নীরব মানুষটার শেষ সীমা
পর্ব–৯ : নিয়ন্ত্রণে সুখ নেই
একটি ধারাবাহিক গল্প
লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
১০ জুলাই, ২০২৬
“সবকিছু নিজের মতো করতে গিয়ে নিশি একদিন দেখল, পাশে আর কেউ নেই।”
অভিক চলে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক দিন নিশির রাগই বেশি ছিল।
তার মনে হচ্ছিল, এত বছর সংসার করার পর এভাবে কেউ চলে যায়?
একদিন ঘর গোছাতে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল সে।
আলমারির একটা তাক প্রায় ফাঁকা।
যেখানে অভিকের শার্টগুলো থাকত, সেখানে এখন শুধু দু-একটা খালি হ্যাঙ্গার দুলছে।
অদ্ভুত একটা নীরবতা।
আগে এই নীরবতাটা টের পেত না।
কারণ তখন ঘরে একজন মানুষ ছিল।
যে খুব বেশি কথা বলত না, কিন্তু ছিল।
সেদিন প্রথমবার নিশির মনে পড়ল...
শেষ কবে সে অভিককে জিজ্ঞেস করেছিল,
“তোমার কী ইচ্ছে?”
মনে পড়ল না।
সংসারের বড় সিদ্ধান্তগুলো সে-ই নিত।
কোথায় যাবে...
কাদের সাথে মিশবে...
কী কিনবে...
কোন খরচটা দরকার...
সবকিছুর শেষ কথাটা যেন তারই ছিল।
তখন তার মনে হতো, এটাই ঠিক।
একজনকে তো সিদ্ধান্ত নিতেই হয়।
কিন্তু আজ মনে হচ্ছে...
সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে।
সংসারটা করেনি।
সেদিন সন্ধ্যায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিচের রাস্তায় তাকিয়ে ছিল নিশি।
হঠাৎ দেখল, এক দম্পতি হাঁটতে হাঁটতে হাসছে।
ছেলেটা কিছু একটা বলল।
মেয়েটা হেসে মাথা নাড়ল।
ছোট্ট একটা দৃশ্য।
কিন্তু নিশির বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেমন যেন খালি হয়ে গেল।
অনেক দিন হলো, তাদের দুজনের মধ্যে এমন করে কথা হয়নি।
সে বুঝতেই পারেনি, অভিকের ধৈর্য শেষ হয়ে যাচ্ছিল।
কারণ অভিক কোনো দিন চিৎকার করেনি।
কেউ যখন নীরবে সহ্য করে, তখন তাকে শক্ত মানুষ মনে হয়।
আসলে অনেক সময় সে শুধু শেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছানোর অপেক্ষায় থাকে।
নিশি এখন সেটা বুঝতে পারছে।
কিন্তু বুঝতে পারা আর ফিরে পাওয়া—দুটো এক জিনিস না।
কিছু দরজা একবার বন্ধ হয়ে গেলে, যতই কড়া নাড়ো...
ভেতর থেকে আর কোনো উত্তর আসে না।
চলবে...
পাঠকের কাছে প্রশ্ন:
আপনার মতে, একটা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত কি একজনের নেওয়া উচিত, নাকি দুজনের? নিজের মতামত কমেন্টে জানান।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।