যা তুই রেখে গিয়েছিলি
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬
যা পাওয়ার কথা ছিল,
তা কোনোদিন হিসেব করে চাইনি।
হিসেব মানেই আমার কাছে
শ্বাস ছোট হয়ে আসা।
জীবন নিজেই অনেক প্রশ্ন রাখে—
আমি শুধু অপেক্ষা করছিলাম
একটা অপ্রস্তুত নীরবতার।
তুই এলি।
কিছু ঠিকঠাক হলো না,
আবার সব ভেঙেও পড়ল না।
ঘরের কোণে জমে থাকা ক্লান্তিটুকু
হঠাৎ বসে পড়ল—
যেন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর
একটা চেয়ার চোখে পড়ে যায়।
কে বসতে বলেছিল, মনে নেই।
কিছু পাওনা শব্দে ধরা পড়ে না।
চোখের ভেতরে থাকে না,
আবার বাইরেও না।
শ্বাস ছাড়ার আগের একটুখানি সময়,
দুপুর আর বিকেলের মাঝখানে—
যখন ঘড়ির কাঁটা
নিজের কাজ একটু ঢিলেঢালা করে নেয়।
সেই ফাঁকগুলোতেই
সবচেয়ে বেশি কিছু ঘটে।
নিলাম কি নিলাম না—
এই প্রশ্ন তুই কোনোদিন তুলিসনি।
তুই জানতি, কিছু জিনিস উপচে পড়লে
আর কারও নামে থাকে না।
ধরে রাখলে নিজের কাছেই অচেনা লাগে।
উৎসব মানে সবসময় শব্দ না।
কখনো একটা নীরব বিকেল,
কখনো ভাঙা চায়ের কাপ—
দু’কাপ নয়, এক কাপই যথেষ্ট ছিল।
জানালার কাচে জমে থাকা ধুলো
পরিষ্কার করা হয়নি, ইচ্ছে করে নয়—
সময় হয়নি, বা প্রয়োজন মনে হয়নি।
সেটাও তখন অস্বাভাবিক লাগেনি।
তুই এমনই ছিলি—
যাকে নিয়ে পরে বলা যায়,
সবকিছু ভালো ছিল না,
আবার খারাপ বলতেও মন সায় দেয় না।
কষ্ট দেয়নি,
আবার ভুলিয়েও দেয়নি।
এই মাঝামাঝি জায়গাটাই
সবচেয়ে অস্বস্তিকর।
কখনো ভাবি,
ভুলে গেলে কি সহজ হতো?
না কি এই প্রশ্নটাই
ভুল জায়গায় করা।
কারণ কিছু মানুষ
মুছে যাওয়ার জন্য আসে না—
তারা শুধু রেখে যায়
কয়েকটা ব্যবহারযোগ্য নীরবতা।
ভাগ্যিস তুই এসেছিলি।
নইলে এই ছোট ছোট বেঁচে থাকার অজুহাতগুলো
আমি কোথায় রাখতাম—
কোন তাকে, কোন বাক্যে,
না কি কোনো নামহীন বিকেলে
চুপ করে ফেলে রাখতাম?
কিছু উপস্থিতি নাম,
প্রতিশ্রুতি বা দাবি নিয়ে আসে না।
তারা শুধু মনে থাকার মতো
একটা নিঃশব্দ অনুভব রেখে যায়—
যেটা বোঝা যায়,
কিন্তু বোঝাতে গেলে ভাষা হালকা হয়ে আসে।
#গদ্যকবিতা #নীরবঘনিষ্ঠতা #অপূর্ণসম্পর্ক #মাঝামাঝি #স্মৃতিরভাষা #বাংলাসাহিত্য
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।