অনুভূতির পরবর্তী অবস্থা
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
মাঝে মাঝে মনে পড়ে— না, ঠিক মনে পড়ে না,
শুধু জানি—কেউ ছিল।
যেমন থাকে কোনো ঘর,
যেখানে আর ফেরা হয় না,
তবু মানচিত্রে তার জায়গা বদলায় না।
স্মৃতিগুলো গল্প হয়ে ওঠেনি,
তারা বর্ষার মতো শব্দ করে নামে না।
ওরা আসে ধুলো হয়ে—
হালকা, নির্দিষ্ট, প্রশ্নহীন।
একসময় ভাবতাম, তোমাকে ছাড়া বাঁচা অসম্ভব।
অসম্ভব কথাগুলোই সবচেয়ে সহজে মিথ্যে প্রমাণিত হয়।
ভুল করতে করতে,
সব ভেঙে যেতে দেখেও
মানুষ দিব্যি বেঁচে থাকে—এই তথ্যটাই সবচেয়ে নির্মম।
বুকের ভেতর যে নড়াচড়া,
তা আর আবেগ নয়,
একটা যান্ত্রিক সাড়া— যেন শরীর নিজেকে টিকিয়ে রাখার নূন্যতম চেষ্টা করছে।
এখন আর ডুবে যাই না,
কোনো কষ্ট গভীর হয় না।
আঘাত আসে,
কিন্তু থামে গায়ে লেগেই।
আমি ভাঙি না—আমি কেবল ক্ষয়ে যাই।
জোছনা এখন আলোমাত্র,
চাঁদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক নেই।
রোদ সহ্য হয় না— সে বেশি জিজ্ঞেস করে,
বেশি দেখিয়ে দেয়।
আমি হিসেব করে চলি,
কারণ অনুভূতির অপচয় করার মতো
ভেতরে আর কিছু নেই।
পাওয়া না-পাওয়া দুটোই সমান নিরর্থক।
অভিযোগ করার শক্তিটুকুও একসময় বিলাসিতা হয়ে যায়।
সবচেয়ে অদ্ভুত জানো?
তোমার মুখ মনে করার চেষ্টা করি,
কিন্তু মুখটা আসে না।
কোনো ছবি নেই,
কোনো চিঠি নেই,
কোনো প্রমাণ নেই—যেন তুমি কখনোই ছিলে না।
শুধু আমি জানি—একসময় আমার ভেতরে
একজন মানুষ ছিল,
যার চলে যাওয়ার পর আমি আজও আছি—
কিন্তু আর আমি নই।
#বাংলাকবিতা #ডার্কএক্সিস্টেনশিয়াল
#হাইলিটারারি #ভালোবাসারপর #স্মৃতি #BanglaPoetry #অস্তিত্ব #নীরবতা
#মনন #কবিতারপাঠ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।