খাতার ভেতর রাত
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ২৫ জুন, ২০২৬
অনেক দিন হলো খাতাটা খোলা হয়নি।
টেবিলের এক পাশে পড়ে আছে।
মলাটটা একটু উঠে গেছে কোণার দিক থেকে।
ধুলো জমেছে কি না জানি না।
তবে মাঝে মাঝে মনে হয়,
ওই খাতাটাই আমার চেয়ে ভালো জানে
কত কথা শুরু হয়েছিল, শেষ হয়নি।
কলমটা এখনো পাশেই রাখা।
ম্যাটাডোর হাই-স্কুল, নিবটা শুকিয়ে গেছে হয়তো।
যেন কেউ একজন আসবে।
খাতার বাম পাতায় একটা লাইন লিখবে।
তারপর আবার অনেকদিনের জন্য উধাও হয়ে যাবে।
অদ্ভুত, শব্দেরা কিন্তু আসে।
কখনো রাত দুটোয়, ফ্যানের শব্দের সঙ্গে।
কখনো অফিসের মিটিংয়ে, প্রেজেন্টেশনের মাঝখানে হঠাৎ।
একটা বাক্য মাথার ভেতর তৈরি হয়। গুছানো।
ভাবি, এবার লিখব।
খাতা খুলতেই দেখি, যে কথাটা এতক্ষণ ঝকঝক করছিল সে আর নেই।
হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
কিছু নাম আছে, লিখতে গেলেও আঙুল কেঁপে ওঠে।
‘র’ অক্ষরটা লিখে থেমে যেতে হয়।
কিছু স্মৃতি আছে, যাদের কাছে গেলে এখনো নানুবাড়ির পুরোনো ট্রাঙ্কের গন্ধ পাওয়া যায়।
ন্যাপথলিন আর ভেজা কাঠের।
কাল রাতে আবার খাতা খুলেছিলাম।
অনেকক্ষণ বসে ছিলাম।
বাইরে তখন শহর ঘুমাচ্ছিল।
একটা কুকুর ডেকে উঠল শুধু, দূরে।
পাশের মগের চা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।
উপরে সর পড়েছে।
দেয়ালঘড়ির টিক টিক শুনতে পাচ্ছিলাম। স্পষ্ট।
পাতার ওপর কলম ছুঁইয়েও একটা শব্দ লেখা হলো না।
কালির ফোঁটাও না।
শেষে খাতাটা বন্ধ করে রাখলাম।
শুধু প্রথম পাতার দিকে তাকিয়ে মনে হলো,
এখনো কিছু একটা বাকি আছে।
তারিখ লেখা: ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯।
তার নিচে ফাঁকা।
কিন্তু কী,
সেটা কালিতে নামাতে পারলাম না।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।