ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি
দ্বিতীয় পর্ব: স্মৃতির উঠোন
মোহম্মদ জাহিদ হোসেন
২৩ জুলাই, ২০২৬
হাতে নূপুরটি নিয়ে অভিক ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়াল। মেঘ ও মিশি পড়ার টেবিলে বসে আছে। মেঘ তার ছোট বোনকে পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে। অভিককে দেখে মিশি বায়না ধরে উঠল, "বাবা, আজ বিকেলে কি আমরা পার্কে ঘুরতে যাব না?"
অভিক হাসার চেষ্টা করে বলল, "তোমার মায়ের শরীরটা আজ বোধহয় ভালো নেই রে মা।"
রান্নাঘর থেকে নিশি নিঃশব্দে বের হয়ে এল। তার চেহারায় স্পষ্ট পরিশ্রান্তির ছাপ। শুকনো ঠোঁট আর মলিন দুটি চোখ। একসময় এই চোখ দুটোতেই অভিক খুঁজে পেত তার যাবতীয় আনন্দ। নিশি শুকনো গলায় বলল, "মেয়েদের নিয়ে ঘুরে এসো। আমার কিছু কাজ বাকি আছে।"
নিশির গলার স্বরে কোনো অভিযোগ ছিল না, কিন্তু সেই শীতল নীরবতা অভিকের বুকে তীরের মতো বিঁধল। সে বুঝতে পারে, অভাব ভালোবাসার ছিল না; অভাব ছিল একটু সময়ের, একটুখানি আলতো অনুভূতির। প্রতিদিনের একঘেয়ে রুটিনে নিশির ভেতরের চঞ্চল মেয়েটি কখন যেন হারিয়ে গেছে।
মেঘ আড়চোখে বাবা-মায়ের দিকে তাকাল। বারো বছরের ছোট মন হলেও সে বোঝে, বাবা আর মায়ের মাঝখানের হাওয়ায় একটা ভারী পাথর জমে আছে। সে মিশির হাত ধরে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "আজ থাক বাবা, আমরা কাল যাব।"
চলবে........তৃতীয় পর্ব: না-বলা কথা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।