রাতের চায়ের পাশে নীরবতা
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
রাত এগোচ্ছে। আমি রান্নাঘরে চা বানাচ্ছি।
জানালা দিয়ে কেতকির গন্ধ ভেসে আসে,
কিংবা চায়ের পাতার গন্ধ—ঠিক বুঝতে পারি না।
চায়ে চিনি বেশি পড়ে গেল।
আবার নতুন করে বানাতে ইচ্ছা করে না।
ফ্রিজের ঠান্ডা বাতাসে হাত ঢুকে যায়,
ঠোঁটের কোণে চা পড়ে লেগে যায়।
এই এক মিনিটের নিঃশব্দতায় মনে হয়,
কেউ ছিল এখানে,
কেউ কথা বলেছিল,
কেউ শুনেছিল।
গতকাল ফোনে তোর গলা শুনলাম দু'মিনিট,
কেমন যেন কাঁপছিল।
আমি তখন হাসলাম,
কিন্তু এখন শুধু সেই থেমে থাকা শব্দ মনে আসে,
মধুর হেসে ওঠা ভেসে আসে অন্ধকারে।
চায়ের কাপ হাতে নিয়েই হঠাৎ মনে পড়ে,
ফোনে যেই কথাগুলো বলেছিলি,
কেমন যেন ভেসে আসে হঠাৎ।
কান্নার ডাক নেই, শুধু চায়ের গরম ও বাষ্প
বুকের ভিতরে ছুঁয়ে যায় এক অচেনা বিষণ্নতা।
চোখে তোমার কোনো ছবি নেই।
চিঠিও নেই।
গোলাপ? সেসব তো আগেই নেই।
বাইরের বাতাস এসে জানালার পর্দা নাড়ায়,
চোখে ঠান্ডা আলো পড়ে,
একমাত্র বন্ধুর মতো চাঁদের হালকা আলোর সঙ্গে।
কিছু চাওয়া নেই—শুধু চায়ের গরম,
শুধু নিঃশব্দ রাতের পাশে থাকা।
আমি এখন শুধু থাকি—
শূন্যতার মধ্যে নিজেকে সাজিয়ে রাখি
ছোট ছোট আলোতে, চায়ের গরমে,
একটি নীরব দোয়া পাঠাই
যে তুমি হয়তো কোথাও হাসছো।
শুনতে পেলে বুঝতে পারবে,
শব্দে নয়, নিঃশব্দ অনুভূতিতে
কতটা কাছাকাছি আছি।
মনে হয়, রাতও এই একচিলতে শান্তির সঙ্গে
আমার এবং তোমার গল্প চুপচাপ বসে থাকে।
#রান্নাঘরেরকবিতা #মধ্যরাতেরচা #জাহিদেরকবিতা #নীরবতা #স্মৃতিরস্পর্শ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।