Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ রায়ের পরও কান্না থামেনি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
10 বার প্রদর্শিত
করেছেন (22,601 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শেষ রায়ের পরও কান্না থামেনিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

ছোট গল্প

১৩ জুলাই, ২০২৬


অভিক আর নিশির সংসারটা শুরু হয়েছিল খুব সাধারণভাবে। আকাশছোঁয়া কোনো স্বপ্ন ছিল না তাদের। দুটো মানুষ একসাথে থাকবে, সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেবে, এটুকুই ছিল চাওয়া।


কয়েক বছর পর সেই সংসারে এলো দুই মেয়ে। বড় মেঘ, ছোট মিশি। ওদের ছোট ছোট হাসি, কান্না আর আবদারে ঘরটা ভরে উঠল। অভিক চাকরি করত, নিশি সংসার সামলাত। মাসের শেষে টানাটানি লেগেই থাকত, তবু সংসারটা চলছিল। অনেকদিন শুধু ডাল-ভাত খেয়েও তারা ভাবত, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।


মেঘ পড়াশোনায় ভালো ছিল। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর কলেজের শেষ দিনে বন্ধুদের সাথে হাতে মেহেদি পরেছিল। সেই রাঙা হাতের দিকে তাকিয়ে কত স্বপ্ন দেখেছিল মেয়েটা। তখনও বোঝেনি, জীবনের রং মেহেদির মতো এত সহজে গাঢ় হয় না।


ঠিক সেই সময় অভিক হাসপাতালের বিছানায়। ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। বুকের সেলাই তখনও শুকায়নি। একটু হাঁটলেই হাঁপিয়ে উঠত। তবু মেয়ের সামনে কষ্টটা কখনো দেখাত না। শুধু বলত, "তোরা ভালো থাকলেই আমি ভালো আছি।"


কিছুদিন পর মেঘের বিয়ে হলো। মেয়েকে বিদায় দেওয়ার সময় নিশি কান্নায় ভেঙে পড়ছিল। অভিক জামাইয়ের হাত ধরে শুধু একটা কথাই বলেছিল, "আমার মেয়েটাকে কষ্ট দিও না।"


সেদিন কথাটা খুব সহজ মনে হয়েছিল। পরে বোঝা গেল, সব কথা সবাই রাখে না।


বিয়ের প্রথম কয়েক মাস মোটামুটি ভালোই কেটেছিল। তারপর ধীরে ধীরে সব পাল্টে গেল। স্বামীর নেশা, রাগ, অপমান, অকারণ সন্দেহে প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙে যাচ্ছিল মেঘ। অনেক রাত কেঁদে কাটিয়েছে। অনেকবার বাবার বাড়িতে ফোন করতে গিয়েও করেনি। বাবার হার্টের কথা মনে পড়ত।


দুই বছর পর একদিন ডিভোর্সের কাগজ হাতে পেল। খামটা খুলে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে ছিল। কান্নাও আসছিল না।


ওদিকে অভিকের শরীরও ভেঙে পড়ছিল। মেয়ের সংসার ভাঙার কষ্ট, টাকার চিন্তা, নিজের অসুস্থতা, সব মিলিয়ে আবার হার্ট অ্যাটাক হলো। ছোট মেয়ে মিশির বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল, টাকার অভাবে সেটাও থেমে গেল।


এরপর মেঘ সিদ্ধান্ত নিল, আর চুপ করে থাকবে না। সে পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণ আর দেনমোহরের মামলা করল।


মামলা করা যতটা সহজ মনে হয়, চালিয়ে যাওয়া তার চেয়ে অনেক কঠিন। একটা তারিখ, তারপর আরেকটা তারিখ। মেঘ টিউশনি করে যে টাকা পেত, তার বেশিরভাগই চলে যেত মামলার পেছনে। দুই বছরে প্রায় নব্বই হাজার টাকা খরচ হয়ে গেল।


কাবিননামায় দেনমোহর ছিল আট লাখ টাকা। কিন্তু সেখানে গয়নার নামে পাঁচ লাখ সাতষট্টি হাজার টাকা উসুল দেখানো হয়েছিল। অথচ সেই গয়না বিয়ের পর কোনোদিনই সে হাতে পায়নি।


এদিকে কোর্টের রায় মেঘের পক্ষে যায়। কোর্ট মেঘের গয়না না থাকার জবানবন্দি নিয়েও মেঘকে মাত্র ৫,৮৩,০০০ টাকার রায় দেয়।


এর মধ্যে কোর্টের পেশকার দাবি করে তাকে ৩৫,০০০ টাকা দিতে হবে।


তাহলে মেঘের হাতে থাকে ৫,৮৩,০০০ - ৯০,০০০ - ৩৫,০০০ = ৪,৯৩,০০০ টাকা। আর সারাজীবনের কান্না আর অসহ্য যন্ত্রণা।


তাহলে কি মেঘের সারাজীবনের দাম ৪,৯৩,০০০ টাকা? আর চেয়ারে বসে পেশকারের আয় ৩৫,০০০ টাকা?


এমন কত হাজারো মেঘ আদালতে যায় ন্যায় পাবার আশায়। আর সেখানে পেশকার চেয়ারে বসে মাসে কামায় গড়ে যদি রোজ ২৫,০০০ টাকা হয়, তাহলে মাসের কর্মদিবস যদি হয় ২২ দিন, তাহলে পেশকারের মাসিক ইনকাম ৫,৫০,০০০ টাকা।


তাহলে আইন কোথায়? সরকারের রাষ্ট্রযন্ত্র কোথায়? দুদক কোথায়?


বিচার আস্থার জায়গা কিন্তু সেখানেও যদি টাকা দিয়ে কাজ করাতে হয়, তাহলে আস্থার জায়গাটা আর কোথায় থাকলো?


একজন পেশকারের এক মাসের আয় একটি মেয়ের সারাটা জীবনের দাম? এ জবাব কে দেবে? অসুস্থ অভিক, নিশি, সমাজ, নাকি বিবেক?


রায়ের কাগজটা হাতে নিয়েও মেঘলার মনে হলো, সে যেন কিছুই পায়নি। একটা ভাঙা সংসার কি টাকায় মেরামত হয়? দুই বছরের অপমান কি কয়েক লাখ টাকায় মুছে যায়?


অভিক সেদিন বিছানায় শুয়ে ছিল। রায়ের কাগজটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। কিছু বলল না।


নিশি রান্নাঘরে গিয়ে চুপচাপ চোখ মুছল। মিশি বই খুলে বসেছিল, কিন্তু একই লাইন বারবার পড়েও কিছুই মনে রাখতে পারছিল না।


বাড়িটা তখন অদ্ভুত নীরব। কেউ কাঁদছে না, তবু মনে হচ্ছিল পুরো বাড়িটাই কান্নায় ভরে আছে।


রাত হলে অভিক ঘুমাতে পারে না। নিশি নামাজ শেষে চুপচাপ দোয়া করে। মিশি আবার বই নিয়ে বসে, নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করে। আর মেঘ বুঝে যায়, আদালতের রায়ে মামলা শেষ হতে পারে, কিন্তু মানুষের বুকের ভেতরের ক্ষত এত সহজে শেষ হয় না।


কিছু ক্ষত কাগজে লেখা থাকে না। সেগুলো মানুষ বয়ে বেড়ায়, বেঁচে থাকা পর্যন্ত।


বিঃদ্রঃ এটা মেঘলার কেস যে আদালতে বিচার হলো, পেশকার সেই আদালতের। অন্য কোনো পেশকারকে উদ্দেশ্য করে এ লেখাটি নয়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1119 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22601। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4239
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ রায়ের পরও কান্না থামেনি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প ১৩ জুলাই, ২০২৬ অভিক আ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

যে কান্না শোনার কথা ছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০১, ২০২৬ ডাইরির পাতা খুললেই কেমন একটা চুপচাপ ভাব নেমে আসে। একেবারে নিঃশব্দ না—বরং মনে হয়, কথাগুলো বাইরে বের না হয়ে ভেতরেই ঘুরপাক খা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
479 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–১০ : দোষটা কোথায় ছিল?   একটি ধারাবাহিক গল্প   লেখক: ম&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৯ : নিয়ন্ত্রণে সুখ নেই   একটি ধারাবাহিক গল্প   লেখ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৮ : শেষ চিঠি   একটি ধারাবাহিক গল্প   লেখক: মোহাম্মদ জ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1132 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাকিব মুসাব্বির

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...