Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

একটি সিদ্ধান্তের দাম পর্ব–৩ : ভাঙনের শব্দ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,713 পয়েন্ট)   3 ঘন্টা পূর্বে "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

একটি সিদ্ধান্তের দাম  

পর্ব–৩ : ভাঙনের শব্দ  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ধারাবাহিক গল্প


নিশি যে খামটা এগিয়ে দিয়েছিল, অভিক সেটা সেদিন ছুঁলই না।


সারারাত টেবিলের কোণে পড়ে রইল।


ভোরে নিশি দেখল, অভিক জানালার পাশে বসে। চোখ লাল। সারারাত জেগেছে, বোঝা যায়।


“অফিসে যাবে না?”


অভিক আস্তে মাথা নাড়ল। “আজ একটু বাইরে যেতে হবে।”  

“কোথায়?”  

“একটা কাজ আছে।”


এর বেশি না। নিশিও চাপ দিল না।


সে ততদিনে বুঝে গেছে, চাপ দিয়ে সত্যি বের করা যায় না।


দুপুরের দিকে অভিক গেল রুবেলের আস্তানায়। মিরপুর ১০ নম্বরের গলির ভেতর একটা স্যাঁতসেঁতে অফিস। গয়নার খামটা হাতে।


রুবেল খাম খুলে একবার দেখল। ঠোঁটের কোণে হাসি। “এবার লাইনে এসেছ।”


অভিকের গলা শুকনো। “সব ঝামেলা শেষ হয়ে যাবে তো?”  

“আরে না! আর চার-পাঁচটা দিন। তারপর দেখবি, টাকা গুনে শেষ করতে পারবি না।”


অভিক আর কিছু বলল না।


বুকের ভেতরটা খচখচ করছে। তবু নিজেকে বোঝাল, এখন আর ফেরার পথ নেই। পা বাড়িয়ে ফেলেছে।


তিন দিন পার হলো।


রুবেলের ফোন বন্ধ।


অফিসে গিয়ে দেখে দরজায় তালা। শাটার নামানো।


পাশের চায়ের দোকানি কাপ ধুতে ধুতে বলল, “কাল রাতেই মালপত্র ট্রাকে তুলে গেছে।”


অভিক প্রথমে বিশ্বাস করল না। আরও তিন-চারবার ডায়াল করল।


একই কথা। “এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”


হাত থেকে ফোনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।


ফুটপাতে বসে পড়ল সে। রিকশা যাচ্ছে, বাসের হর্ন, স্কুলফেরত বাচ্চাদের চেঁচামেচি—শহরটা চলছে আগের মতোই।


শুধু তার ভেতরটা থেমে গেল কয়েক মিনিটে।


বিকেলে বাড়ি ফিরে দরজা খুলতেই নিশি টের পেল কিছু একটা ঘটেছে।


অভিকের মুখ শুকনো। চোখদুটো ফাঁকা, যেন তাকিয়ে আছে অথচ দেখছে না।


“কী হয়েছে?”


উত্তর নেই।


সোফায় বসে দুই হাতে মুখ ঢাকল অভিক।


অনেকক্ষণ পর গলাটা ভেঙে বেরোল, “আমি শেষ।”


নিশির বুকের ভেতর মোচড় দিল। “মানে?”  

“রুবেল... সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।”


ঘরটা নিঃশব্দ হয়ে গেল। ফ্যানের শব্দটাও হঠাৎ বেশি লাগল।


নিশি কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর খুব আস্তে বলল, “আমার গয়নাগুলো?”


অভিক মাথা নিচু করল।


এই নীরবতাটাই উত্তর। যথেষ্ট।


নিশির মনে হলো, বুকের ভেতর থেকে কেউ একটা অংশ টেনে ছিঁড়ে নিল। গয়নার জন্য নয়। বিশ্বাসটা ভেঙে গেল বলে।


দুই দিন পর থেকে ফোন আসতে শুরু করল।


কেউ টাকা চায়। কেউ আর সময় দেবে না বলে দেয়। একজন তো সরাসরি বলল, “বাসা চিনি।”


প্রথম দিকে অভিক ধরত। পরে ফোন সাইলেন্ট করে রাখল।


কিন্তু ফোন বন্ধ করলেই তো দেনা মুছে যায় না।


এক বিকেলে দরজায় জোরে ধাক্কা।


নিশি খুলতেই তিনজন লোক। শার্ট ইন করা, চোখে রোদচশমা।  

“অভিক ভাই আছেন?”  

“কেন?”  

“টাকা নিতে এসেছি।”


অভিক ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো।


লোকগুলোর একজন ভাঁজ করা স্ট্যাম্পের কাগজ মেলে ধরল। “অনেক সময় দিয়েছি। এবার টাকা লাগবে।”  

“আর একটু সময় দেন।”  

“সময় শেষ।”


ততক্ষণে পাশের ৫বি ফ্ল্যাটের দরজা খুলে গেছে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে গেছে রাবেয়া খালা। করিডোরে দু-একজন উঁকি দিচ্ছে।


অভিকের মাথা নিচু হয়ে এলো। এই লজ্জার জন্য সে তৈরি ছিল না।


লোকগুলো চলে যাওয়ার পর নিশি দরজা বন্ধ করল। ছিটকিনি লাগানোর শব্দটা অস্বাভাবিক জোরে বাজল।


তারপর ধীরে বলল, “একটা কথা জিজ্ঞেস করব?”


অভিক চুপ।  

“প্রথম দিন যদি আমাকে সত্যিটা বলতে... আমি কি তোমার পাশে দাঁড়াতাম না?”


অভিকের চোখ ভিজে উঠল। উত্তরটা সে জানে।


হ্যাঁ, নিশি দাঁড়াত। কিন্তু সেই রাস্তাটা সে নিজেই বন্ধ করেছে।


রাতে অনেক দিন পর অভিক নিজে থেকে কথা বলল। গলাটা ক্ষীণ। “আমি ভেবেছিলাম, একবার লাভ হলে সব মিটিয়ে ফেলব। তোমাকে কিছুই জানতে হবে না।”


নিশি লম্বা শ্বাস ফেলল। জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল, “মানুষ টাকা লুকাতে পারে। ভুলও লুকাতে পারে।”


একটু থেমে যোগ করল, “একটা জিনিস লুকানো যায় না।”  

“কী?”  

“ভুলের ফল।”


ঘরে আবার নীরবতা নামল। ভারী।


বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঝিরঝির। জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ।


অভিক বুঝতে পারছিল, এই বৃষ্টি তার কোনো দেনা ধুয়ে দেবে না। বরং মনে হচ্ছিল, জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলো হয়তো আজ থেকেই শুরু হলো।


(চলবে.........পর্ব–৪ : ভাঙনের শেষ প্রান্তে)

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1075 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21713। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4193
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–৪ : ভাঙনের শেষ প্রান্তে   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–৫ : যে সিদ্ধান্ত জীবন বদলে দিল (সমাপ্তি)   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–২ : মিথ্যার শুরু    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারাবাহিক õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–১ : ভুলের শুরু   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারাবাহিক গলú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাস-বৃষ্টির ওপাশে আলো   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ০৩, জুলাই ২০২৬ পর্ব–৩ : ফোসকা প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...