দুজনেই আছি, শুধু আলাদা জায়গায়
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | ১২ নভেম্বর ২০২৫
অভিক ঘরিতে দেখে রাত তিনটে বাজে
।
অভিকের ঘরের ফ্যানটা ঘুরছে, কিন্তু বাতাস আসছে না।
নিশি চলে যাওয়ার পর থেকে এই ফ্যানটা কেমন একটা যেন শুধু শব্দ করে।
অভিক বিছানায় শুয়ে আছে, হাতে একটা পুরনো ছবি।
অভিক আর নিশির,
২০১৯ সালের কোন এক সময়ের তোলা।
নিশির হাসিটা এখনো ঝকঝকে, অভিকের চোখে এখনো জল।
নিশু বলেছিলে, “আমি আর পারছি না।”
অভিক শুনেছিলো, কিন্তু কিছুই বুঝেনি।
নিশির ব্যাগ গোছানোর শব্দটা এখনো অভিকের কানে লেগে আছে।
ব্যাগপর জিপারের শব্দ, দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ,
তারপর শুধু অভিকের শ্বাস।
পরদিন সকালে অভিক রান্নাঘরে গিয়েছিলো।
নিশির প্রিয় মগটা এখনো আছে—
নীল রঙের, একপাশে ছোট্ট একটা চিপ।
অভিক চা বানালো, কিন্তু দুজনের জন্য নয়।
এক কাপ।
চায়ে চুমুক দিতে দিতে অভিকের মনে হলো—
নিশি এখনো আছো, এই চায়ের তিতকুটে স্বাদে।
বিকেলে বৃষ্টি নেমেছিল।
অভিক কোন ছাতা নিইনি।
ভিজতে ভিজতে অভিক হাঁটছিলো রাজপথে ,
হঠাৎ একটা ছোট্ট ছেলে দৌড়ে এল,
“দাদা, তোমার জুতো ভিজে গেছে!”
অভিক হেসে বললাম, “ভিজুক।”
সেই হাসিটা তোমার দেওয়া।
রাতে আবার অভিক বিছানায়, ফোনটা হাতে।
নিশির নাম্বারটা ডিলিট করেনি।
কল করিনি, শুধু দেখেছে।
নিশির লাস্ট সিন—৩ দিন আগে।
অভিক জানপ, নিশি ঘুমিয়ে পড়েছ।
অভিক জেগে আছে।
অভিক হারেনি।
নিশি জেতোনি।
তারা শুধু দুজনেই আছে—
নিশি তার শহরে,
অভিক তার ঘরে।
তাদের মাঝে শুধু একটা ফোনের স্ক্রিন,
যেটা কখনো বেজে ওঠে না।
কাল সকালে উঠে অভিক আবার চা বানাবে।
এক কাপ।
কিন্তু মগটা হবে নিশিরটা।
নিশি জানবে না।
শুধু অভিক জানবে।
এটাই বোধহয় ভালোবাসা।
#গদ্যকবিতা #বাংলা_কবিতা #দুজনেই_আছি
#রাত_তিনটে #এক_কাপ_চা #মানুষের_লেখা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।