ভালোবাসার নামে যে আগুন
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | ফেব্রুয়ারি ০২,২০২৬
তুমি বলেছিলে—ভালোবাসাই সব,
আমি কি বাসিনি, বলো, যথেষ্ট ভালো?
তবু বিনা মেঘে মাথার উপর হঠাৎ যে বজ্র নেমে এলো—
তার শব্দে ভেঙে গেল বিশ্বাসের ছাদ,
ঝরে পড়ল যত্নে সাজানো নীরবতা।
যে অগ্নি তুমি দিলে,
সে তো উনুনের আগুন ছিল না—
সে আগুন পুড়িয়ে দিল পর্ণকুটির দেহ,
জ্বালিয়ে দিল সহনশীলতার খড়কুটো,
আর চিৎকারে চিৎকারে নিভৃত আঁধারকে বানিয়ে দিল অসহ্য এক আলো,
যার ভেতর কিছুই লুকানো থাকেনি।
তাকে তুমি আজও প্রণয় বলে ডাকো?
আজও কি ফুল রাখো তার পায়ে,
যে পা পিষে গেছে আমার অপেক্ষার বুক?
কোন গানে তার নিদ্রা বুনেছ, বলো—
সে কি আমার নিঃশ্বাস চুরি করে
রচিত কোনো সুর?
কোন আগুন দিয়ে তার গায়ে হাত রাখো?
সে কি উষ্ণতার, নাকি পোড়ানোর?
সে কি আশ্রয়ের, নাকি ধ্বংসের?
ভালোবাসা কি তবে এই—
যেখানে দহনকে বলা হয় আবেগ,
আর ক্ষতকে বলা হয় গভীরতা?
যেখানে সহ্য করাই নাকি প্রমাণ,
আর চুপ থাকা মানেই সম্মতি?
আমি তো ভেবেছিলাম ভালোবাসা মানে পাশে বসে থাকা, হাত ধরার আগে কাঁপুনি বোঝা,
চুপের ভেতরেও নিরাপত্তা রাখা।
কিন্তু তুমি শিখিয়েছ ভিন্ন ব্যাকরণ—
ভালোবাসা মানে সহ্য, ভালোবাসা মানে নীরব দগ্ধ হওয়া।
আজ আমি প্রশ্ন করি,
ভালোবাসা কি সত্যিই সব?
নাকি “সব” বলেই তাকে দিয়ে দিই
পুড়িয়ে দেওয়ার অধিকার?
যদি ভালোবাসা হয়, তবে সে আগুন নয়—
সে আলো, যাতে কেউ অন্ধ হয় না।
যাতে কেউ পোড়ে না,
বরং ধীরে ধীরে নিজের মতো হয়ে ওঠে।
আর যদি সেই আগুনই ভালোবাসা হয়,
তবে আমি স্বীকার করি—আমি ভালোবাসিনি।
আমি শুধু মানুষ হয়ে থাকতে চেয়েছিলাম।
#বাংলা_কবিতা #ভালোবাসা_নাকি_আগুন
#সমকালীন_কবিতা #মানবিক_অনুভূতি
#প্রশ্নের_ভালোবাসা #LiteraryBangla
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।