নামহীন আকাশ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ২৫ জুন, ২০২৬
মেয়েটার জানালার গ্রিলে একটা নীল কাপ পড়ে থাকে।
কানাটা একটু ভাঙা।
অনেকদিন হলো তাতে কেউ চা ঢালে না।
তবু প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় সে কাপটার পাশে এসে দাঁড়ায়।
নিচের গলিটা দেখে। সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ি যায়। স্কুলফেরত বাচ্চারা যায়।
মানুষ যায়, রিকশা যায়, হর্নের শব্দ যায়।
কেউ থামে না।
ঘরের ভেতর তার মায়ের রেখে যাওয়া পুরোনো আয়নাটা আছে।
কাঠের ফ্রেম, পেছনে ‘বোম্বে স্টোর’ লেখা স্টিকার।
আয়নার একপাশে সরু একটা ফাটল। চুলের মতো।
সেই ফাটলের ভেতরেই যেন তার মুখটা মাঝে মাঝে অন্যরকম লাগে।
অচেনা। ক্লান্ত।
কয়েকটা কথা সে শুনেছে।
“মেয়েমানুষের এত জেদ ভালো না।”
“চুপ থাকলেই সংসার টেকে।”
ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেও পারেনি।
কিছু শব্দ দরজার বাইরে যায় না।
ঘরের ভেতরেই ঘুরে বেড়ায়, মশার মতো কামড়ায়।
অনেক রাত সে বাতি নিভিয়ে বসে থেকেছে।
ফোনটা উল্টো করে রেখেছে টেবিলের ওপর।
স্ক্রিন নিচের দিকে।
যেন কোনো মেসেজ, কোনো নাম, কোনো গলার স্বর
আর তাকে ছুঁতে না পারে।
সেদিন সন্ধ্যায় বৃষ্টি নামছিল।
টিনের চালে ঝমঝম।
সে অনেকক্ষণ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
ফাটলের ওপাশের মেয়েটাকে দেখছিল।
তারপর নীল কাপটা জানালার গ্রিল থেকে সরিয়ে রাখল।
জানালাটা খুলে দিল।
বাইরে তখন আকাশে কোনো রঙ ছিল না।
শুধু ধূসর মেঘ। আর ভেজা বাতাস।
তবু অনেকদিন পর তার মনে হলো,
শ্বাস নেওয়ার জন্য এতটুকু ফাঁকাই যথেষ্ট।
নামহীন আকাশের নিচে দাঁড়ানোর জন্য এতটুকু সাহসই যথেষ্ট।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।