নিস্তব্ধতার ভেতরের শব্দ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। মে ০১, ২০২৬
আমার নিজের লেখার ডাইরির পাতায়—আজ ২০২৬ সালের মে মাসের ১ তারিখ।
আমার বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি, ঠান্ডা বাতাসের আদর খাচ্ছে সন্ধ্যামালতী ফুল। পাল্টে যাওয়া ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় কয়েকটি ক্ষুধার্ত কুকুরের নিশ্চুপ চলাচল, আর প্রতিটি ঘরের ভেতরের মৃদু আলো-আঁধারির আতঙ্ক।
অন্যদিকে ঢাকার বুকে মহামারি আর ক্ষুধায় কাতর মানুষগুলোর দিনযাপন। ঠিক তখন মহামারি আর ক্ষুধা রোধে অমার্জনীয় ব্যর্থতায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে নিয়মকানুন বদলাতে ব্যস্ত কিছু বুদ্ধিজীবী।
মাত্র এক মাস ধরে দুর্যোগের ঝড় আমার ঘরের বাইরে ঘাপটি মেরে বসে আছে।
আমার ঘরের পেছনের অন্ধকার গলির ক্ষুধার্ত বাচ্চাদের কান্না শুনতে পাচ্ছি—হ্যাঁ, স্পষ্ট কান্না শুনতে পাচ্ছি।
অন্য কেউ কি এই কান্না শুনছে না?
না কি শুনতে চাইছে না কেউ?
ক্ষুধার্ত আমি এই কান্না শুনেও কিছুই করতে পারছি না। তাই আমার কানের কুহরে তুলে দিয়েছি দেয়াল, আর ঘরের ভেতরে বসে প্রতীকী কবিতা লিখে যাচ্ছি।
নিস্তব্ধতার এই সময়ে আকাশভরা চাঁদের গভীর আধারে জেগে উঠেছে বৈশাখী রাত্রি। বৃষ্টি-ভেজা রাত্রির উদার প্রান্তরে কামিনী ফুলের সঙ্গে আকাশের আলাপচারিতা দেখে হিংসা জাগে মনে।
ভাবতে থাকি—এই মহামারির দিনে, ক্ষুধার্ত শরীরে রোগের প্রকোপ নেই এখনও; তবুও নিজেদের স্বার্থের গণ্ডি না পেরোবার এক কঠিন অসুখে আক্রান্ত আজ পুরো সমাজ।
নির্দ্বিধায় এখনো বেঁচে আছি। তবুও মনে হয়, এ বেঁচে থাকা সহজ নয়।
এখনো আরও অনেকগুলো ভয়ংকর সময়ের কথা লিখতে হবে ডাইরির প্রতিটি পাতায়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।