স্পর্শের আগে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ৫ আগষ্ট, ২০২৬
তোর হাতটা প্রথম যেদিন ধরেছিলাম,
ভাবিনি এত কিছু হবে।
সাধারণ একটা বিকেল ছিল।
রোদ নামছিল ধীরে,
রাস্তার ধুলো উড়ছিল হালকা।
তুই কিছু বলিসনি, আমিও না।
তবু হাতের ভেতর হাত পড়তেই
মনে হলো শরীরের ভেতর কোথাও কাঁপন উঠল।
এটা কি নার্ভাসনেস ছিল,
নাকি অন্য কিছু —
ঠিক বুঝিনি।
তোর আঙুলগুলো খুব শক্ত করে ধরা ছিল না,
আবার পুরো আলগাও না।
মাঝামাঝি।
যেন তুইও বুঝে উঠতে পারছিলি না
কতটা কাছে আসা ঠিক।
আমরা হাঁটছিলাম।
চারপাশে মানুষ ছিল, শব্দ ছিল,
কিন্তু আমার কানে যেন কিছুই ঢুকছিল না।
শুধু হাতের উষ্ণতাটা টের পাচ্ছিলাম।
কথা ছিল অনেক।
বলতে পারিনি।
মনে হচ্ছিল, বললেই ভেঙে যাবে কিছু।
না বলা কথাগুলোই
বুকের ভেতর জমে রইল।
সেদিনের আকাশটা মনে আছে।
নীল থেকে ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছিল।
আমি ভাবছিলাম,
এভাবেই যদি একটু থাকা যেত —কিছু না বদলে।
তোর হাত ছেড়ে দেওয়ার পরেও
তালুতে উষ্ণতা ছিল।
বাড়ি ফিরে অনেকক্ষণ হাত ধুইনি।
কারণ অদ্ভুতভাবে মনে হচ্ছিল
ওই স্পর্শটাই আসল।
আজ এতদিন পরে
মাঝে মাঝে হাতের দিকে তাকাই।
ভাবি —আবার যদি এমন করে হাত ধরতে পারতাম,
কোনো ভয় ছাড়া।
হয়তো এত বড় কিছু না।
শুধু হাত ধরা।
তবু সেদিন বুঝেছিলাম —কিছু মুহূর্ত
শরীরের ভেতর দাগ কেটে রাখে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।