যে ঘড়িটা থেমে আছে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ২৪ জুন, ২০২৬
তুমি চলে যাওয়ার পর ঘরের অনেক কিছুই বদলায়নি।
দেয়ালের রঙ একই আছে। হালকা সবুজ,
যেখানে যেখানে হাত লেগেছে সেখানে একটু কালচে।
বারান্দার টবের মানিপ্ল্যান্টে বিকেলের রোদ এখনো এসে পড়ে।
পাতাগুলো হলুদ হয়ে গেছে, তবু পড়ে।
শুধু ড্রয়ারের ভেতর রাখা তোমার দেওয়া ছোট ঘড়িটা আর চলে না।
ক্যাসিও, সিলভার চেন।
প্রথম কয়েকদিন ভেবেছিলাম, ব্যাটারি শেষ হয়ে গেছে।
একদিন নিউ মার্কেট থেকে নতুন ব্যাটারিও কিনে এনেছিলাম। এনার্জাইজার।
প্যাকেটটা এখনো খোলা হয়নি।
ড্রয়ারের কোণায় পড়ে আছে।
ঘড়িটার কাঁটা আটকে আছে বিকেল পাঁচটা বারো মিনিটে।
অদ্ভুত লাগে, আমাদের শেষ কথাটাও শেষ হয়েছিল ওই সময়ের কাছাকাছি।
ফোনটা কেটে যাওয়ার আগে তুমি বলেছিলে,
“পরে কথা হবে।”
পরে আর হয়নি।
গত শীতে চিঠিটা বের করেছিলাম।
নীল কালিতে প্রথম লাইনে লিখেছিলাম,
“তোমাকে কিছু বলার ছিল...”
এরপর আর কিছু লেখা হয়নি।
কলম থেমে গিয়েছিল।
কাগজটা এখনো ওখানেই পড়ে আছে। ঘড়িটার পাশে। দুটোই ধুলোর আস্তর নিয়ে।
তোমার কথা এখন আর প্রতিদিন মনে পড়ে না।
সত্যি বলতে, মাসে একবারও না হয়তো।
কিন্তু কোনো কোনো সন্ধ্যায়,
যখন লোডশেডিং হয় আর মোমবাতি জ্বালাতে হয়,
হঠাৎ ঘড়িটার দিকে তাকালে মনে হয়,
কিছু সময় আসলে চলে যায় না।
শুধু একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে।
যেখান থেকে কেউ একজন ফিরে আসার কথা ছিল।
অথচ সে জানে না, রাস্তাটা ভুলে গেছে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।