরের মানুষটাকে হারাতে চাই না।”
“ভালো থেকো। সত্যি বলছি, ভালো থেকো।”
আর কিছু লেখা ছিল না।
নিশি অনেকক্ষণ চিঠিটা হাতে নিয়ে বসে রইল।
হঠাৎ মনে পড়ল...
কত দিন সে অভিককে জিজ্ঞেস করেনি,
“তুমি কেমন আছ?”
কত দিন তার কথা শেষ হওয়ার আগেই নিজের কথা বলেছে।
কত দিন ধরে ধরে নিয়েছে—
এই মানুষটা কোথাও যাবে না।
সেদিন প্রথমবার সে বুঝল...
কিছু মানুষ চলে যাওয়ার আগে অনেকবার নীরবে সাহায্য চায়।
আমরা শুধু শুনতে পাই না।
আর যখন সত্যিই চলে যায়...
তখন অনেক কথা বলার থাকলেও, সামনে আর কেউ থাকে না।
চলবে...
পাঠকের কাছে প্রশ্ন:
আপনি হলে সেই শেষ চিঠিতে কী লিখতেন? একটা লাইন হলেও কমেন্টে লিখে জানান।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।