নীরব রিজিক
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
লেখার ধরন: গদ্যকবিতা
তারিখ: ৪ নভেম্বর ২০২৫
রাত দুটো।
A file without content cannot be uploaded.
ফ
ঘর অন্ধকার, শুধু ফ্রিজের আলোটা জ্বলছে—
যেন কেউ ভুলে গেছে বন্ধ করতে।
ছোট ছেলে রাকিব ঘুমের ঘোরে কাঁদছে,
“বাবা… পেটে ব্যথা…”
আমি চুপ করে তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিই।
কী বলব?
আজ সকাল থেকে দুটো শুকনো রুটি, আর মায়ের চায়ের কাপে এক চিমটি চিনি।
মা ফিসফিস করে—“নামাজ পড়াবে?”
আমি মাথা নাড়ি।
কীভাবে জাগাই?
পা দুটো কাঁপছে, চোখে ঘুম নেই—ক্ষুধা আছে।
তবু উঠলাম।
জায়নামাজ পেতে দিলাম।
তিনজন—আমি, মা, আর রাকিব।
ছোট মেয়ে সুমি ঘুমিয়ে আছে, তার নিঃশ্বাস শুনে মনে হয়,
যেন সে স্বপ্নে খাচ্ছে।
নামাজ শুরু হলো।
রাকিবের কণ্ঠ কাঁপছে—“আল্লাহু আকবার…”
আমার গলা শুকিয়ে গেছে।
সিজদায় মাথা ঠেকাতে গিয়ে
মনে পড়ল—
গত ঈদে বাবার কবরে গিয়েছিলাম,
তিনি বলতেন, “রিজিকের চিন্তা করিস না, ছেলে।”
আজ বাবা নেই।
নামাজ শেষ।
ঘর নিস্তব্ধ।
হঠাৎ দরজায় টোকা।
কে? এত রাতে?
দরজা খুলতেই—
চেনা মুখ।
পাড়ার হাসান চাচা।
কাঁধে একটা থলে।
ভেতরে—চাল, ডাল, তেল, আর দুটো কেক।
“আমার দোকানে এক লোক এসেছিল।
বড় নেতা। অর্ডার দিয়ে গেল, পরে ফোন করে বলল—‘দরকার নেই’।
আমি ভাবলাম… তোমাদের বাড়িতে পৌঁছে দিই।”
রাকিবের চোখ বড় বড়।
সুমি জেগে উঠল, হাত বাড়াল কেকের দিকে।
মা কাঁদছে, কিন্তু হাসছে।
আমি চাচার পায়ে হাত রাখলাম।
তিনি বললেন—“আমি তো জানি না তোমাদের অবস্থা।
কিন্তু মনে হলো… কেউ একজন পাঠিয়েছে।”
আমরা খেলাম।
চাল রান্না হলো।
রাতের খাবারে প্রথমবার হাসি এল।
রাকিব বলল—“বাবা, আল্লাহ কেক পছন্দ করেন?”
আমি হাসলাম।
“হ্যাঁ, আর তিনি তোমার নামাজও শুনেছেন।”
#রিজিক #নামাজেরপর #রাতেরখাবার #আল্লাহরদয়া #enolej_idea
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।