নারীর শক্তি
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
পবিত্র আগুনে জন্ম নিয়েছে নারী,
শরীরে ছড়িয়ে দেয় তাপ, ছুঁয়ে যায় হিমশীতল হৃদয়।
প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় বিদ্বজনের দিকে—
“আপনারা কি আমাকে মানুষ ভাবতে পারেন না,
নাকি চান আমাকে ক্রীতদাসী রূপে দেখার?”
শৃঙ্খল ধরে রেখেছেন ছলচাতুরীতে,
অধিকার গড়ে তুলেছেন গৃহপালিত গাভীরূপে।
আদি থেকে অনন্ত পর্যন্ত শোষণ করেছেন,
কিন্তু জন্ম দিয়েছেন এই নারীর জঠরে,
যে নারী অহংকার।
নারী স্বাধীন হলে বিব্রত বোধ হয় আপনাদের,
পোশাকের আড়ালে লুকানো শক্তি উন্মোচিত হলে,
প্রতিটি দানবিক অসুর চুপ হয়ে যায়।
ছিঁড়ে খুঁড়ে ফেলে আবর্জনায় পুরানো সীমাবদ্ধতা।
আমরাও আর নারীর নামে অবলা থাকব না,
পুরুষের কাছে অস্ত্র ভিক্ষা করব না।
নিজেদের তৈরি করব নিজেদের গুণে,
এক এক করে ধারালো অস্ত্র বানাব,
যা অন্ধকারে আলোর মতো ঝলমল করবে।
অসহায় মুহূর্তে মেলে ধরব বিদ্যুত গতিতে,
সূর্যের তপস্যা দিয়ে প্রাপ্ত শক্তি ঝরবে,
চাঁদের আলোতেও জ্বালাব অসুরের অন্ধকার।
নারী আর অবলা নয়—
সে সম্পূর্ণ, নিজের তেজে পূর্ণ,
স্বাধীন, অসীম।
আমাদের রক্তে আছে বিদ্রোহের ধারা,
হৃদয়ে জাগে বীজ, যা সব সীমা অতিক্রম করে।
কোনো বাধা আমাদের থামাতে পারে না,
প্রতিটি চোখে লুকানো সন্দেহ জ্বালিয়ে দেবে আগুনে।
পুরানো নিয়মানুযায়ী নারীর ভূমিকা নেই,
আমরা গড়ে তুলব নিজের সীমানা,
প্রতিটি পদক্ষেপই ঘোষণা হবে—
আমরা আছি, আমরা শক্তিশালী,
আমরা নিজস্ব আলো।
এই আগুনে পুড়ে যাবে পুরানো নীতির ছায়া,
এই শক্তি শিখাবে—
শৃঙ্খল কখনোই নারীকে আটকাতে পারে না।
নারীর শক্তি ছড়িয়ে দেবে আলো,
জ্বালাবে অন্ধকারের সব কোণ,
পৃথিবী জানবে—নারী আর অবলা নয়,
সে নিজেই ব্রহ্মাণ্ডের তেজ।
#কবিতা #নারীর_শক্তি #স্বাধীনতা
#বিদ্রোহ #সমকালীন_কবিতা #বাংলা_সাহিত্য
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।