বৃষ্টির ভেতর ফিরে আসা
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা । ১৮ মে, ২০২৬
সেদিন বিকেলের আকাশটা খুব ধীরে অন্ধকার হচ্ছিল।
নীল রঙটা যেন কোথাও গিয়ে ভারী হয়ে দাঁড়িয়েছিল— ঠিক মানুষের দীর্ঘদিন না-বলা ক্লান্তির মতো।
তারপর বৃষ্টি নামল।
হঠাৎ না, আবার পুরো ধীরেও না।
মনে হচ্ছিল, আকাশ নিজের ভেতরে জমে থাকা শব্দগুলো একে একে নামিয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর ওপর।
আমি জানালার পাশে বসেছিলাম।
টিনের কার্নিশে জলের শব্দ পড়ছিল ভাঙা ছন্দে।
কখনও দ্রুত, কখনও থেমে থেমে।
দূরের রাস্তায় ভেজা বাতির আলো কাঁপছিল।
একটা রিকশা ধীরে চলে গেল।
চাকার নিচে জমে থাকা পানির শব্দ উঠল, তারপর আবার নীরবতা।
চুলোর ওপর রাখা পুরোনো সাদা পাত্রে চা ফুটছিল।
পাতাগুলো ধীরে ধীরে ছেড়ে দিচ্ছিল তাদের রঙ।
গন্ধ।
অদৃশ্য উষ্ণতা।
মানুষও হয়তো এমনই—
বহুদিন শক্ত হয়ে থাকার পর একসময় নিঃশব্দে নিজের ভেতরটা খুলে দেয়।
ভেজা মাটির গন্ধ বাতাসে মিশে ঘরের ভেতর ঢুকছিল।
মনে হচ্ছিল, পৃথিবীটা কিছুক্ষণের জন্য ধীর হয়ে গেছে।
কেউ তাড়া দিচ্ছে না।
কেউ কিছু প্রমাণ করতে বলছে না।
শুধু বৃষ্টি পড়ছে,
আর একটি সন্ধ্যা ধীরে ধীরে মানুষের ভেতরের শব্দ কমিয়ে দিচ্ছে।
চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে হঠাৎ মনে হলো,
সুখ বোধহয় খুব বড় কিছু নয়।
সম্ভবত সুখ এমনই—
একটি উষ্ণ কাপ,
জানালার পাশে বসে থাকা,
আর ভেতরের ক্লান্তি একটু একটু করে গলে যাওয়া।
সেই মুহূর্তে আমি বৃষ্টিকে শুনছিলাম না শুধু,
নিজেকেও শুনছিলাম।
অনেকদিন পর।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।