কোরআনে আকাশ থেকে পানি নামানোর ক্ষেত্রে সব জায়গায় একই ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়নি। কখনো أَنزَلَ (আনযালা), আবার কখনো صَبَّ (সাব্বা) ব্যবহৃত হয়েছে। উভয়ই পানির সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও তাদের অর্থ ও প্রয়োগ এক নয়।
আল্লাহ বলেন:
«وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا
"আর আমি আকাশ থেকে পবিত্র পানি নাযিল করেছি।"
(সূরা আল-ফুরকান ২৫:৪৮)»
এখানে أَنزَلْنَا ব্যবহৃত হয়েছে। এটি আকাশ থেকে পানি অবতীর্ণ হওয়ার সাধারণ ঘটনাকে নির্দেশ করে।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«ثُمَّ شَقَقْنَا الْأَرْضَ شَقًّا فَأَنبَتْنَا فِيهَا... وَصَبَبْنَا الْمَاءَ صَبًّا
"তারপর আমি পৃথিবীকে বিদীর্ণ করেছি। ... আর আমি প্রচুর পরিমাণে পানি ঢেলে দিয়েছি।"
(সূরা আবাসা ৮০:২৫-২৭)»
এখানে صَبَبْنَا ব্যবহৃত হয়েছে। صبّ ধাতুর মূল অর্থ হলো ঢেলে দেওয়া, প্রবলভাবে প্রবাহিত করা বা অঝোর ধারায় বর্ষণ করা।
অতএব, أَنزَلَ আকাশ থেকে পানির অবতরণকে সাধারণভাবে প্রকাশ করে, আর صَبَّ সেই পানির প্রাচুর্য, তীব্রতা ও ধারাবাহিক প্রবাহকে চিত্রিত করে। একই বিষয়ের জন্য দুটি ভিন্ন ক্রিয়া ব্যবহার করে কোরআন শুধু ঘটনা নয়, ঘটনার ধরণ ও তীব্রতাও ভাষার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে।
এটি কোরআনের ভাষাশৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এখানে শব্দ কেবল তথ্য দেয় না, বরং দৃশ্যও নির্মাণ করে। একটি ক্রিয়া পাঠকের সামনে সাধারণ বৃষ্টির ধারণা সৃষ্টি করে, আর অন্যটি প্রবল বর্ষণের জীবন্ত চিত্র আঁকে। এই সূক্ষ্ম শব্দ নির্বাচনই কোরআনের ভাষার গভীরতা ও নান্দনিকতার অন্যতম প্রমাণ।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।