কোরআনে আকাশ থেকে নেমে আসা পানির ক্ষেত্রে কখনো ماء (মা'), আবার কখনো غيث (গাইস) ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও উভয়ই বৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু তাদের অর্থগত ক্ষেত্র এক নয়।
আল্লাহ বলেন:
«وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَيْنَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا
"আমি আকাশ থেকে পানি নাযিল করেছি, তারপর তা দিয়ে মৃত পৃথিবীকে জীবিত করেছি।"
(সূরা আন-নাহল ১৬:৬৫)»
এখানে ماء ব্যবহার করা হয়েছে। ماء শব্দের অর্থ সাধারণভাবে পানি। এটি বৃষ্টি, নদী, সমুদ্র বা অন্য যেকোনো পানির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে। তাই এটি একটি সাধারণ ও ব্যাপক শব্দ।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«وَهُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ الْغَيْثَ مِن بَعْدِ مَا قَنَطُوا وَيَنشُرُ رَحْمَتَهُ
"তিনিই সেই সত্তা, যিনি মানুষের নিরাশ হওয়ার পর রহমতের বৃষ্টি (গাইস) বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন।"
(সূরা আশ-শূরা ৪২:২৮)»
এখানে غيث ব্যবহার করা হয়েছে। غيث শুধু বৃষ্টি নয়; বরং এমন বৃষ্টি, যা দুর্দশা দূর করে, জীবন ফিরিয়ে আনে এবং রহমতের প্রতীক। শব্দটির মূল অর্থের মধ্যেই সাহায্য ও মুক্তির ধারণা রয়েছে।
অর্থাৎ, ماء হলো পানির সাধারণ নাম, আর غيث হলো বিশেষ ধরনের উপকারী ও রহমতস্বরূপ বৃষ্টি। তাই কোরআন যখন কেবল পানি নাযিল হওয়ার কথা বলে, তখন ماء ব্যবহার করে। আর যখন মানুষের জন্য আশীর্বাদ, স্বস্তি ও মুক্তি নিয়ে আসা বৃষ্টির কথা বলে, তখন غيث ব্যবহার করে।
এই সূক্ষ্ম শব্দ নির্বাচন দেখায় যে, কোরআনে আপাতদৃষ্টিতে সমার্থক শব্দও একই অর্থে ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিটি শব্দ তার নিজস্ব অর্থ, আবহ ও প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী নির্বাচিত হয়েছে। এটিই কোরআনের ভাষাশৈলীর অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।